ভ্রমণের ইতিহাসে ট্রেন এক আলাদা আবেগের নাম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্লেন, বাস কিংবা ক্রুজ জনপ্রিয় হলেও ট্রেন ভ্রমণের আবেদন কখনোই ফিকে হয়নি। বিশেষ করে প্রকৃতির মাঝ দিয়ে ধীরগতির যাত্রা, জানালার পাশে বসে দৃশ্য উপভোগ আর ট্রেনের ছন্দময় শব্দ অনেকের কাছে নিখাদ আনন্দ। পাহাড়, বন, হিমবাহ কিংবা ঐতিহাসিক শহরের ভেতর দিয়ে ছুটে চলা কিছু ট্রেন আছে, যেগুলো শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং নিজেই একটি পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।
সম্প্রতি জনপ্রিয় ট্রাভেল ভ্লগ ও ম্যাগাজিনগুলো বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ও বিলাসবহুল কয়েকটি ট্রেন ভ্রমণের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকা থেকে বেছে নেওয়া পাঁচটি চোখজুড়ানো ট্রেন ভ্রমণের গল্প।
২০২৪ সালে বিশ্বের অন্যতম সেরা ট্রেন ভ্রমণের তালিকায় শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে ব্রিটিশ পুলম্যান। লন্ডন থেকে যাত্রা শুরু করা এই ট্রেন যেন সময়কে পেছনে ফেলে নিয়ে যায়। ট্রেনের প্রতিটি কোচ সাজানো হয়েছে ১৯২২ থেকে ১৯৩০ সালের আর্ট ডেকো নকশায়। পালিশ করা কাঠ, নরম আলো, ভিনটেজ আসবাব আর ক্ল্যাসিক সাজসজ্জা পুরো যাত্রাকে রাজকীয় করে তোলে।

যাত্রাপথে কেমব্রিজ, ইয়র্ক ও ক্যান্টারবারির সবুজ গ্রামাঞ্চল, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও খোলা মাঠ চোখে পড়ে। খাবার পরিবেশনেও রয়েছে ব্রিটিশ ঐতিহ্যের ছোঁয়া। বহু যাত্রীই বলেন, এই ট্রেনে বসে শুধু দৃশ্য নয়, পুরো একটি সময়কালকে অনুভব করা যায়।
বিশ্বের বৃহত্তম ব্যক্তিমালিকানাধীন বিলাসবহুল ট্রেন হিসেবে পরিচিত রকি মাউন্টেনিয়ার। কানাডার জ্যাস্পার ন্যাশনাল পার্ক থেকে শুরু করে পশ্চিম থেকে পূর্ব কানাডা পর্যন্ত বিস্তৃত এই যাত্রাপথ প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে স্বপ্নের মতো। পথে দেখা মেলে তুষারঢাকা পাহাড়, জলপ্রপাত, খরস্রোতা নদী ও হিমবাহ হ্রদের।

এই ট্রেনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর বিশাল কাচের জানালা, যা সিট থেকে ছাদ পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে যাত্রীদের চোখের সামনে প্রকৃতি যেন সিনেমার পর্দার মতো ভেসে ওঠে। এর পাশাপাশি ট্রেনকর্মীদের আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার যাত্রীদের ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
এই ট্রেনে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের মনে হয়, যেন কোনো অভিজাত রেস্টুরেন্ট বা ঐতিহাসিক ক্লাবে ঢুকে পড়েছেন। চকচকে কাঠের প্যানেল, সিল্কের পর্দা আর নান্দনিক আলোয় সাজানো ইস্টার্ন অ্যাপন্ড ওরিয়েন্টাল এক্সপ্রেস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম আইকনিক ট্রেন।
সিঙ্গাপুর থেকে ব্যাংকক পর্যন্ত চলা এই ট্রেনে ভ্রমণের সময় যাত্রীদের কাছে সময়ের হিসাবটাই গুলিয়ে যায়। উনিশ ও বিশ শতকের নকশা, সেবার ধরন ও পরিবেশ আপনাকে আধুনিক জীবন থেকে কিছু সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম বিলাসবহুল স্লিপার ট্রেন অ্যান্ডিয়ান এক্সপ্লোরার। পেরুর পুনো শহর থেকে কুসকো পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় চলা এই ট্রেন বিশ্বের অন্যতম উঁচু রেলপথ অতিক্রম করে। ট্রেনটিতে রয়েছে মাত্র ৩৫টি কেবিন, যা যাত্রীদের ব্যক্তিগত ও আরামদায়ক ভ্রমণের সুযোগ দেয়।
চারপাশে ছড়িয়ে থাকা পাহাড়, বিস্তীর্ণ মালভূমি আর টিটিকাকা হ্রদের আশপাশের দৃশ্য ভ্রমণকে করে তোলে শ্বাসরুদ্ধকর। পাহাড়ের মাঝ দিয়ে এমন বিলাসবহুল ও রোমাঞ্চকর ট্রেন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা খুব কমই মেলে।
ভারতের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও বিলাসবহুল ট্রেনগুলোর একটি মহারাজা এক্সপ্রেস। দিল্লি, রাজস্থানসহ ভারতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও পর্যটন এলাকা নিয়ে এই ট্রেনের রুট সাজানো। এর ভেতরের নকশা, আসবাব আর সেবা পাঁচ তারকা হোটেলের সঙ্গেও পাল্লা দেয়।
ডাইনিং এরিয়া থেকে বেডরুম, লাউঞ্জ থেকে রেস্তোরাঁ—সব জায়গাতেই রাজকীয় বিলাসের ছাপ। এই ট্রেনে ভ্রমণ করলে নিজেকে সত্যিই কোনো মহারাজার মতো অনুভব করেন যাত্রীরা।
আধুনিক জীবনের দ্রুতগতির ভ্রমণে যেখানে গন্তব্যে পৌঁছানোই মুখ্য হয়ে উঠেছে, সেখানে এই ট্রেন ভ্রমণগুলো আমাদের আবার মনে করিয়ে দেয় যাত্রার আনন্দকে। যাঁরা ভ্রমণে তাড়াহুড়ার বদলে অনুভব করাকে গুরুত্ব দেন, তাঁদের জন্য এই ট্রেনগুলো নিঃসন্দেহে জীবনে একবার হলেও উপভোগ করার মতো অভিজ্ঞতা।
সূত্র: সিএন ট্রাভেলার

শরতের সকালে গোসল করে বাইরে বের হওয়ার পরও অফিসে পৌঁছতে পৌঁছতে ঘেমে একাকার অবস্থা হচ্ছে। অনেকে বৃষ্টির দিনের মতো এই মৌসুমেও অফিসে এক সেট বাড়তি কাপড় রাখছেন। তবে যাঁরা অতিরিক্ত ঘামেন এবং মাথার ত্বক থেকে পায়ের তালু অব্দি দীর্ঘ সময় ঘেমে থাকে, তাঁরা ডাক্তারি পরীক্ষা তো করাবেনই, পাশাপাশি...
২ ঘণ্টা আগে
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সর্দিজ্বরে আক্রান্ত হওয়া একটি সাধারণ বিষয়। জ্বর চলাকালে আমরা শরীরের যত্ন নিলেও জ্বর সেরে ওঠার পর অনেকেই এক নতুন সমস্যায় পড়েন। আয়নার সামনে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে ত্বকের শুষ্কতা, ঠোঁট ফেটে যাওয়া, চোখের নিচে কালো দাগ এবং মাথায় চিরুনি চালালেই গোছা গোছা চুল উঠে আসার সমস্যা এখন ঘরে
৪ ঘণ্টা আগে
মেকআপ না থাকা সত্ত্বেও ঝলমলে ত্বক, টাইট করে বাঁধা চুল, সুতির সাদা টি-শার্ট আর হাতে এক কাপ মাচা চা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত কয়েক বছর ধরে রাজত্ব করছে ‘ক্লিন গার্ল’ নান্দনিকতা। আর এখন এই ধারার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ‘বেয়ার নেলস’ বা নেল পলিশ ছাড়া খালি নখের ফ্যাশন।
৫ ঘণ্টা আগে
পূজার আমেজ ইতিমধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। পোশাক-আশাকের বিজ্ঞাপন ও ছাড়ের বার্তা বলে দিচ্ছে আনন্দের কথা। আর উৎসবের প্রস্তুতিতে ঘরদোর একদম ঝকঝকে-তকতকে রাখা চাই। পূজার ঠিক আগের দিনগুলোতে রান্নাবান্না, নতুন পোশাক আর মণ্ডপে ঘোরার ব্যস্ততা থাকে। তাই শেষ মুহূর্তের ধকল এড়াতে এখন থেকেই একটু একটু করে ঘর ডিপ ক্লিন...
৭ ঘণ্টা আগে