Ajker Patrika

স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস

প্রসাধনী বাছাই ও ব্যবহারে আরও সচেতন হোন

শোভন সাহা 
প্রসাধনী বাছাই ও ব্যবহারে আরও সচেতন হোন
প্রতীকী ছবি মডেল: ফারিয়া। ছবি: মেহেদী হাসান

অক্টোবর মাসকে বিশ্বব্যাপী স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করা হয়। এই মাসজুড়ে স্তন ক্যানসারের লক্ষণ, প্রতিরোধ, প্রাথমিক অবস্থায় রোগনির্ণয় এবং চিকিৎসার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বজুড়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বছর বিশ্ব স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাসের মূল প্রতিপাদ্য, ‘প্রতিটি গল্পই অনন্য, প্রতিটি পথচলাই গুরুত্বপূর্ণ।’ পুরো বিশ্বে যত ধরনের সৌন্দর্যপণ্য রয়েছে, সেগুলোর প্রধান ভোক্তা মূলত নারী। কিন্তু এসব পণ্য কেনা ও ব্যবহারে সচেতন ভূমিকা না থাকার ফলে তাঁরাই স্তন ক্যানসারসহ বিভিন্ন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। হতে পারে কারও ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত রং ফরসাকারী ক্রিম বা বার্ধক্যরোধী ক্রিম, কোনো সুগন্ধি বা লিপস্টিকের মতো ঠোঁট রাঙানোর প্রসাধনী। ক্যানসার থেকে সুরক্ষিত থাকতে এসব প্রসাধনী বাছাই ও ব্যবহারে প্রয়োজন আরও বেশি সচেতনতা।

যেসব প্রসাধনী স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়

আমাদের রোজকার ব্যবহৃত প্রসাধনী বা সৌন্দর্যপণ্য়ে এমন কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা হরমোনের স্বাভাবিক কার্যকলাপে বাধা তৈরি করে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হয়। আজকাল ফেসবুকে বিভিন্ন পেজে মানহীন ও সস্তা স্কিন লাইটনিং ক্রিম বা রং ফরসাকারী ক্রিম বিক্রি হচ্ছে। এগুলোয় হাইড্রোকুইনান ও পারদ ব্যবহার করা হয়; যা ত্বকের কোষের ক্ষতি করে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া হেয়ার ডাই বা চুল সোজা করার ক্রিমে ফরমালডিহাইড এবং প্ল্যাসেন্টা এক্সট্র্যাক্টের মতো উপাদান থাকে, যা শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। অনেকে দাম কম বলে মানহীন ও নিম্নমানের লিপস্টিক কিনে ফেলেন। এগুলোয় সিসা বা ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া যায়। এ ছাড়া নেইলপলিশে ব্যবহৃত থ্যালেটস নামক রাসায়নিকও ক্যানসারের কারণ হয়ে উঠতে পারে, যা আমরা অনেকে জানি না। এখানেই শেষ নয়, আন্ডারআর্মে ব্যবহারের ডিওডোরেন্টে অ্যালুমিনিয়াম সল্ট থাকে। ধারণা করা হয়, এটি ঘামগ্রন্থি বন্ধ করে টক্সিন জমায় এবং স্তন টিস্যুর ক্ষতি করতে পারে।

সুরক্ষিত থাকা যায় সচেতনতায়

যেকোনো জায়গা থেকে প্রসাধনী কেনার আগে যাচাই করতে হবে। পণ্য়ের গায়ে উপাদানের তালিকায় প্যারাবেন ফ্রি বা থ্য়ালেটস ফ্রি লেখা রয়েছে কি না, যাচাই করে নিন। অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত পণ্য বাদ দিন। কোনো পণ্য়ে শুধু ফ্র্যাগরেন্স বা পারফিউম লেখা থাকলে তাতে থ্যালেটস থাকার আশঙ্কা বেশি। যেকোনো প্রসাধনী কেনার সময় অনুমোদিত ব্র‍্যান্ডের শরণাপন্ন হোন। সস্তা, অনুমোদনহীন রং ফরসাকারী ক্রিম ও পণ্য ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।

