
বিভিন্ন ফিচার আর সুযোগ সমৃদ্ধ স্মার্টফোন এখন আমাদের প্রায় চব্বিশ ঘণ্টার সঙ্গী। এর ব্যবহারে ছোটরাও পিছিয়ে নেই। কিন্তু প্রশ্নটি বারবার ফিরে এসেছে, শিশুর হাতে স্মার্টফোন আদর নাকি বিপদ? মানুষের জীবনের সব ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার সব সময় সুফল বয়ে আনে না। শিশুদের বেলায় সেটি বেশি সত্য। জীবন চলতে শেখার সময়ে তারা যদি ডিভাইস বন্দী জীবনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, সেটি তার জীবনের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না।
ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে শিশুদের হাতে স্মার্টফোন বা ট্যাব তুলে দেওয়া এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। খাওয়ানোর সময় অনেক অভিভাবক শিশুকে কার্টুন দেখতে বসিয়ে দেন। অথবা কোনো কাজে শিশুদের ব্যস্ত রাখতে স্মার্টফোন দিয়ে বসিয়ে দেওয়া হয়। করোনাকালের পর থেকে এই প্রবণতা আরও বেড়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিনোদন বা শিক্ষার দোহাই দিয়ে আমরা কি শিশুদের শৈশব ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছি? বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের স্ক্রিন টাইম বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সঙ্গে কাটানো সময় নিয়ে সচেতন হতে হবে।
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের জন্য শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যা তৈরি করে। এগুলোর মধ্যে প্রধান হলো—
স্থূলতা ও অনিয়মিত ঘুম: দীর্ঘক্ষণ বসে টিভি বা ভিডিও দেখার ফলে শিশুদের ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া স্ক্রিনের আলো ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত করে। ফলে শিশুর মেজাজ খিটখিটে হয়ে পড়ে এবং তার শরীরে ক্লান্তি ভর করে।
আচরণগত ও শিক্ষাগত সমস্যা: দিনে দুই ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহার করলে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ এবং মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। শোয়ার ঘরে টিভি বা কম্পিউটার থাকলে তা সরাসরি পড়াশোনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিকাশে বাধা: শিশুরা জগৎ চেনে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে। স্ক্রিন টাইম সেই খেলার সময়টুকু কেড়ে নেয়, যা তাদের সৃজনশীলতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য ছিল।
জার্মানি এবং অন্যান্য দেশের বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের বয়স অনুযায়ী ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার নির্দিষ্ট হওয়া উচিত। ৩ বছর পর্যন্ত বয়স জগৎ চেনার ও বোঝার সময়। জার্মান বিশেষজ্ঞরা এই সময় পর্যন্ত শিশুকে পুরোপুরি স্ক্রিন মুক্ত রাখার পরামর্শ দেন। ডব্লিউএইচওর মতে, ২ বছরের বেশি শিশুদের জন্য বড়জোর ১ ঘণ্টা সময় দেওয়া যেতে পারে। তবে কম হওয়াই ভালো। কিন্ডারগার্টেন পর্যায়ের অর্থাৎ ৩ থেকে ৬ বছরের শিশুরা কল্পনা করতে শেখে। তাই দিনে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট স্ক্রিন টাইম তাদের জন্য যথেষ্ট। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া অর্থাৎ ৬ থেকে ৯ বছর বয়সের শিশুদের নৈতিক বোধ তৈরি হয়। তাই তাদের ইন্টারনেট বা টিভির ওপর ছেড়ে না দিয়ে বড়দের তত্ত্বাবধানে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সময় দেওয়া যেতে পারে। ৯ থেকে ১৬ বছরের অর্থাৎ কৈশোরের শুরুর সময়টা ১ ঘণ্টা এবং বড়দের জন্য সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে যেকোনো স্ক্রিন দেখার জন্য। তবে এই সময়ে তারা কী দেখছে এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে, সেদিকে নজর রাখা জরুরি।
প্রযুক্তিকে পুরোপুরি বর্জন করা সম্ভব নয়, তবে কৌশলী হলে এর ক্ষতি কমানো সম্ভব। এর জন্য যা করবেন—
একসঙ্গে দেখুন
শিশু যখন কিছু দেখবে, তখন তার সঙ্গে অংশ নিন এবং সেটি নিয়ে আলোচনা করুন। এতে ভিডিওর বিষয়বস্তু সম্পর্কে তার ভুল ধারণা তৈরি হবে না।
শোয়ার ঘর টেক-মুক্ত রাখুন
শিশুদের শোয়ার ঘরে টিভি বা কম্পিউটার রাখবেন না। ড্রয়িংরুম বা এমন জায়গায় ডিভাইসগুলো রাখুন, যেখানে আপনার নজর থাকে।
খাওয়ার সময় ডিভাইস বন্ধ রাখুন
খাওয়ার সময় মোবাইল ফোন বা টিভি দেখার অভ্যাস শিশুদের ওজন বাড়িয়ে দেয়। এই সময়টুকু আলোচনার জন্য তুলে রাখুন।
রাত ৮টার পর সব ডিভাইস স্লিপ মোডে রাখুন
এ বিষয়ে কঠোর নিয়ম তৈরি করুন এবং মেনে চলতে শুরু করুন। মনে রাখবেন, শিশু আপনার উপদেশ শুনে নয়, বরং আপনার কাজ দেখে শিখবে। তাই বাবা-মাকেও নিজেদের স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
গবেষণা বলছে, ২ বছরের কম বয়সী শিশুরা টিভি বা পর্দার বিষয়বস্তু বুঝতে পারে না। যদিও পর্দার উজ্জ্বল আলো বা শব্দ তাদের মনোযোগ ধরে রাখে। কিন্তু বাস্তব জগৎ এবং পর্দার জগতের মধ্যে পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা তাদের থাকে না। তারা ভালো শেখে বাবা-মা বা যত্নকারীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলে এবং খেলার মাধ্যমে। সরাসরি মিথস্ক্রিয়া পর্দার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এবং সমৃদ্ধ। ২ বছর বয়সের পর থেকে মানসম্মত শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান শিশুদের ভাষা ও সাক্ষরতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। অক্ষরের সঙ্গে পরিচয় বা শব্দ চেনার ক্ষেত্রে কার্যকর অ্যাপ বা ই-বুক ব্যবহার করতে দিতে পারেন। তবে শর্ত হলো, এই সময় কোনো বড় মানুষকে সঙ্গে থাকতে হবে। যখন একজন বয়স্ক ব্যক্তি শিশুর সঙ্গে পর্দার বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেন, তখনই শুধু সেটি প্রকৃত শিক্ষায় রূপান্তরিত হয়।
বিভিন্ন ডিভাইসের স্ক্রিন অতিরিক্ত দেখার ফলে শিশুদের বিকাশে বেশ কিছু বড় ঝুঁকি তৈরি হয়। যেমন—
ভাষার বিকাশে দেরি হওয়া: যেসব শিশু দিনে ২ ঘণ্টার বেশি পর্দায় চোখ রাখে, তাদের কথা বলা শিখতে দেরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে।
মনোযোগের ঘাটতি: দিনে ৭ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহার শিশুদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বা ‘অ্যাটেনশন স্প্যান’ কমিয়ে দেয়।
পারিবারিক দূরত্ব: ঘরে সারাক্ষণ ব্যাকগ্রাউন্ডে টিভি চললে বাবা-মা ও সন্তানের মধ্যে কথোপকথনের গুণগত মান কমে যায়, যা শিশুর শব্দভান্ডার বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।
বই বনাম ই-বুক: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কাগুজে বই পড়ার সময় বাবা-মা যে পরিমাণ আলাপচারিতা করেন, ই-বুক পড়ার সময় তা কমে যায়। ই-বুকের অতিরিক্ত শব্দ বা অ্যানিমেশন অনেক সময় শিশুর মূল গল্পের ওপর মনোযোগ নষ্ট করে দেয়।
মনে রাখতে হবে, সব প্রযুক্তিই খারাপ নয়। ইন্টারনেটে অনেক চমৎকার শেখার মাধ্যমও আছে। ভাষা শেখা, নতুন নতুন তথ্য জানা কিংবা দূরে থাকা প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর প্রযুক্তি আছে এখন। তবে মূল লক্ষ্য হতে হবে, প্রযুক্তি যেন শিশুর দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত না হয়। শৈশব হোক ছোঁয়া, অনুভব এবং খেলার মাধ্যমে জগৎ চেনার সময়, শুধু একটি কাচের পর্দার ভেতর বন্দী থাকার নাম নয়।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ, ডয়চে ভেলে

আমাদের মধ্যে অনেকে অতিরিক্ত ঘামেন বিভিন্ন কারণে। এই অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া কমানোর ৫ উপায় জেনে নিন এখানে। মনে রাখতে হবে, ঘেমে যাওয়াটা সমস্যা নয়। তবে অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়াটা অনেক সময় স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এ ছাড়া বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে...
৬ ঘণ্টা আগে
টি জোনে এই তৈলাক্ত ভাব বেশি থাকে। অতিরিক্ত তেল ত্বক থেকে শুষে নিতে সাহায্য করে ভিনেগার। তাই গোসলের আগে দুই ফোঁটা ভিনেগার তুলার সাহায্যে নাকের চারপাশের অংশে লাগিয়ে রাখুন। ১০ মিনিট রেখে পরিষ্কার ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে নিন। সপ্তাহে তিন দিন নিয়মিত ভিনেগার ব্যবহার করলে দ্রুত এই সমস্যা দূর হবে।
১০ ঘণ্টা আগে
জাপানে চেরি ব্লসম যখন শেষ হয়, আমাদের এখানে কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরি তখন সবে আড়মোড়া ভাঙতে শুরু করে। সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিয়ে জানান দেয়, এখন আমার সময়। তারপর দিন যত গড়াতে থাকে; বত্রিশ, তেত্রিশ, চৌত্রিশ ডিগ্রি করে তাপের পারদ যখন চড়তে থাকে, তখন সবুজ উবে গিয়ে চারদিক হয়ে যায় লাল। দোলা লাগে মনে। কবিরা তো বটেই...
১১ ঘণ্টা আগে
আজ আপনার আত্মবিশ্বাস এভারেস্টের চূড়ায় থাকবে, কিন্তু সাবধান! সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পা হড়কাতে পারে। ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বা তর্কে জেতার যোগ থাকলেও বাড়ির ছোটদের সঙ্গে অযথা ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করবেন না। জমি-জমা নিয়ে ঝগড়া করতে গিয়ে নিজের রক্তচাপ বাড়িয়ে লাভ নেই। আজ বন্ধুদের সব গোপন কথা বলতে যাবেন না।
১৩ ঘণ্টা আগে