Ajker Patrika

মন খারাপের দিনগুলোয় ত্বকের যত্ন যেভাবে নেবেন

ফিচার ডেস্ক
মন খারাপের দিনগুলোয় ত্বকের যত্ন যেভাবে নেবেন
ছবি: পেক্সেলস

বিষণ্নতায় ভুগলে আশপাশের মানুষ চেহারা দেখেই বুঝতে পারেন। কারণ, শুধু চোখের নিচের কালি নয়; দীর্ঘদিন বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশনে ভুগলে শরীরের ভেতর হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ত্বকে। সহজ কথা, বিষণ্নতা ত্বকের ক্ষতি করে। তাই মন খারাপের দিনগুলোয় যেভাবে ত্বকের যত্ন নিতে হবে, তা জেনে নিন।

বিষণ্নতায় ভুগলে যেসব সমস্যা দেখা দেয়, সেগুলোর মধ্যে আছে—

অসময়ে বলিরেখা ও বয়সের ছাপ পড়ে

বিষণ্নতার কারণে শরীরে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এই হরমোন ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখা কোলাজেন ও ইলাস্টিন প্রোটিন ভেঙে ফেলে। ফলে ত্বক ঝুলে পড়ে এবং চামড়ায় দ্রুত বলিরেখা ও বয়সের ছাপ দেখা দেয়।

ব্রণ ও ফুসকুড়ির উপদ্রব

অতিরিক্ত কর্টিসল হরমোন ত্বকের তেলগ্রন্থিগুলোকে অতিমাত্রায় সক্রিয় করে তোলে। এতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল বা সিবাম নিঃসৃত হয়। এই অতিরিক্ত তেল, ধুলোবালি ও মরা চামড়া মিলে রোমকূপ বন্ধ করে দেয়, যা তীব্র ব্রণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ত্বক শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে যায়

মানসিক অবসাদে ভুগলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়। বিষণ্নতার কারণে শরীরে রক্তসঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে ত্বক প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অক্সিজেন পায় না। এতে ত্বক তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে শুষ্ক, খসখসে ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

ছবি: পেক্সেলস
ছবি: পেক্সেলস

চোখের নিচে কালো দাগ ও ফোলাভাব

বিষণ্নতার অন্যতম বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চোখের চারপাশের রক্তনালিগুলো ফুলে ওঠে। এর ফলে চোখের নিচে কালচে দাগ পড়ে এবং চোখ ফোলা দেখায়।

ত্বক নিরাময়ের ক্ষমতা কমে যায়

ডিপ্রেশনের কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। ফলে ত্বকে কোনো ক্ষত বা ব্রণ হলে তা সহজে শুকাতে চায় না। নতুন কোষ তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যাওয়ায় ত্বকের দাগছোপ দীর্ঘস্থায়ী হয়।

চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ে

যাঁরা আগে থেকে একজিমা, সোরিয়াসিস বা রোজাসিয়ার মতো ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন, বিষণ্নতা তাঁদের এই রোগগুলো বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মানসিক চাপ এই রোগগুলোর মূল উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।

ছবি: পেক্সেলস
ছবি: পেক্সেলস

হরমোন ছাড়াও রয়েছে যেসব কারণ

বিষণ্নতায় অনেকে ত্বকের নিয়মিত যত্ন; যেমন ফেসওয়াশ ব্যবহার, ময়শ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন লাগানো বন্ধ করে দেন। দিনের পর দিন এটা চলতে থাকলে ত্বকের ওপর প্রভাব পড়ে। পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া, পানি কম পান করা এবং অতিরিক্ত ধূমপান বা মানসিক চাপের কারণে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেলে ত্বক আরও নষ্ট হয়ে যেতে শুরু করে।

ত্বকের যত্ন কমাতে পারে বিষণ্নতা

ভাবছেন, যেখানে বিষণ্নতার কারণে বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না, সেখানে রূপচর্চা করার কথা বলা হচ্ছে! শুনতে অদ্ভুত লাগলেও নিজের শরীর ও ত্বকের যত্ন নেওয়ার মাধ্য়মে বিষণ্নতা ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠা যায়। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘ভালো থাকা এ ধরনের অনুশীলন। প্রতিদিন চর্চার মাধ্য়মেই একজন মানুষ বিষণ্নতা কাটিয়ে ভালো থাকতে পারে।’

খুব বেশি কিছু নয়, প্রতিদিন মাত্র তিনটি ধাপে ত্বকের যত্ন নিতে পারেন। দিনে দুবার মৃদু বা জেন্টল ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। ত্বক শুষ্ক হওয়া বা অতিরিক্ত তেল বের হওয়া আটকাতে হালকা ময়শ্চারাইজার লাগান। দিনের বেলা ঘরের বাইরে বা ভেতরে যেখানেই থাকুন, সানস্ক্রিন ব্যবহার মিস করবেন না। এগুলোর পাশাপাশি সারা দিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। স্ট্রেস হরমোন ত্বক শুষ্ক করে দেয়। তাই দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করে ত্বক ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখুন। হাতে সময় ও শরীরে শক্তি থাকলে সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার অ্যালোভেরা বা হায়ালুরনিক অ্যাসিড যুক্ত শিট মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন, যা ত্বক তাৎক্ষণিক ঠান্ডা ও সতেজ করবে। ঘুম কম হলে ত্বক নিজে নিজে সেরে ওঠার সুযোগ পায় না। তাই চেষ্টা করুন পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে। মানসিক চাপের সময় অতিরিক্ত মিষ্টি বা ভাজাপোড়া খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। এগুলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে যেতে হবে। এসব খাবার মানসিক চাপ ও ব্রণ—দুটোই বাড়ায়।

সূত্র: ওয়েবএমডি ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত