
চলতি মাসের দ্বিতীয় রোববার, অর্থাৎ আজ মা দিবস। মা আমাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি। একটা কথা প্রচলিত রয়েছে, ‘যে কথা আমরা নিজের মাকে বলতে পারি না, সে কথা আর কাউকেই বলা যায় না।’ অর্থাৎ মায়ের সঙ্গে যদি নিরাপদ সম্পর্ক গড়ে না ওঠে, বিশ্বস্ততার সম্পর্ক তৈরি না হয়, তাহলে পৃথিবীর অন্য সবার সঙ্গেও সম্পর্কটা ঠিক জোরালো হয় না। এমনকি জন্মের পর মায়ের সঙ্গে অনিরাপদ মানসিক সম্পর্ক সন্তানের প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের রোমান্টিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটা সত্য। প্রশ্ন আসতেই পারে যে এ দুটির মধ্য়ে সংযোগটা কী? বলছি, অ্যাটাচমেন্ট বা সংযোগ মানে গভীর, স্থায়ী ইমোশনাল বা আবেগীয় যোগাযোগ, যার দ্বারা একজন মানুষ আরেকজন মানুষের সঙ্গে সংযুক্তি অনুভব করেন। জীবনের প্রথম ছয় মাসে শিশুর প্রাথমিক যত্নকারী, অর্থাৎ মায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ইমোশনাল বা আবেগীয় সম্পর্ক তৈরি হওয়া প্রয়োজন। মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, শিশুটির স্বাভাবিক সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশে সম্পর্কটি সারা জীবনের সম্পর্কের ছাঁচ হিসেবে বিবেচিত হয়।
মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের প্রভাব পড়ে পরবর্তী জীবনে
যখন একটি শিশু দৃঢ় আবেগীয় বন্ধনে মায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তখন সেটা শিশুমনে একটি নিরাপদ বা সিকিউর অ্যাটাচমেন্ট তৈরি করে। শিশুটি জীবনকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে। কিন্তু একটি শিশুর যদি দুর্বল আবেগীয় সম্পর্ক থাকে মায়ের সঙ্গে, তবে সেটা ইনসিকিউর অ্যাটাচমেন্ট বা অনিরাপদ সংযুক্তি তৈরি করে। শিশুটি অসহায়ত্ব, ভয় এবং নেতিবাচক মাইন্ডসেটে বা মানসিকতায় সারা জীবন পার করার ঝুঁকিতে থাকে।

শিশুদের মধ্যে একটি সহজাত প্রবণতা আছে আশ্রয় চাওয়ার, মূলত যখন তারা বিপন্ন বোধ করে। এই বিপন্নতা মনোদৈহিক উভয় ক্ষেত্রে হতে পারে। ঠিক এই সময় শিশু তার প্রধান রক্ষাকারী বা মায়ের কাছে এসে আশ্রয় খোঁজে। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ যখন শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্কে পৌঁছায়, তখন ঠিক একইভাবে আশ্রয় পেতে চায় এবং সেই ব্যক্তিটি হলেন তাঁর জীবনসঙ্গী। ফলে সেই মানুষটি তাঁর শৈশবে মায়ের কাছ থেকে সংকটে যেমন আচরণ পেয়েছেন, তিনি অন্যদেরকে সেই আচরণই ফেরত দেন; বিশেষ করে স্ট্রেস মুহূর্তে। ঠিক একইভাবে শৈশব থেকে শিশুর প্রত্যাশা, আস্থা-অনাস্থার ধরন ও বিশ্বাসের জায়গাটা তৈরি হয়, যা পরে ভবিষ্যতের জীবনসঙ্গী ও আন্তসম্পর্কগুলোর ওপর প্রভাব ফেলে।
ফলে যাঁদের শৈশবে মানসিক চাহিদা অনুযায়ী যত্ন এবং মমতার পরিপূর্ণতা ছিল, তাঁরা ভবিষ্যতে যখন তাঁদের মন খারাপ হবে বা কষ্ট পাবে, তখন অন্যের ওপর আস্থা রাখতে পারবেন। আর যাঁদের এসব মানসিক চাহিদার ঘাটতি ছিল শৈশবে, তাঁরা ভবিষ্যতে অন্যের ওপর আস্থা রাখতে পারবেন না, বিশ্বাসহীনতায় ভুগবেন।
এককথায় শৈশবে মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় থাকলে শিশুটি জানবে যে তাঁর ফেরার নিরাপদ একটা জায়গা আছে। এই শিশুটি আত্মবিশ্বাসী, ইতিবাচক, স্বাধীন মানুষ হিসেবে তাঁর চারপাশের পৃথিবীকে দেখবে। কিন্তু যদি এই সম্পর্ক দৃঢ় না হয়, সেখানে গুটি গুটি পায়ে এসে ঢুকবে নিরাপত্তাহীনতাবোধ। এই শিশুটির তখন দুই ধরনের মানসিকতা হতে পারে। হয় সে একজন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষ হবে, অথবা সে একজন পরিহারকারী বা পলায়নপর মানুষ হবে। এই দুই ধরনের মানুষ অন্যকে বিশ্বাস করতে পারে না, নিজেকে গুটিয়ে ফেলে, আত্মবিশ্বাসহীনতা এবং নেতিবাচক মানসিকতায় ভোগে।

১. শিশুকে একজন স্বতন্ত্র মানুষ হিসেবে মনোযোগ দিন। পাশাপাশি নিজের যত্ন নিন ও শখের চর্চাগুলো অব্যাহত রাখুন। শিশু যেন বোঝে, মায়ের নিজস্ব একটি জগৎ রয়েছে, যেটা মায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
২. শিশু যখন আপনাকে কিছু বলতে আসে, তখন সব কাজ থামিয়ে শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। আপনি ব্যস্ত থাকলে বলুন যে ৫ মিনিট শুনব, তারপর আমি অন্য কাজ করব।
৩. শিশুর প্রাইভেসিকে গুরুত্ব দিন। নিজের প্রাইভেসি বজায় রাখুন। এতে সন্তানের সঙ্গে মায়ের সম্পর্কের সুস্থ বাউন্ডারি বজায় থাকে।
৪. শিশুর মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না।
৫. কখনোই সন্তানকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করবেন না।
৬. আপনার সঙ্গে মতবিরোধ হলে শান্তভাবে তার মতামত শুনতে চান।
৭. সন্তানের ওপর আপনার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবেন না।
৮. পৃথিবীর সব শিশুই একরকম নয়। তাই সবাইকে এক মাপকাঠিতে মাপা ঠিক নয়। তার স্বকীয়তাকে সম্মান করুন। এতে সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠবে। প্রত্যেক শিশুর মধ্যে কিছু না কিছু বিশেষত্ব আছে। আমাদের দায়িত্ব হলো, সেটা খুঁজে বের করা। তাকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেওয়া। তাহলে দেখা যাবে, সে নিজেই নিজের জীবনের চলার পথ খুঁজে নিয়েছে।
লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সেলর ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার অব বাংলাদেশ

চলতি সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে টাইপ সি প্যারেন্টিং। এই পদ্ধতিতে সন্তানের আবেগপ্রবণ বুদ্ধিমত্তা এবং মানসিক সুস্থতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে অভিভাবকেরা সন্তানের ওপর নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার বদলে তাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা এবং আবেগ প্রকাশ করতে উৎসাহিত করেন। এই প্যারেন্টিংয়ের নাম যেহেতু...
২ ঘণ্টা আগে
কর্মব্যস্ত জীবনে শরীরচর্চার জন্য সময় বের করা অনেকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ভোরের আলসেমি কাটিয়ে ঘুম থেকে ওঠা কিংবা কাজের ফাঁকে ব্যায়াম করার মতো সময় অনেকের হয়ে ওঠে না। এই পরিস্থিতিতে তাদের মনে প্রশ্ন জাগে, রাতে বা সন্ধ্যায় ব্যায়াম করা কি আদৌ স্বাস্থ্যকর? দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণা ছিল, রাতের শরীরচর্চা...
৪ ঘণ্টা আগেমেঘ আর কাশফুল তো আছেই; খাবারের ঘ্রাণও জানান দেয়, শরৎ এসেছে। শহরে থাকুন আর গ্রামে, এই ঋতুতে নাকে লাগবে জ্বাল দেওয়া তালের রসের ঘ্রাণ। শরৎ এসেছে মানে তালের বড়া, পায়েস, পিঠা বা ক্ষীরের কথা মনে হবে কোনো উসকানি ছাড়াই।
১১ ঘণ্টা আগে
ঝটপট প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে কিংবা সকালের নাশতায় সেদ্ধ ডিম প্রায় সবার পছন্দ। অনেকে সকালের তাড়াহুড়োয় সময় বাঁচাতে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি ডিম সেদ্ধ করে ফ্রিজে রেখে দেন। সাধারণ কাঁচা ডিমের চেয়ে সেদ্ধ ডিম দ্রুত পচনশীল। কারণ, সেদ্ধ করার ফলে ডিমের খোসার ভেতরের প্রাকৃতিক সুরক্ষা কবচ নষ্ট হয়ে যায়।
১২ ঘণ্টা আগে