Ajker Patrika

রমজানে একাকী

নিঃসঙ্গতায় কষ্ট না পেয়ে সময় কাজে লাগান

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩: ৩০
নিঃসঙ্গতায় কষ্ট না পেয়ে সময় কাজে লাগান
প্রিয়জনদের সঙ্গে ইফতার বা জামাতে নামাজের যে আবেগীয় সংযোগ, তা একা একা খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

রমজান এলেই অনেকে নিজের একা থাকা আরও কঠিন বলে ভাবতে শুরু করেন। কারণ, এই মাসে পরিবারের সঙ্গে ইফতার ও সেহরি করার মধ্যে অন্য রকম আত্মিক শান্তি থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন অন্য কাউকে পরিবারের সঙ্গে এই শান্তি ভাগাভাগি করতে দেখা যায়, তখন একা থাকা অনেকে বিষাদে ভোগেন। অন্য সময়গুলোতে একাকিত্ব তাঁদের এত বেশি কষ্ট না দিলেও এই মাসজুড়ে একটা অপূর্ণতা তাঁদের থেকেই যায়; বিশেষ করে আরব বা আমাদের মতো সংস্কৃতিতে, যেখানে রমজান মানেই পারিবারিক বন্ধন, সেখানে একা থাকাটা মানসিকভাবে বছরের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময় হয়ে দাঁড়ায়।

কেন এই খারাপ লাগা

এই সময়ের সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো রমজানের আনন্দ মনে করিয়ে দেয় এমন মুহূর্তগুলোর অনুপস্থিতি। প্রিয়জনদের সঙ্গে ইফতার বা জামাতে নামাজের যে আবেগীয় সংযোগ, তা একা একা খুঁজে পাওয়া কঠিন। ফলে ওই সময়ে ছোট কোনো কিছুও বড় কষ্ট দেয়। টেলিভিশনে যখন পারিবারিক পুনর্মিলনের বিজ্ঞাপন দেখানো হয়, তখন প্রবাসে বা একা থাকা মুসলিমদের একাকিত্ব আরও প্রকট হয়ে ওঠে। এখানের অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ হলো রুটিন ঠিক রাখা। রান্না করা বা খাওয়ার মতো কেউ নেই বলে অনেক সময় সেহরি বা ইফতারের সেই আমেজটাই হারিয়ে যায়।

জোরালো হোক স্রষ্টার সঙ্গে সম্পর্ক

তবে এই মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। অনেকের কাছে এই নিঃসঙ্গতাই হয়ে ওঠে স্রষ্টার সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার অনন্য সুযোগ। একা থাকলে আত্মসমীক্ষা ও ইবাদতে বেশি মনোযোগ দেওয়া যায়। এটি স্রষ্টার সঙ্গে সংযোগ আরও ব্যক্তিগত এবং শান্তিপূর্ণ করে তোলে। ঘরের একাকিত্ব কাটাতে বাইরে বেরিয়ে পড়তে পারেন। জেদ্দার মতো শহরগুলোতে মানুষ রাস্তায় অন্য মানুষজনের সঙ্গে ইফতার করে বা সাজসজ্জা দেখে। আমাদের দেশে সেই সুযোগ না থাকলেও অনেক সময় দেখা যায়, রেস্তোরাঁগুলোতে খেতে বসলে আশপাশের আমেজ মন ভালো করে দেয়।

একাকী ইফতারের নিঃসঙ্গতা কাটাতে অনেকে প্রযুক্তির সাহায্য নিতে পারেন। ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের মুখ দেখা বা তাদের কণ্ঠ শোনা সেই দূরত্বের ব্যবধান অনেকটা কমিয়ে দেয়। আবার রান্নার ঝামেলা এড়াতে অনেকে ফুড ডেলিভারি অ্যাপের ওপর নির্ভর করতে পারেন। ব্যস্ত সময়ের মধ্যেও সঠিকভাবে ইফতার কিংবা সেহরি করতে পারাটাও বড় আশীর্বাদ।

একা সময়কে কাজে লাগান

যাঁরা একা থাকার এই কঠিন সময়কে সহজ করতে চান, তাঁদের জন্য কিছু কার্যকর উপায় হতে পারে—

  • একা থাকলে মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়া বা ইফতারে অংশ নেওয়া একাকিত্ব ভোলাতে সাহায্য করে। পাশের মানুষটিকে একটি ‘সালাম’ দিলেই নতুন বন্ধুত্বের পথ খুলে যেতে পারে।
  • সরাসরি যাওয়া সম্ভব না হলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ইসলামিক লেকচার বা লাইভ স্ট্রিম দেখা যেতে পারে।
  • কোনো চ্যারিটি বা মসজিদে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করলে সমমনা মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয় এবং মন ভালো থাকে।
  • জুম বা হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলের মাধ্যমে দূরবর্তী বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে ইফতারের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া যায়।
  • রমজানের ব্যানার বা পোস্টার দিয়ে ঘর সাজালে মানসিকভাবে একটি উৎসবের আমেজ পাওয়া যায়।
  • এই সময় কাজে লাগিয়ে আরবি ভাষা বা ক্যালিগ্রাফির মতো নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন করা যেতে পারে।
  • সবকিছুর পর নিজের বর্তমান পরিস্থিতিকে মেনে নেওয়া জরুরি।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বেশ কিছু হাদিস আমাদের এই একাকিত্বের লড়াইয়ে সান্ত্বনা দিতে পারে। মনে রাখবেন, যখন আপনি একা রোজা রাখছেন, আপনার সেই ত্যাগ সরাসরি স্রষ্টার জন্যই নিবেদিত। নিঃসঙ্গতা কঠিন হতে পারে, কিন্তু সমুদ্রেই যেমন মুক্তা পাওয়া যায়, তেমনি জীবনের এই কঠিন সময়েই আপনি খুঁজে পেতে পারেন ইমানের প্রকৃত নূর। এই রমজান আপনার জন্য হোক আত্ম-আবিষ্কার এবং স্রষ্টার আরও নিকটবর্তী হওয়ার এক বিশেষ যাত্রা।

সূত্র: আরব নিউজ, দ্য মুসলিম ভাইভ

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত