সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর বেশির ভাগই জলকেন্দ্রিক। তারই একটি রাতারগুল জলাবন। অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি এর প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখার জন্য উপস্থিত হই সেখানে। প্রথম গন্তব্য সিলেট।
সিলেট শহর থেকে গোয়াইনঘাট থেকে ফতেপুর হয়ে রাতারগুল জলাবনের নৌঘাটে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল ঘণ্টাখানেক। নৌঘাটের রাস্তাটা বেশ সরু। সিলেট থেকে জলাবনের দূরত্ব আনুমানিক ৩০ কিলোমিটার।
রাতারগুল সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। সরকারি তথ্যমতে, জলাবনটির আয়তন প্রায় ৫০৪ একর। ১৯৭৩ সালে বন বিভাগের অধীনে সংরক্ষিত করা হয় একে। বর্ষাকালে বনের অধিকাংশ জায়গা পানিতে ডুবে যায়। বর্ষায় রাতারগুলের সৌন্দর্য বেড়ে যায় বহুগুণ।
সিলেটের রাতারগুল জলাবন যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা জলছবি। বর্ষাকালে পানিতে ডুবে থাকা গাছপালা, স্বচ্ছ পানির ওপর নৌকার চলাচল এবং চারপাশের সবুজ প্রকৃতি এক অপূর্ব দৃশ্যের সৃষ্টি করে। রাতারগুলের মতো জলাবনে গাছের ডালপালা পানির ওপর ছায়া ফেলে, আর পানিতে সেই সবুজের প্রতিবিম্ব দেখা যায়। চলতি পথে দুই দিকে চোখে পড়ে জলের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা জলসহিষ্ণু রাতাগাছ (পাটি), বেত, কদম, হিজল, পিঠালি, অর্জুন।
সকালে পাখির কিচিরমিচির, পানির মৃদু ঢেউ এবং বাতাসে পাতার দোল মানুষের মনকে প্রশান্ত করে। কখনো সূর্যের আলো গাছের ফাঁক দিয়ে পানির ওপর পড়ে ঝিলমিল করে ওঠে। নৌকায় করে জলাবনের ভেতর দিয়ে চলার অনুভূতি একেবারেই অন্য রকম। মাঝির বইঠার ছন্দ, নৌকা চলার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ শোনা, নৌকার গলুইয়ে বসে পানির দিকে তাকিয়ে থাকা, এসব মুহূর্তই তৈরি করে ভিন্ন ধরনের ভ্রমণস্মৃতি। তবে রাতারগুল শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল।
নৌকার মাঝি আকবর হোসেন এক ধরনের গাছ দেখিয়ে বলেন, এটি রাতা বা পাটিগাছ। এই রাতাগাছের নাম থেকেই এলাকার নাম রাতারগুল। ২০১৪ সালে জলাবনের ভেতরে ৫০ ফুট উঁচু পাঁচতলাবিশিষ্ট পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়। ২০১৫ সালে বর্ষা মৌসুমে টাওয়ারটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় কর্তৃপক্ষ। কাঠামো নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায় ৬ বছর পর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে পর্যটকদের ওঠা নিষিদ্ধ করা হয়।

জলাবনের ভেতরের ভাসমান দোকানদার ফিরোজ মিয়া জানান, রাতারগুল জলাবনে সাধারণত জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত নৌকা চলাচলের উপযোগী থাকে। নভেম্বরের পর পানি কমতে শুরু করে এবং বনের ভেতরে নৌকা চলাচল সীমিত বা বন্ধ হয়ে যায়।
ফেরার সময় নৌকা ধীরে ধীরে ঘাটের দিকে এগিয়ে চলেছে। আর আমরা ক্রমে পিছিয়ে যাওয়া গাছ আর জলরাশির দিকে তাকিয়ে আছি। মনে হচ্ছিল, প্রকৃতির এই সৌন্দর্য চোখের সামনে নয়, বরং মনের ভেতরে রেখে যাচ্ছি। শহরের ব্যস্ত জীবনে ফিরে যেতে হবে, তবু রাতারগুল জলাবনের জলসহিষ্ণু রাতা, বেত, কদম, হিজল, পিঠালি, অর্জুনগাছের ছায়া আর বইঠার মৃদু শব্দ অনেক দিন মনে থেকে যাবে। হয়তো এ কারণেই কিছু ভ্রমণ শেষ হয়, কিন্তু তার গল্প শেষ হয় না।
বাস, প্রাইভেট গাড়ি, ট্রেন বা বিমানে সিলেটে যেতে হবে। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা মাইক্রোবাসে গোয়াইনঘাট হয়ে রাতারগুল নৌঘাটে যেতে হবে। নৌঘাট থেকে নির্দিষ্ট ভাড়া নৌকা নিয়ে জলাবনের মূল অংশ রাঙ্গাঁকুড়ি এলাকা ঘুরে দেখা যায়।

পৃথিবীতে ভ্রমণপিয়াসিদের আকাঙ্ক্ষিত গন্তব্য অ্যান্টার্কটিকা। এর হিমশীতল সৌন্দর্য দেখার ইচ্ছা ছিল। বরফ, নীরবতা আর অসীম এক আদিম প্রান্তরের এই চির হিম মহাদেশকে বাংলাদেশ থেকে স্পর্শ করা প্রায় অলৌকিকই মনে হতো।
১৩ মিনিট আগে
বিবিসি কালচার প্রকাশ করেছে বিশ্বের অন্যতম ৮টি রঙিন স্থাপত্যের নাম। ভ্রমণ তালিকায় রেখে দিতে পারেন এগুলো। শ্রী রঙ্গনাথস্বামী মন্দির: ভারতের তামিলনাড়ুতে ৬০ হেক্টরের বেশি জায়গাজুড়ে অবস্থিত এই মন্দিরে রয়েছে ২১টি কারুকার্যময় গোপুরম বা প্রবেশদ্বার।
৩ ঘণ্টা আগে
রাত ১০টা পেরিয়ে গেছে। রেস্তোরাঁয় তখনো ভিড় বাড়ছে, টেবিলে সাজানো হচ্ছে খাবার। বাংলাদেশে এই সময় অনেকের রাতের খাবার শেষ হয়ে যায়। অথচ বিশ্বের কিছু দেশে এটাই ডিনারের ব্যস্ত সময়। কোথাও রাত ৯টায় শুরু হয় খাবার, কোথাও আবার ১০টা বা তারও পরে। প্রশ্ন জাগতেই পারে, এত রাতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হলো কীভাবে?
১৫ ঘণ্টা আগে
ল্যাপটপ বন্ধ করেছেন, রাতের খাবার শেষ। হিসাব অনুযায়ী সেই দিনের কাজ শেষ। কিন্তু কাঁধে এখনো কাজের চাপ, হাত বারবার চলে যাচ্ছে মোবাইল ফোনের দিকে আর মাথার ভেতর ঘুরছে অফিসের অসমাপ্ত কথোপকথন বা আগামীকালের কাজের তালিকা। ফলে অফিস শেষ হয়েও মনটা অফিসেই পড়ে আছে। এই দ্বিধাময় অবস্থা থেকে নিজেকে স্বাভাবিক ছন্দে
১৯ ঘণ্টা আগে