ক্যানসারে আক্রান্ত হলে

ইতিমধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন বা থেরাপির কারণে ত্বক ও চুলের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা কয়েকটি বিষয় মেনে চলতে পারেন।

pexels-oleksandra-23349900-(1)

  • ক্যানসার রোগীদের ত্বক ও চুলের যত্নে কোনোভাবেই কড়া রাসায়নিক উপাদানযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করা যাবে না। বদলে প্রাকৃতিক উদ্ভিদভিক্তিক পণ্য ব্যবহার করুন। তবে আমাদের দেশে হারবাল প্রসাধনী বলে যেসব পণ্য বিক্রি করা হয়, সেগুলোর অধিকাংশই রাসায়নিক উপাদান দিয়ে তৈরি। এগুলোয় এমন সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়, যাতে হারবাল বলেই ভুল হয় আমাদের। যেটা আরও বেশি ক্ষতিকর।
  • ক্যানসারে আক্রান্ত হলে প্রসাধনী যত কম ব্যবহার করা যায়, ততই ভালো। প্রসাধনীতে ক্যানসার উৎপাদনকারী উপাদান নেই, সেটাও নিশ্চিত হতে হবে।
  • এমন রোগীর জন্য শ্যাম্পু কেনার সময় সিলিকন ফ্রি, প্যারাবেন ফ্রি, সালফেট ফ্রি—এমন শ্যাম্পু বাছাই করতে হবে। চুলের রং ফেরায় বা চুল ডাই করার যে শ্যাম্পু পাওয়া যায়, সেগুলো ব্যবহার না করা ভালো।
  • ক্যানসারযোদ্ধার ত্বকের জন্য ভিটামিনসমৃদ্ধ পণ্য বাছাই করতে পারেন। তবে কেমিক্যাল পিলিং বা ত্বকের এক্সফোলিয়েশন ঘটায় এএইচএ বা বিএইচএ—এমন পণ্য এড়িয়ে চলতে হবে। ভালো হয় চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ত্বক ও চুলের জন্য প্রসাধনী বেছে নিলে।
pexels-cup-of-couple-8049843

প্রাকৃতিক বিকল্প রয়েছে, ব্যবহার করতে হবে বুঝে

ক্যানসারে আক্রান্তদের ওষুধ সেবন ও থেরাপির কারণে ত্বক অনেক বেশি শুষ্ক হয়ে উঠলে ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করা যেতে পারে। টক দই, মধু, ওট মিল্ক বা ওটস ইত্যাদি দিয়ে প্যাক তৈরি করে ত্বকে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে প্রাকৃতিক উপাদানের মধ্য়ে অ্যালোভেরার রস, লেবুর রস, টমেটোর রস—এমন উপাদান এ সময় ব্যবহার করা যাবে না। এককথায় প্রাকৃতিক উপাদান হলেও যেগুলো ত্বকের জন্য কোমল, সেগুলোই বেছে নিতে হবে। কোনো প্রকার জ্বালাপোড়া বা চুলকানি হয় এমন পণ্য এড়িয়ে যেতে হবে। চুলের ক্ষেত্রে হারবার প্যাক এমনকি মেহেদিও এ সময় ব্যবহার করা ঠিক হবে না। যতটা স্বাভাবিকভাবে পরিচ্ছন্ন ও জটমুক্ত রাখা যায়, ততই ভালো। অনেকে এমন রোগীদের জন্য বেবি শ্যাম্পু ও বেবি সোপ ব্যবহার করেন।

কিন্তু এগুলো প্রাপ্তবয়স্কদের চুল ও ত্বকের জন্য উপযোগী, তা-ও নয়। একটু দাম দিয়ে হলেও আন্তর্জাতিক মানের উদ্ভিদভিত্তিক নিরাপদ পণ্য কিনতে পারলে নিশ্চিন্ত থাকা যেতে পারে।

তবে জেনে রাখা ভালো, অ্যাডভান্সড লেভেলের রোগীদের নির্ধারিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সেবন করা ওষুধ এবং থেরাপির সঙ্গে সমন্বয় করে ত্বক ও চুলের যত্ন নিতে হবে।

পরামর্শ দিয়েছেন: শোভন সাহা, কসমেটোলজিস্ট, স্বত্বাধিকারী, শোভন মেকওভার

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত