Ajker Patrika

পূজার ছুটিতে হ্রদ-পাহাড়ের দেশে

হিমেল চাকমা, রাঙামাটি 
পূজার ছুটিতে হ্রদ-পাহাড়ের দেশে

শরতের স্নিগ্ধ আলোয় রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ সেজেছে এক অপরূপ সৌন্দর্যে। নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে তুলার মতো সাদা মেঘ। মেঘের ছায়া হ্রদের বিস্তীর্ণ নীলাভ জলরাশিতে পড়েছে। চারপাশের প্রগাঢ় সবুজ পাহাড়গুলো যেন আরও জীবন্ত ও ঝলমলে হয়ে উঠেছে।

ঠিক এমন সময়েই এবার পাঁচ দিনের পূজার ছুটি! একেই বোধ হয় বলে মণিকাঞ্চনযোগ। যাঁরা পূজার এই ছুটিকে কাজে লাগাতে চান, এখনই প্রস্তুতি নিয়ে ফেলুন। এতে একই সঙ্গে মিলবে উৎসব আর হেমন্তের প্রাকৃতিক আমেজ।

হেমন্তের শুরুতে কাপ্তাই হ্রদের বুকে ভেসে থাকা দ্বীপের মতো রাঙামাটি শহরটির সৌন্দর্যে পড়বে এক মায়াবী ছাপ। নীল জলরাশি আর ঘন সবুজ পাহাড়ঘেরা এ শহর দেশের যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে রূপসী হয়ে উঠবে। কাপ্তাই হ্রদে বর্ষার পানি এখনো পুরোপুরি নেমে যায়নি। ফলে এই সময়ে ট্রলার বা বোট নিয়ে হ্রদের বুকে ঘুরে বেড়ানো হবে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

কাপ্তাই হ্রদের বুক চিরে যাওয়া পথ, আঁকাবাঁকা লেকসাইড ভিউ, আসাম বস্তি-কাপ্তাই সড়ক, পাহাড়ের কোলে দারুণ সব রিসোর্ট এবং বৈচিত্র্যময় পাহাড়ি সংস্কৃতি রাঙামাটির ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে করে তুলবে অনন্য ও পরিপূর্ণ।

এ সময়ে কেন রাঙামাটি আসবেন

পাহাড়ি খাবারের মৌসুমি উৎসব চলে শহরটিতে। রাঙামাটি ভ্রমণে আসার বড় আকর্ষণ হলো পাহাড়ি রন্ধনশিল্পের অসাধারণ স্বাদ উপভোগ করা। জুমের ফসলের মৌসুমে পাহাড়ের ঘরবাড়ি আর রেস্তোরাঁর রান্নাঘরগুলোতে এক স্বর্গীয় সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় পাওয়া যায় জুমের টাটকা সবজি, জুমের খেত থেকে তোলা মিষ্টি ও আঠালো জুমের কুমড়া, টাটকা জুমের ভুট্টা এবং বাহারি সবজির নানা পদ। পাওয়া যাবে পাহাড়ি ছড়ার চিংড়ি, ছোট মাছ এবং পাহাড়ের অনন্য স্বাদযুক্ত কালো দাঁড় কাঁকড়া, যা দেশের কোথাও পাওয়া যায় না। এ ছাড়া বাঁশকোড়ল ও ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন রেসিপি তো আছেই।

যেভাবে যাবেন

দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে রাঙামাটি যাওয়া যায়। বাসে ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, কলাবাগান থেকে সরাসরি এসি ও নন-এসি বাস ছাড়ে প্রতিদিন। এ ছাড়া চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড় থেকে লোকাল বা পাহাড়িকা বাসেও যাওয়া যায় রাঙামাটি।

আকাশপথে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে নেমে সেখান থেকে সড়কপথে রাঙামাটি।

৩ দিন ২ রাতের বিশেষ ভ্রমণ পরিকল্পনা

প্রথম দিন: কাপ্তাই হ্রদে নৌ সফর, সুবলং ঝরনা, চাং পাং ও রাজবন বিহার। সকালে রাঙামাটি পৌঁছে হোটেলে চেক ইন ও রিফ্রেশমেন্ট শেষে হোটেলের অবস্থানভেদে রাজবাড়ি বা শিল্পকলা ঘাট, বনরূপা সমতা ঘাট, ফিশারি, পৌর টার্মিনাল, উন্নয়ন বোর্ড এবং রিজার্ভ বাজার বা পর্যটন ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত বোট নিয়ে কাপ্তাই হ্রদে ভ্রমণ।

  • দুপুরে হ্রদের মাঝ দিয়ে ট্রলারে চেপে পাহাড়ঘেরা সুবলং ভ্রমণ। দুপুরের খাবার উপভোগ করুন হ্রদের দ্বীপে অবস্থিত জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট চাং পাং বা রাঙা বেস ক্যাম্পে বা নিজের পছন্দমতো রেস্টুরেন্টে। যেখানে পাবেন কাপ্তাই হ্রদ থেকে ধরা টাটকা মাছ, জুমের টাটকা সবজি, বাঁশকোড়ল ও ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি রেসিপি।
  • বিকেলে হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে সড়কপথে ঘুরে দেখুন শান্ত ও আধ্যাত্মিক রাজবন বিহার। হোটেলে না এসে সুবলং থেকে নৌকায় সরাসরি রাজবন বিহারেও আসা যায়, সে ক্ষেত্রে সময়টা একটু বেশি লাগবে। রাজবন বিহারের নিকটস্থ রাজবাড়ি দ্বীপ; রাজার বাড়িটি বর্তমানে নির্মাণাধীন। সন্ধ্যায় বিখ্যাত ঝুলন্ত সেতু ও কাপ্তাই হ্রদের তীরে মনোরম পলওয়েল পার্কে সূর্যাস্ত উপভোগ করুন।

দ্বিতীয় দিন: সকালে আসাম বস্তি-কাপ্তাই সড়ক রোড ট্রিপ। সিএনজি বা বাইকে রওনা দিন বিখ্যাত আসাম বস্তি-কাপ্তাই সংযোগ সড়ক ধরে। এক পাশে উঁচু সবুজ পাহাড় আর অন্য পাশে কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ পানির নীল ক্যানভাস নিয়ে গড়ে ওঠা এই পাহাড়ি পথটি বাংলাদেশের অন্যতম মনোরম রোড ট্রিপ রুট। পথে পড়বে মনোরম বার্গী, রেঙ, বড়গাং, বেড়ান্নে, ইজোর, জুমকিং, রান্যা টুগুন, গাং পাড় ইত্যাদি রিসোর্ট। যেখানে কায়াকিং করার রোমাঞ্চকর সুযোগ রয়েছে। লেকভিউ দেখে বিকেলে কাপ্তাই হ্রদের একদম কোল ঘেঁষে চা বা কফি পান করতে করতে সূর্যাস্ত দেখার মুহূর্তটি অবিশ্বাস্য।

তৃতীয় দিন: শহরের টেক্সটাইল মার্কেট ও স্থানীয় বাজারে ঘুরে কেনাকাটা। চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী তাঁতের কাপড়, জুমের অর্গানিক ফলমূল, হস্তশিল্প ও স্মারক সংগ্রহ করা যায়। দুপুরের খাবার শেষে স্মৃতিময় ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে ঢাকা বা চট্টগ্রামের উদ্দেশে ফিরতি যাত্রা শুরু করতে পারেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত