বলতে গেলে এখন প্রায় সবার ঘরে রয়েছে পাকা আম। খেতে সুস্বাদু এই ফল ত্বক সুন্দর রাখতেও খুব ভালো ভূমিকা রাখে। ভিটামিন এ, সি, ই, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রাকৃতিক এনজাইমে সমৃদ্ধ আম ভেতর-বাইরে থেকে ত্বকের ক্ষয়ক্ষতি সারিয়ে তোলে, আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
খাওয়া হোক বা বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করা হোক, ত্বকের জন্য আমের উপকারিতা আসে এর ফ্রি র্যাডিক্যাল প্রতিরোধ, কোলাজেন বৃদ্ধি এবং ত্বকের সামগ্রিক গঠন উন্নত করার ক্ষমতা থেকে। এ ছাড়া পাকা আম ত্বকের যেসব উপকার করে সেগুলো হলো—
আম ভিটামিন সি ও বিটা ক্যারোটিনে ভরপুর, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা এবং দীপ্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন সি ত্বক মেরামত, ত্বকের রং উন্নত করেসহ নিস্তেজ ভাব কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে বিটা ক্যারোটিন একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা ত্বক পরিবেশগত বিভিন্ন ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। আমের মৌসুমে নিয়মিত এই ফল খেলে বা ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করলে ক্লান্ত ও নিষ্প্রভ ত্বক পুনরুজ্জীবিত হয়ে ওঠে।
আমে পানির পরিমাণ অনেক বেশি। পাশাপাশি এতে রয়েছে প্রাকৃতিক তেল, যা ত্বকে গভীরভাবে পুষ্টি জোগায়। এটি বিশেষ করে শুষ্ক, রুক্ষ বা খসখসে ত্বকে উপকারী। এটি আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে সাহায্য করে। এ ছাড়া ত্বক নরম, কোমল ও মসৃণ রাখে। নিয়মিত ব্যবহারে আম ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে, ত্বক আরও কোমল ও আরামদায়ক করে তোলে, বিশেষ করে শুষ্ক বা প্রতিকূল আবহাওয়ায়।

আম ভিটামিন এ এবং ই-এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা অকালবার্ধক্যের জন্য দায়ী ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি প্রতিরোধে সহায়ক। এই পুষ্টি উপাদানগুলো ত্বকের ক্ষয়ক্ষতি সারিয়ে তোলে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করে। ফলে এটি সূক্ষ্ম রেখা, বলিরেখা এবং অকালে ঝুলে যাওয়া ভাব কমাতে সাহায্য করে। আম ত্বকের কোষ গভীর স্তরে সুরক্ষা ও পুষ্টি প্রদানের মাধ্যমে ত্বক আরও দৃঢ়, মসৃণ এবং তারুণ্যময় করে তোলে।
আমের মৃদু ডিটক্সিফাইং বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা খাওয়ার ফলে ত্বক ভেতর থেকে এবং প্রয়োগের ফলে উপরিভাগ থেকে পরিষ্কার করে। এটি রোমকূপ বন্ধ হওয়া কমাতে সহায়ক, যা ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস এবং ছোটখাটো ব্রণের একটি সাধারণ কারণ। আম রোমকূপ পরিষ্কার রাখে। এটি অতিরিক্ত তেল জমা হওয়া কমাতেও সাহায্য করে, যা প্রায়শই ব্রণের সমস্যার কারণ হয়।
আম ভিটামিন সি-এর একটি ভালো উৎস, যা ত্বকে কোলাজেন সংশ্লেষণের জন্য অপরিহার্য। কোলাজেন একটি প্রোটিন, যা ত্বকের দৃঢ়তা, স্থিতিস্থাপকতা এবং শক্তি বজায় রাখে। পর্যাপ্ত কোলাজেন উৎপাদনের ফলে ত্বক দীর্ঘ সময়ের জন্য টানটান, মসৃণ এবং তারুণ্যময় থাকে। নিয়মিত আম খেলে বা বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক মেরামতপ্রক্রিয়া সচল থাকে, স্থিতিস্থাপকতা উন্নত হয় এবং ত্বক ঝুলে যাওয়া বা সূক্ষ্ম রেখার অকাল উপস্থিতি কমায়।

আম ত্বকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন দিয়ে পুষ্টি জোগায়, যা এর নিষ্প্রভ ভাব দূর করে এবং ভেতর থেকে আসা এক স্বাভাবিক স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল আভা ফিরিয়ে আনে। এটি ত্বকের সজীবতা বাড়ায়, ফলে ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত ত্বক আরও প্রাণবন্ত এবং উজ্জ্বল দেখায়।
২ টেবিল চামচ পাকা আমের পাল্প, ১ টেবিল চামচ মধু, ১ চা-চামচ টক দই একসঙ্গে মিশিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য মুখে, গলায় ও ঘাড়ে লাগিয়ে রাখুন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
২ টেবিল চামচ আমের পাল্প, ১ চা-চামচ বাদাম তেল, ১ টেবিল চামচ দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে সমানভাবে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক ত্বকের নিষ্প্রভতা কমায় এবং তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
২ টেবিল চামচ আমের পাল্প, ১ চা-চামচ হলুদ, ১ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি একসঙ্গে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন, মুখে লাগান এবং ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন। ত্বকের তেল, ব্রণ এবং বন্ধ রোমকূপ কমাতে সাহায্য করবে এই প্যাক।
২ টেবিল চামচ আমের পাল্প, ১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল, ১ চা-চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা জোগায় এবং ত্বকে প্রশান্তি দেয়।
সূত্র: বি বিউটিফুল ও অন্যান্য

যুগ যুগ ধরে মানুষ কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম দুটি প্রশ্ন হলো, মানুষ আসলে কত দিন বাঁচে? আর দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের রহস্য কী? যুক্তরাজ্যের প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষের ওপর দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চালানো একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় মাত্র ৮টি সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে একজন
৫ ঘণ্টা আগে
লাল-সবুজ জার্সির প্রিয় দলকে বিশ্বকাপের আসন্ন ম্যাচে সমর্থন জানাতে অপেক্ষায় আছেন পর্তুগালের সমর্থকেরা। খেলা দেখার এই উত্তেজনায়, পরিবার কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় টেবিলে জায়গা করে নিতে পারে জনপ্রিয় পর্তুগিজ খাবার।
৭ ঘণ্টা আগে
মিসরের খাদ্যসংস্কৃতির ইতিহাস প্রায় ৫ হাজার বছরের প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ। নীল নদের উর্বর অববাহিকা, বিভিন্ন সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সংস্কৃতির মিশ্রণে এই রন্ধনশৈলী গড়ে উঠেছে। মিসরের খাবার মূলত শস্য, শাকসবজি এবং সুগন্ধযুক্ত মসলার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। এই প্রাচীন...
১৯ ঘণ্টা আগে
যখন তুর্কি নারীর সৌন্দর্যের কথা বলা হয়, তখন আমাদের মনে ভেসে ওঠে কোমল, উজ্জ্বল ত্বকের অধিকারী নারীদের অবয়ব। তুর্কি নারীদের সুন্দর ত্বকের রহস্য কোনো নামীদামি প্রসাধনী নয়, বরং তাঁদের দেশের আবহাওয়া ও খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব প্রবল। এর পাশাপাশি তাঁরা ত্বকে প্রাকৃতিক কয়েকটি উপকরণ ব্যবহার করেন, যেগুলোর...
২১ ঘণ্টা আগে