দেশে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে চালকের সংখ্যাও। কেউ গাড়ি চালানো শিখছেন প্রয়োজনে, কেউবা শখে। অনেকেই আছেন যাঁরা প্রয়োজনের বাইরে গাড়ি চালাতে ভালোবাসেন। তাঁদের শৌখিন চালক বলা যায়। আমাদের দেশে অনেক তরুণই এখন গাড়ি চালানোর বয়স হলেই চালানো শিখে ফেলছেন। অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি চালানো শেখার প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক কিছু শেখায় না। গাড়ি চালানো শেখার পাশাপাশি সেসব বিষয় জেনে নেওয়া প্রয়োজন। বিষয়গুলো যদি একজন চালকের জানা থাকে, তাহলে গাড়ি চালানো আরও সহজ হবে।
মিরর ঠিক করে নিন
মিররকে আমাদের দেশে অনেকেই লুকিং গ্লাস বলে থাকেন। গাড়ির সামনের দুটো দরজার সঙ্গে এ রকম লুকিং গ্লাস লাগানো থাকে। সাধারণত উত্তল দর্পণ দিয়ে এ ধরনের গ্লাস তৈরি করা হয়। মিরর বা লুকিং গ্লাস গাড়ি চালানো শুরুর আগেই ঠিক করে নিতে হবে। এতে আপনার গাড়ির পেছনে বা পাশে কোথাও গাড়ি বা অন্য কিছু আছে কি না, তা সহজে দেখে নিতে পারবেন। এর ফলে আপনার গাড়ি চালানো অনেকটাই সহজ ও নিরাপদ হবে। যদি লুকিং গ্লাস ঠিক করে না নেওয়া হয়, তাহলে অনেক সময় পেছনে কী আছে দেখা যায় না এবং কখনো কখনো নিজের গাড়িই লুকিং গ্লাসে দেখা যায়।
চাকার অবস্থান বুঝতে চেষ্টা করুন
গাড়ি গর্তে পড়ুক বা পার্কিংয়ের সময় পেছনে স্ক্র্যাচ পড়ুক এটা কেউ চান না। সে ক্ষেত্রে আপনাকে বুঝতে চেষ্টা করতে হবে চাকা কোন অবস্থানে আছে। আপনি নিজে চাকার অবস্থান বোঝার দক্ষতা অর্জন করার জন্য নিজেই অনুশীলন করতে পারবেন খুব সহজে। প্রথমে একটি খালি প্লাস্টিকের বোতল মুচড়ে ফেলে রাস্তার ওপর রাখুন। এরপর গাড়ির সামনের চাকা ডানে-বামে ঘুরিয়ে বোতলের ওপর দিয়ে গাড়ি চালান। এ কাজ করার সময় গাড়ির জানালা খোলা রাখবেন এবং বোতল চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়ার শব্দও শোনার চেষ্টা করবেন। এভাবে কয়েকবার অনুশীলন করলে সহজেই আপনি বুঝতে পারবেন আপনার গাড়ির চাকা কীভাবে আছে।
ব্রেক শুকিয়ে নিন
অনেক সময় গাড়ি চালাতে গেলে রাস্তায় পানি বা কাদার ওপর দিয়ে গাড়ি চলে যায়। এ ক্ষেত্রে আপনি পানি বা কাদায় গাড়ি চলার আগেই গাড়ির স্পিড কমিয়ে ফেলুন। তবে অনেক সময় গাড়ি দ্রুতগতিতে চলে—স্পিড কমানোর উপায় বা সুযোগ থাকে না। সে ক্ষেত্রে অনেক সময় পানি বা কাদার ওপর দিয়ে গাড়ি চলে গেলে গাড়ির ইগনিশন সিস্টেমে পানি ঢুকে যেতে পারে। এতে গাড়ির ইঞ্জিনের দক্ষতা কমে যাবে এবং কখনো কখনো চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণও হারিয়ে ফেলতে পারেন। এ জন্য কাদা বা পানির ওপর দিয়ে দ্রুত গাড়ি চালালে গাড়ির স্পিড কমিয়ে ফেলবেন না বা ইঞ্জিন বন্ধ করে দেবেন না।
আপনি সে সময় কয়েকবার এক্সিলারেটরে ও ব্রেক প্যাডেলে পা দিয়ে হালকা চাপ দিন। এর ফলে ঘর্ষণ সৃষ্টি হবে ব্রেক সিস্টেমে, যা তাপ উৎপন্ন করবে। সেই তাপ ভেতরে ঢুকে যাওয়া পানিকে বাষ্পীভূত করে ফেলবে।
উঁচু গাড়ির চলাচল লক্ষ করুন
রাস্তায় চলাচলের সময় নিজের গাড়ির চেয়ে উঁচু গাড়ির চলাচল লক্ষ করতে হবে। প্রশ্ন জাগতেই পারে—কেন নিজের গাড়ির চেয়ে উঁচু গাড়ির চলাচল লক্ষ করতে হবে? কেন আপনার গাড়ির সমান উচ্চতার গাড়ি বা তার চেয়ে নিচু গাড়ির দিকে নজর দেবেন না? উত্তর হলো, নিশ্চয় নজর দেবেন। তবে উঁচু গাড়ির দিকে নজর দেওয়ার একটি কারণ আছে। ধরা যাক, আপনি টয়োটা করলা চালাচ্ছেন। আপনার ঠিক সামনেই আছে একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার। আপনি করলায় বসে রাস্তার অবস্থা যতটা দেখতে বা বুঝতে পারবেন, ল্যান্ড ক্রুজারের চালক কিন্তু তার চেয়ে বেশি দেখতে বা বুঝতে পারবেন গাড়ি
উঁচু হওয়ার জন্য।
এখন যদি ল্যান্ড ক্রুজারের চালক তাঁর গাড়িকে অন্য লেনে নিয়ে যান, তখন বুঝতে হবে চালক নিশ্চয় রাস্তায় কিছু দেখেছেন। সে জন্য লেন পরিবর্তন করেছেন। এতে একদিকে আপনি যেমন নিরাপদে গাড়ি চালাতে পারবেন, অন্যদিকে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তও নিতে পারবেন।
গাড়ি স্টার্ট হচ্ছে না
কখনো কখনো গাড়ির ব্যাটারি বসে গেলে গাড়ি স্টার্ট নিতে চায় না। এ ক্ষেত্রে হাই বিম কয়েকবার অন-অফ করুন। এতে ব্যাটারি সচল হবে। হাই বিম অন না করতে চাইলে গাড়ির ইন্ডিকেটর লাইট অন-অফ করেও দেখতে পারেন।
উল্লিখিত বিষয়গুলো যদি আপনি মেনে চলেন, আপনার গাড়ি চালানো আরও সহজ, নিরাপদ ও আনন্দদায়ক হবে।
লেখক: ফাউন্ডার ও সিইও, বাংলা অটোমোবাইল স্কুল

ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে আমাদের বন্ধুর সংখ্যা হয়তো হাজার ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সঙ্গে আমাদের হাই-হ্যালো হয়। কেউ অফিসের সহকর্মী, প্রতিবেশী কিংবা পুরোনো সহপাঠী। কিন্তু এই বিশাল তালিকার সবাই কি আসলে আমাদের বন্ধু? জীবনে আসলে কজন বন্ধু প্রয়োজন?
৭ ঘণ্টা আগে
দিনভর কাজের চাপ, ভবিষ্যতের চিন্তা কিংবা দুশ্চিন্তা নিয়ে রাতে বিছানায় গেলেন। এপাশ-ওপাশ করছেন, কিন্তু ঘুম আসছে না। ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলছে আর আপনার দুশ্চিন্তাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এ গল্প আমাদের অনেকের। আপনি কি জানেন, মানসিক চাপ আর ঘুম একে অপরের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে? একে বলা হয় স্লিপ-স্ট্রেস...
৮ ঘণ্টা আগে
উনিশ শতকের শেষের অংশে বাংলা সাহিত্যে পদচারণ করা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পের নায়িকাদের সাজসজ্জা আজও ফ্যাশনসচেতন নারীর কাছে অনুকরণীয়। ‘নষ্টনীড়ে’র চারুলতা, ‘ঘরে-বাইরে’র বিমলা, ‘নৌকাডুবি’র হেমনলিনী বা ‘শেষের কবিতা’র লাবণ্য খোঁপা বেঁধেছে নানান ঢংয়ে। কারও খোঁপার ঘূর্ণনে শোভা পেয়েছে সোনার কাঁটা...
১০ ঘণ্টা আগে
আপনার এনার্জি লেভেল আজ থার্মোমিটার ফাটিয়ে বেরোনোর জোগাড়! কিন্তু মনে রাখবেন, সব জায়গায় এনার্জি দেখালে লোকে আপনাকে হিরো না ভেবে পাগল ভাবতে পারে। বসের সঙ্গে কথা বলার সময় সাবধান, আপনার অতি-উৎসাহে বসের কফির কাপে যেন আপনার প্রজেক্ট ফাইল সাঁতার না কাটে।
১২ ঘণ্টা আগে