Ajker Patrika

জেনে নিন রূপচর্চায় চালের গুঁড়া ব্যবহারের ৫ পদ্ধতি

ফিচার ডেস্ক
আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ০০
জেনে নিন রূপচর্চায় চালের গুঁড়া ব্যবহারের ৫ পদ্ধতি
চালের গুঁড়ায় থাকা প্রাকৃতিক এনজাইম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের জন্য উপকারী। ছবি: পেক্সেলস

ত্বকের যত্নে সব সময় দামি প্রসাধন বা জটিল রুটিনের প্রয়োজন হয় না। সত্যি বলতে, কাঙ্ক্ষিত উজ্জ্বলতার জন্য সব সময় চড়া দামের পণ্য বা রাসায়নিক উপাদানও দরকার নেই। মাঝেমধ্যে সব সেরা সমাধানের উৎস আমাদের হাতের কাছেই রয়েছে; রান্নাঘরে। অতি সাধারণ অথচ জাদুকরি এক ঘরোয়া উপাদান হলো চালের গুঁড়া; যা হতে পারে সহজ ও প্রাকৃতিক সমাধান।

শতাব্দী ধরে এশিয়ান রূপচর্চায়, বিশেষ করে কোরিয়া ও জাপানিদের ‘গ্লাস স্কিন’ বা দ্যুতিময় ত্বকের রহস্য হিসেবে চালের গুঁড়ার ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি মূলত চাল গুঁড়া করে তৈরি একটি প্রাকৃতিক প্রসাধন, যা কোনো ক্ষতি ছাড়াই ত্বকের গভীর থেকে পরিষ্কার করে। কেমিক্যালমুক্ত হওয়ায় এটি যেমন পরিবেশবান্ধব, তেমনই প্রায় সব ধরনের ত্বকে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী।

ত্বকের জন্য চালের গুঁড়া কেন ভালো

চালের গুঁড়ায় থাকা প্রাকৃতিক এনজাইম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের উপকারে আসে। এর মৃদু দানাদার টেক্সচার ত্বককে আলতোভাবে এক্সফোলিয়েট করে মৃত কোষ তুলে ফেলে। এটি ত্বকের আর্দ্রতা না কমিয়েই অতিরিক্ত তেল শুষে নেয় এবং রোমকূপ সংকুচিত করতে সাহায্য করে। চালের গুঁড়ায় থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান ও অল্যানটোইন ত্বকের লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়া শান্ত করে। এতে উপস্থিত ভিটামিন ই-এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা দূষণ ও রোদের ক্ষতি দূর করে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সহায়ক।

ডার্মাটোলজিস্ট ও উপাদানবিষয়ক তথ্য

চালের গুঁড়া বা চাল থেকে মূলত কিছু মূল উপাদান পাওয়া যায়। যেমন ফারুলিক অ্যাসিড। এগুলো রোদ ও ইউভি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখে। এতে থাকা ফাইটিক অ্যাসিড একটি মৃদু এএইচএ। এটি মৃত কোষ ঝরিয়ে একনে ও কালচে দাগ কমাতে সাহায্য করে। রাইস স্টার্চ মূলত কার্বোহাইড্রেট, যা ত্বক ও চুলের অতিরিক্ত তেল শুষে নিতে প্রসাধনসামগ্রীতে ব্যবহৃত হয়। বাজারে প্রাপ্ত প্রক্রিয়াজাত নির্যাসে এই উপাদানগুলো যতটা ঘনীভূত থাকে, বাড়িতে বানানো সাধারণ চালের গুঁড়ায় তা ততটা ঘনীভূত না-ও থাকতে পারে। তবে তৈলাক্ত ভাব দূর করতে এবং প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েশনের জন্য চালের গুঁড়া নিরাপদ।

ব্যবহারের ৫ সহজ ঘরোয়া উপায়

সাধারণ এক্সফোলিয়েশনের জন্য: ২ টেবিল চামচ চালের গুঁড়ার সঙ্গে ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে মুখে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন। ১০–১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

সংবেদনশীল ত্বকের জন্য: ২ টেবিল চামচ চালের গুঁড়ার সঙ্গে ১ টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে পুরো মুখে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য: ২ টেবিল চামচ চালের গুঁড়া, ২ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি এবং প্রয়োজনমতো গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে ৫ থেকে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন।

প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতার জন্য: ২ টেবিল চামচ চালের গুঁড়া, এক চিমটি হলুদগুঁড়া এবং দুধ বা টক দই মিশিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট মুখে রেখে ধুয়ে ফেলুন।

শুষ্ক ত্বকের জন্য: ১ টেবিল চামচ চালের গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ মধু এবং অল্প পরিমাণে চটকানো অ্যাভোকাডো মিশিয়ে মুখে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় টিপস

-ব্যবহারের আগে অবশ্যই ত্বকে একটি প্যাচ টেস্ট করে নিন।

-ত্বকে কোনো লালচে ভাব, চুলকানি বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।

-অতিরিক্ত ব্যবহারের চেয়ে নিয়ম মেনে ও আলতোভাবে ব্যবহার করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: হেলথ লাইন, হেলথ শর্টস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত