Ajker Patrika

চায়ের মধ্যেও ভেজাল! কী রাসায়নিক মেশানো হয়, চেনার উপায় কী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
চায়ের মধ্যেও ভেজাল! কী রাসায়নিক মেশানো হয়, চেনার উপায় কী
প্রতীকী ছবি

ভারতের উত্তরপ্রদেশে একটি বড়সড় ভেজাল চা প্রস্তুতকারী চক্রের সন্ধান পেয়েছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং ফুড সেফটি অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএসডিএ)। যৌথ এই অভিযানে একটি কারখানা থেকে প্রায় ৮০০ কেজি রাসায়নিক মিশ্রিত ভেজাল চা-পাতা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

অভিযানকারী দলের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ওই কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ নিম্নমানের চা-পাতার পাশাপাশি কেজিখানেক কৃত্রিম রং ও মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বিভিন্ন রাসায়নিক উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর ভারতের কেন্দ্রীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফএসএসএআই) উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সাধারণ ক্রেতাদের চা কেনার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।

চায়ে কী ধরনের বিষাক্ত উপাদান মেশানো হয়?

ল্যাব টেস্ট ও প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, চায়ের লিকারের রং আকর্ষণীয় করতে এবং ওজন বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের জন্য চক্রটি বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক ও বর্জ্য ব্যবহার করছিল:

বিসমার্ক ডাই: কাপড়ের কারখানায় সুতা বা কাপড় রাঙাতে যে লালচে-বাদামি রং ব্যবহার করা হয়, তা মেশানো হচ্ছিল নিম্নমানের বা শুকিয়ে যাওয়া সাধারণ চায়ের সঙ্গে। এতে লিকারের রং অত্যন্ত আকর্ষণীয় দেখায়।

সানসেট ইয়েলো ও পটাশিয়াম ফেরোসায়ানাইড: গ্রিন টি বা সবুজ চাকে সতেজ ও আকর্ষণীয় দেখাতে এই কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক মেশানো হয়। চিকিৎসকদের মতে, পটাশিয়াম ফেরোসায়ানাইড মানবদেহে প্রবেশ করলে লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

কাঠের গুঁড়া ও চামড়ার বর্জ্য: চায়ের ওজন বাড়াতে কাঠের মিহিগুঁড়া বা লোহার চূর্ণ মেশানো হচ্ছিল। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে চামড়ার কারখানার অত্যন্ত সূক্ষ্ম বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে চায়ের সঙ্গে মেশানোর প্রমাণ মিলেছে।

গ্রাফাইট ও কয়লার গুঁড়া: সাধারণ ব্ল্যাক-টি বা কালো চাকে দানাদার, চকচকে ও গাঢ় কালো দেখাতে সামান্য গ্রাফাইট বা কয়লার মিহিগুঁড়া ব্যবহার করা হচ্ছিল।

আসল ও ভেজাল চা চেনার ৪টি সহজ উপায়

আপনার প্রাত্যহিক কাপের চাটি নিরাপদ কি না, তা ল্যাবরেটরিতে না গিয়েও বাড়িতে বসে কয়েকটি অত্যন্ত সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ:

১. ঠান্ডা পানির পরীক্ষা

সাধারণত চা-পাতা গরম পানিতে ফোটালে তবেই লিকারের রং ছাড়ে। কিন্তু এক চামচ চা-পাতা সাধারণ ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে দিন। যদি পাতা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পানি লালচে বা বাদামি রঙে রূপ নেয়, তবে বুঝবেন এতে কৃত্রিম রং মেশানো আছে। খাঁটি চা-পাতা ঠান্ডা পানিতে সহজে রং ছাড়ে না; দীর্ঘক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে তা অত্যন্ত হালকা সোনালি বা হলদেটে ভাব ধারণ করতে পারে।

২. ব্লটিং পেপার বা ফিল্টার পেপার পরীক্ষা

একটি সাধারণ ফিল্টার পেপার বা ব্লটিং পেপারের ওপর কিছুটা চা-পাতা ছড়িয়ে দিন। এবার সামান্য পানি ছিটিয়ে কাগজটিকে ভিজিয়ে দিন। কিছুক্ষণ পর চা-পাতাগুলো সরিয়ে কাগজটি পানি দিয়ে আলতো করে ধুয়ে ফেলুন। কাগজের ওপর যদি কালচে, খয়েরি বা গাঢ় ছোপ ছোপ দাগ থেকে যায়, তবে নিশ্চিত যে তাতে কৃত্রিম রং ছিল। খাঁটি চায়ের ক্ষেত্রে কাগজে কোনো দাগ থাকবে না।

৩. চুম্বকের পরীক্ষা

চায়ের গুঁড়ার মধ্যে ওজনের জন্য অনেক সময় লোহার সূক্ষ্ম চূর্ণ মেশানো হয়। এটি পরীক্ষার জন্য একটি কাচের পাত্রে চায়ের গুঁড়া নিয়ে তার ওপর একটি ছোট চুম্বক ধীরে ধীরে ঘোরাতে থাকুন। চায়ে লৌহচূর্ণ মেশানো থাকলে তা চুম্বকের গায়ে আটকে যাবে।

৪. স্পর্শ ও সুগন্ধের পরীক্ষা

খাঁটি চা-পাতার একটি নিজস্ব মৃদু, সতেজ ও প্রাকৃতিক সুগন্ধ থাকে। কিন্তু ভেজাল চায়ের গন্ধ অনেক সময় উগ্র বা রাসায়নিকের মতো লাগে। এ ছাড়া খাঁটি শুকনো চা-পাতা আঙুল দিয়ে চাপলে তা সহজে ভেঙে মিহি হয়ে যায় না। কিন্তু কাঠের গুঁড়া বা ভেজাল মেশানো চা খসখসে লাগে এবং সামান্য ঘষলেই দ্রুত গুঁড়ো হয়ে যায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত