
ভ্রমণ মানেই এখন শুধু কোনো কিছু দেখতে বেরিয়ে পড়া নয়। পাহাড়, সমুদ্র, সমাধি দেখেই ভ্রমণকারী থেমে থাকেন না। বর্তমানে ভ্রমণের বড় একটা অংশজুড়ে থাকে খাবার। সুস্বাদু খাবারের তৃপ্তি আর আরাম—দুইয়ের মেলবন্ধন যখন চমৎকার কোনো পরিবেশে ঘটে, তখন তা হয়ে ওঠে জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লাখ লাখ খাদ্যরসিক ও ভ্রমণকারীর অভিজ্ঞতা এবং পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্ল্যাটফর্ম ট্রিপ অ্যাডভাইজার প্রকাশ করেছে এ বছরের ট্রাভেলার্স চয়েস বেস্ট অব দ্য বেস্ট রেস্তোরাঁর তালিকা। প্ল্যাটফর্মটিতে থাকা প্রায় ৮০ লাখ রেস্তোরাঁর তালিকার মধ্যে শীর্ষ ১ শতাংশের কম রেস্তোরাঁ এই অনন্য স্বীকৃতি পেয়েছে।
২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সংগৃহীত দীর্ঘ ১২ মাসের ভ্রমণকারীদের রিভিউ এবং রেটিংয়ের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের সেরা ১০ ফাইন ডাইনিং রেস্তোরাঁর তালিকা। চলুন, জেনে নেওয়া যাক ভোজনরসিকদের প্রিয় এই জায়গাগুলোর গল্প।

পরপর দুই বছর বিশ্বসেরা ডাইনিংয়ের শীর্ষ স্থানটি ধরে রেখে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসের ফগোন আসাদো। ঐতিহ্যবাহী আর্জেন্টাইন ওপেন-ফায়ার গ্রিলিং বা আসাদোর এক দারুণ অভিজ্ঞতা দেয় রেস্তোরাঁটি। বিশাল আকারের মাংসের টুকরা কাঠের আগুনে পুড়িয়ে অতিথিদের সামনেই পরিবেশন করা হয় ৮-কোর্সের টেস্টিং মেনু। রিবেই, প্রোভোলেটা এবং স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী ওয়াইনের অনন্য পরিবেশনা ভোজনরসিকদের এক অসাধারণ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন করে।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত মারিনা বে স্যান্ডসে অবস্থিত কোমা সিঙ্গাপুর। আধুনিক জাপানি খাবারের জন্য পরিচিত এই রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করতেই মনে হবে যেন কিয়োটোর ফুশিমি ইনিয়ারি শাইনে এসে পড়েছেন। প্রবেশপথে তৈরি প্রায় ২০ মিটার দীর্ঘ লাল রঙের তোরি গেট অতিক্রম করে ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা মেলে বিশাল ডাইনিং রুমের। যেখানে একটি ২ দশমিক ৫ মিটার লম্বা ঐতিহ্যবাহী জাপানি বেল এবং লাল ফুটব্রিজ সবার নজর কাড়ে। তাদের মেনুর অন্যতম আকর্ষণ হলো মিজো-ম্যারিনেটেড ব্ল্যাক কড, ইউনি পাস্তা এবং স্নো-এজড নিগাতা ওয়াগিউ।

তালিকায় তৃতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে অবস্থিত দ্য রিদমস রেস্টুরেন্ট। ভিয়েতনামের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশনার এক অনন্য সংমিশ্রণ ঘটেছে এই রেস্তোরাঁয়। রেস্তোরাঁটি ভিয়েতনামের ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোকে আধুনিক রূপ দিয়ে উপস্থাপন করে। স্থানীয় তাজা মসলা এবং উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি ডিশগুলো ভিয়েতনামের নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতিকে তুলে ধরে। রেস্তোরাঁটির অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় আধুনিকতার পাশাপাশি ভিয়েতনামের শিল্পকলা ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন দেখা যায়। হ্যানয়ের ওল্ড কোয়ার্টারের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় রেস্তোরাঁটি থেকে শহরের মনোরম দৃশ্য ও সুন্দর পরিবেশ উপভোগ করা যায়।

এডিনবরার ঐতিহাসিক আবহে অবস্থিত দ্য উইচারি। এটি চার শ বছরের ইতিহাস আর বিলাসবহুল গথিক রোমাঞ্চের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। তালিকায় এর অবস্থান চতুর্থ। ১৫৯৫ সালের একটি ঐতিহাসিক ভবনে গড়ে ওঠা এই স্থাপনা বিশ্বজুড়ে ভ্রমণপ্রেমী ও খাদ্যরসিকদের কাছে এক অনন্য নাম। খাবারের পাশাপাশি এখানে থাকার জন্য রয়েছে ৯টি ফ্ল্যামবয়েন্ট এবং আলাদা ডিজাইনের বিলাসবহুল সুইট। প্রাচীন ফোর-পোস্টার বেড এবং ওভারসাইজড সিলভার রোল-টপ বাথটাবে সাজানো এই সুইটগুলো রাজকীয় অভিজ্ঞতা দেয়। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, এটি অ্যাডাল্টস-অনলি বা শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত জায়গা।

তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় অবস্থিত মিট মার্কেট। রেস্তোরাঁটি শুধু স্পেন ও ইউরোপের সেরা খামারগুলো থেকে সংগৃহীত বিশেষ জাতের মাংস পরিবেশন করে। প্রতিটি কাঁচামাল সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে প্রতিপালিত গবাদিপশু থেকে সংগৃহীত। এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, স্টেকগুলো বেশ কিছুদিন বা কয়েক মাস পর্যন্ত সঠিক তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় বিশেষ ড্রাই-এজিং প্রক্রিয়ায় প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এর ফলে মাংসের স্বাদ বহুগুণ বাড়ে এবং তা অত্যন্ত নরম হয়। ওক ও চারকোলের আগুনে মাংসের টুকরাগুলো নিখুঁতভাবে গ্রিল করা হয়। গ্রাহকেরা রেস্তোরাঁয় বসে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী মাংসের টুকরা এবং এজিং সময়কাল বেছে নিতে পারেন। শেফরা গ্রাহকের পছন্দমতো মিডিয়াম-রেয়ার বা ওয়েল-ডান হিসেবে তা প্রস্তুত করে দেন।
তালিকার বাকি পাঁচ রেস্তোরাঁ হলো যথাক্রমে আর্জেন্টিনার গুয়ায়মেলেনের আব্রাসাদো, ব্রাজিলের গ্রামাদোর ক্যাথরিন গ্রামাদো, মেক্সিকোর কানকুনের কারেয়েস রেস্টুরেন্ট ও সান হোসে দেল কাবো একর এবং আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসের এল মারকাদো। রন্ধনশিল্পের দারুণ উপস্থাপনা আর মনোরম পরিবেশের কারণে এই রেস্তোরাঁগুলো এখন বিশ্বজুড়ে ভ্রমণপিয়াসি এবং খাবারপ্রিয় মানুষদের তালিকায় ওপরের দিকে জায়গা করে নিয়েছে।
সূত্র: ট্রিপ অ্যাডভাইজার, টাইম আউট

কখনো কি ভেবে দেখেছেন, কেন আমরা শর্করা খেতে চাই বার বার? শর্করা মূলত মস্তিষ্কের ফুয়েল। অর্থাৎ আপনার ব্রেন সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে কার্বোহাইড্রেট। শর্করা থেকে আসা গ্লুকোজ না পেলে ব্রেন ঠিকঠাক কাজই করতে পারে না, মনোযোগের অভাব দেখা দেয়। আমাদের শরীরের হ্যাপিনেস হরমোনও শর্করা দিয়ে নিয়ন্ত্রিত...
৫ ঘণ্টা আগে
ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ফোটেনি। মেঘনার বিস্তীর্ণ জলরাশির ওপর কুয়াশার পাতলা চাদর। দূরে জেলেদের নৌকা ঢেউ কেটে এগিয়ে চলছে। পুব আকাশে সূর্যের আভা ছড়িয়ে পড়তেই নদীর জল চিকচিক করে উঠল সোনালি আলোয়। ম্যানগ্রোভ বনের ফাঁক দিয়ে হঠাৎ ছুটে গেল একদল হরিণ। কোথাও পাখির ডাক, কোথাও মহিষের ঘণ্টার শব্দ, আবার কোথাও...
১৬ ঘণ্টা আগে
‘জীবন একটি রোমাঞ্চকর অভিযান ছাড়া কিছু নয়’—হেলেন কেলারের এই কথার সার্থক রূপায়ণ ঘটিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর তরুণ বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। কক্সবাজারের সোনাঝরা সৈকতের নোনাজল ছেড়ে সাইকেলে চেপে বীর কুমার যাত্রা শুরু করেছিলেন হিমালয়ের উদ্দেশে।
১৬ ঘণ্টা আগে
বাহরাইনের রাশা ইউসিফ ‘পৃথিবীর সব দেশ ঘুরে দেখা’ রোমাঞ্চকর কিন্তু কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন। ভ্রমণের সঙ্গে ফটোগ্রাফিকে সঙ্গী করে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৫টি দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। তবে রাশার ভ্রমণের...
১৭ ঘণ্টা আগে