Ajker Patrika

কোনোভাবেই চিনি খাওয়া কমাতে পারছেন না? যে কাজগুলো করতে পারেন

ফিচার ডেস্ক 
কোনোভাবেই চিনি খাওয়া কমাতে পারছেন না? যে কাজগুলো করতে পারেন
ছবি: পেক্সেলস

প্রতিবারই চায়ে চিনি নেওয়ার সময় বা মিষ্টিজাতীয় কিছু খাওয়ার সময় অপরাধবোধে ভুগছেন? রোজই ভাবেন, আজ থেকে আর চিনি খাবেন না। কিন্তু নিজেকে করা এই প্রতিজ্ঞা রাখতে নিজেই হিমশিম খাচ্ছেন, তাই তো? একটু স্বস্তির খবর দিই—সামান্য চিনি খেলে খুব একটা অসুবিধা হয় না। কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে এটি ক্লান্তি, মেজাজের পরিবর্তন ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত সমস্যা যেমন—জ্ঞানীয় কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা এবং অস্বাস্থ্যকর ওজন বাড়ার কারণ হতে পারে। তো উপায়? খুব পরিশ্রম না করে কেবল ঘরোয়া টোটকার মাধ্যমেই চিনি ও মিষ্টি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে বাগে আনা সম্ভব। জেনে নিন এখানে–

সময়মতো খাবার খাওয়া

শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াই যথেষ্ট নয়। মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কার্যকরভাবে দমন করার জন্য আপনাকে সঠিক সময়ে খেতে হবে। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে খাবার খেলে আপনার শরীর নিরাপদ বোধ করে। এটি বুঝতে শুরু করে যে—কখন এটি পরবর্তী খাবার থেকে শক্তি পাবে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করতে ও অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করবে। অসময়ে বা অনিয়মিত বিরতিতে খাবার খেলে শরীর বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এতে হরমোন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, যার ফলে কর্টিসল ও ইনসুলিনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় এবং মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ও অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।

খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখুন

ক্রমাগত চিনিজাতীয় খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জাগছে মানে আপনার শরীর আপনাকে কিছু বলতে চাইছে। শরীরে ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি ও জিঙ্কের ঘাটতি থাকলে চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। এই পুষ্টি উপাদানগুলো গ্লুকোজ উৎপাদনে একটি বড় ভূমিকা পালন করে এবং শরীরে ইনসুলিন ও শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। শরীরে এই পুষ্টি উপাদানগুলো বাড়ানোর জন্য পালং শাক, কলা, দুধ ও মটরশুঁটির মতো খাবার খান। এতে ধীরে ধীরে অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা কমতে থাকবে।

চিনির প্রাকৃতিক বিকল্প বেছে নিন

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, খাবারের ছয়টি স্বাদই শরীরের প্রয়োজন। কিন্তু আপনি কোন ধরনের চিনি গ্রহণ করছেন, তা রক্তে শর্করার মাত্রার ওঠানামা ও প্রতিক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। চিনির প্রতি আপনার আকাঙ্ক্ষা কমাতে, মিষ্টি ফল (যেমন আম, আপেল, তরমুজ ও খেজুর) এবং মিষ্টি আলু ও গাজরের মতো সবজির মতো প্রাকৃতিক চিনিযুক্ত খাবার খান। এগুলো মিষ্টিজাতীয় খাবারের স্বাস্থ্যকর বিকল্প, যা আপনার শরীরকে হঠাৎ দুর্বল করে দেয় না বা শরীরে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণ হয় না।

সুষম খাবার খান

সুস্থ শরীর বজায় রাখার জন্য সুষম খাবার গ্রহণ করা অপরিহার্য। সুষম খাবারে শর্করা, ভালো চর্বি, প্রোটিন, মৌসুমি শাকসবজি ও ফল এবং বিভিন্ন ধরনের মসলা থাকে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এক বাটি ডাল, দুই ধরনের সবজি, রুটি, ভাত, সালাদ ও একটি স্বাস্থ্যকর মিষ্টি পদ রাখতে পারেন। আয়ুর্বেদ অনুসারে, সারা দিনের খাবারে ছয়টি স্বাদই থাকা উচিত—মিষ্টি, টক, নোনতা, ঝাল, তেতো ও কষ। প্রতিটি স্বাদ শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোনো স্বাদই অন্যগুলোর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

বেশির ভাগ সময় তৃষ্ণাকে ক্ষুধা ভেবে ভুল করি আমরা। যার ফলে অনেকেই অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন। সারা দিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা ও শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ, এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে, সঠিক হজমে সহায়তা করতে এবং শক্তি ও মানসিক কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

পানি পান করা ছাড়াও শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক রাখতে লেবুপানি, ডাবের পানি ও ভেষজ চায়ের মতো পানীয় গ্রহণ করা যেতে পারে। শসা ও কমলার মতো জলীয় খাবারও খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

সূত্র: ফেমিনা ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত