Ajker Patrika

নিজের জন্য সঠিক বালিশটি খুঁজতে পরামর্শ দিলেন বিশেষজ্ঞ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
নিজের জন্য সঠিক বালিশটি খুঁজতে পরামর্শ দিলেন বিশেষজ্ঞ
নিজের পছন্দের বালিশে ড. ক্রিস ম্যাকার্থি। ছবি: বিবিসি

ঘুমের সময় ঘাড়, কাঁধ বা পিঠে ব্যথা হলে অনেকেই বিছানা বা গদির দিকে নজর দেন। কিন্তু সমস্যার কারণ হতে পারে বালিশও। ঘুমের ধরন, কাঁধের প্রস্থ, গদির নরম-শক্তভাব—এসব বিবেচনা করেই নিজের জন্য উপযুক্ত বালিশ বেছে নেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন ম্যানচেস্টার স্কুল অব ফিজিওথেরাপির সহযোগী অধ্যাপক ও ফিজিওথেরাপিস্ট ড. ক্রিস ম্যাকার্থি।

বিবিসির ‘Sliced Bread’ পডকাস্টে তিনি বলেন, সাধারণত মানুষ তিন ধরনের ভঙ্গিতে ঘুমান—কাত হয়ে, চিৎ হয়ে এবং উপুড় হয়ে। তবে উপুড় হয়ে ঘুমানোকে তিনি নিরুৎসাহিত করেন। কারণ এ অবস্থায় দীর্ঘ সময় ঘাড় একদিকে ঘোরানো থাকে, ফলে ঘাড়ের কোনো পেশি বা লিগামেন্টে টান পড়ে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

চিৎ হয়ে ঘুমানো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঘাড়ের স্বাভাবিক বাঁক বিবেচনা করা জরুরি। বয়স বাড়ার সঙ্গে মেরুদণ্ডের ওপরের অংশের বাঁক অনেকেরই কিছুটা বাড়ে। যাদের এই বাঁক বেশি, তাদের তুলনামূলক মোটা বালিশ প্রয়োজন হতে পারে।

অন্যদিকে, কাত হয়ে ঘুমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাঁধের প্রস্থ। কাঁধ যত চওড়া, সাধারণত বালিশও তত মোটা হওয়া দরকার। তবে এখানে গদির নরম-শক্তভাবও বড় ভূমিকা রাখে। শক্ত গদিতে কাঁধ কম ডোবে, তাই মোটা বালিশ প্রয়োজন হতে পারে। নরম গদিতে কাঁধ বেশি ডুবে যাওয়ায় তুলনামূলক পাতলা বালিশই যথেষ্ট।

বালিশ খুব পাতলা মনে হলে ম্যাকার্থির সহজ একটি কৌশল রয়েছে—বালিশের নিচে ভাঁজ করা তোয়ালে রাখা। কতটা উঁচু বালিশ প্রয়োজন, তা বুঝতে তোয়ালের ভাঁজের সংখ্যা বাড়ানো-কমানো যায়। একইভাবে তোয়ালে গুটিয়ে বালিশের নিচে রাখলে কাত হয়ে ঘুমানোর সময় ঘাড়ের নিচের অংশে বাড়তি সমর্থন প্রয়োজন কি না, সেটিও পরীক্ষা করা যায়।

‘কনট্যুরড’, ‘এরগোনমিক’ বা ‘অর্থোপেডিক’ বালিশের কার্যকারিতা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত প্রমাণ নেই বলেও জানান ম্যাকার্থি। তবে কাত হয়ে ঘুমানোর ক্ষেত্রে বালিশের সামনের অংশ সামান্য উঁচু হলে কিছু মানুষের উপকার হতে পারে।

বালিশের উপাদানও গুরুত্বপূর্ণ। পালক ও ডাউন ভরা বালিশ ঘাড় ও মাথাকে তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা রাখতে পারে, তবে রাতে নড়াচড়া করলে বালিশগুলোর আকার বদলে গিয়ে একদিকে জমাট বাঁধতে পারে। এতে বালিশটি ঢালু হয়ে ঘাড় বেঁকে যেতে পারে। হোলো ফাইবার ও মাইক্রোফাইবার সাধারণত আকৃতি ভালোভাবে ধরে রাখে, যদিও এগুলো তাপ সরাতে পারে কম।

ম্যাকার্থির নিজের পছন্দ ফোমের বালিশ। প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি প্রায় ৫০ পাউন্ড দিয়ে এমন একটি বালিশ কিনেছেন, যাতে বাতাস চলাচলের জন্য বিশেষ ফাঁকা জায়গা রয়েছে। কাত হয়ে ঘুমানোর কারণে তিনিও নিচে ভাঁজ করা তোয়ালে ব্যবহার করে উচ্চতা সামঞ্জস্য করেন।

তাঁর মতে, সবার জন্য একই ধরনের বালিশ উপযুক্ত নয়। তাই বালিশ কেনার সময় সুযোগ থাকলে ট্রায়াল পিরিয়ড ব্যবহার করে নিজের ঘুমের ভঙ্গি ও আরামের সঙ্গে মানানসই বালিশ বেছে নেওয়াই ভালো।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত