Ajker Patrika

আর্টেমিস-২ নভোচারীদের মেনুতে থাকছে যেসব খাবার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আর্টেমিস-২ নভোচারীদের মেনুতে থাকছে যেসব খাবার
আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। ছবি: নাসা

আর্টেমিস-২ মিশনে ওরিয়ন মহাকাশযানে চড়ে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি জমানো চার নভোচারী আগামী ১০ দিন মহাশূন্যে কী খাবেন, তার বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করেছে নাসা। গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এই মেনুতে প্রাতরাশ, দুপুরের খাবার ও নৈশভোজের জন্য বৈচিত্র্যময় সব খাবারের আয়োজন রাখা হয়েছে।

কী আছে মেনুতে

নাসার তথ্যমতে, নভোচারীদের জন্য রয়েছে কফি, চা ও বিভিন্ন ফ্লেভারের পানীয়। মূল খাবারের তালিকায় আছে ম্যাকারনি অ্যান্ড চিজ, গরুর মাংসের ব্রিসকেট, বিভিন্ন ধরনের সবজি এবং প্রচুর পরিমাণে বাদাম ও ফল। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, পুরো দলের জন্য ঠিক ৫৮টি টরটিলা (একধরনের রুটি) রাখা হয়েছে।

মিষ্টি হিসেবে থাকছে কুকিজ। একটি জরিপে দেখা গেছে, হালকা নাশতা হিসেবে নভোচারীদের কুকিজই সবচেয়ে প্রিয়। এ ছাড়া খাবারের স্বাদ বাড়াতে পাঁচ ধরনের হট সস বা ঝাল সস রাখা হয়েছে ওরিয়ন ক্যাপসুলে।

খাবার সংরক্ষণ ও প্রস্তুতি

ওরিয়ন মহাকাশযানে কোনো রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ নেই, তাই কোনো ‘ফ্রেশ’ বা কাঁচা খাবার রাখা হচ্ছে না। সব খাবারই এমনভাবে তৈরি, যা ঘরের তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় ভালো থাকবে।

মহাকাশযানে সাধারণত প্রত্যেক নভোচারীর জন্য দুই থেকে তিন দিনের খাবার একটি নির্দিষ্ট কনটেইনারে প্যাক করা থাকে। ওরিয়নের বিশেষ পোর্টেবল ওয়াটার ডিসপেনসার ব্যবহার করে শুকনো খাবারগুলো ভিজিয়ে খাওয়ার উপযোগী করা যাবে এবং একটি কমপ্যাক্ট ওয়ার্মারের সাহায্যে খাবার গরম করার সুবিধাও থাকছে।

নাসা জানিয়েছে, নভোচারীদের শারীরিক সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখাই এই মেনুর প্রধান লক্ষ্য। মহাকাশ খাদ্য বিশেষজ্ঞ এবং নভোচারীরা মিলে ক্যালরি, আর্দ্রতা ও পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রেখে এই তালিকা তৈরি করেছেন। নভোচারীরা আগে থেকেই এসব খাবার চেখে দেখেছেন এবং রেটিং দিয়েছেন।

খাবারের সূচিও অত্যন্ত কড়া। প্রত্যেক নভোচারী দিনে মাত্র দুটি ফ্লেভারড পানীয় (কফিসহ) পান করতে পারবেন। এ ছাড়া তাঁদের খাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলতে হবে।

উল্লেখ্য, অ্যাপোলো প্রোগ্রামের দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো চাঁদের কক্ষপথের উদ্দেশে সফলভাবে যাত্রা শুরু করেছে নাসার মানববাহী মিশন ‘আর্টেমিস-২’। গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে ৩২২ ফুট উচ্চতার বিশালাকার ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (এসএলএস) রকেটটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। ওরিয়ন ক্যাপসুলে থাকা চার নভোচারী এখন ১০ দিনের এক ঐতিহাসিক সফরে চাঁদের পথে রয়েছেন।

ক্যাপসুলটি মিশনের ষষ্ঠ দিনে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছাবে। আর্টেমিস-২ সরাসরি চাঁদে অবতরণ করবে না, এটি কেবল ‘ফ্রি-রিটার্ন’ ট্র্যাজেক্টরি অনুসরণ করে চাঁদের পাশ দিয়ে ঘুরে আসবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত