
ঈদে মেকআপ আর সাজগোজ কে না করে? কিন্তু টানা কয়েক দিন মেকআপ করা, রোদে ঘুরে বেড়ানো, ঘাম আর ধুলাবালুর কারণে ত্বকের খানিকটা ক্ষতি তো হয়েছেই। সে ক্ষয়ক্ষতি সারাতে কেবল ক্লিনজিং, এক্সফোলিয়েটিং কিংবা প্যাক ব্যবহার করলেই চলবে না। ত্বকে ভেতর থেকে হাইড্রেশন দেওয়া, ভালো খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুমাতেও হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্য়ে মেকআপ করার কারণে ত্বকের ক্ষয়ক্ষতি সারিয়ে তুলে উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার জন্য কিছু কাজ নিয়ম মেনে করতেই হবে। সেগুলো জেনে নিতে পারেন এখান থেকে।
ক্লিনজিং ও হাইড্রেশন
ত্বকের ধরনের সঙ্গে মানানসই একটি মৃদু ক্লিনজার বেছে নিন। যেমন শুষ্ক ত্বকের জন্য হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ও তৈলাক্ত ত্বকের জন্য স্যালিসিলিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ ফেসওয়াশ। ফেসওয়াশের পর ত্বক টোনার দিয়ে হাইড্রেট করতে হবে। এ জন্য গোলাপজল ও গ্লিসারিনের মতো প্রাকৃতিক টোনার বেছে নিতে পারেন। এ ছাড়া প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে, যা আমাদের ত্বকে ভেতর থেকে হাইড্রেশন দেবে। প্রতিদিন কমপক্ষে ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা উচিত। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণে সাহায্য করে, ত্বক উজ্জ্বল ও সুস্থ রাখে।
সপ্তাহে দুদিন এক্সফোলিয়েশন করুন
নিয়মিত এক্সফোলিয়েট করতে পারলে ত্বক এমনিতেই সুন্দর থাকে। ত্বকের মৃত কোষ অপসারণ করতে এবং স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল ত্বক পেতে একটি ভালো ফেসিয়াল স্ক্রাব ব্যবহার করুন। আপনার ত্বক খুব সংবেদনশীল হলে একটি মৃদু স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন। এক্সফোলিয়েশন যে শুধু ত্বকের মৃত কোষ দূর করবে, তা কিন্তু নয়। এর ফলে ফেসপ্যাক, ফেসমাস্ক বা যা কিছুই লাগানো হোক না কেন, ত্বক সেটা অনেক ভালোভাবে শোষণ করতে পারবে।
চিনির দানাদার অংশ ত্বকের ওপরের মৃত কোষ ঝরিয়ে দিতে সাহায্য করে। তবে সরাসরি চিনি নয়, চিনির সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে অলিভ অয়েল এবং এক থেকে দুই ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল। মূলত ত্বকের ময়লা বা মৃত কোষ ঝরিয়ে ফেলতে চিনির স্ক্রাব ব্যবহৃত হয়। মৃত কোষ ঝরে গেলে ত্বক আরও মসৃণ এবং উজ্জ্বল দেখায়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, জিনিসটি প্রাকৃতিক এবং যেকোনো রকম ত্বকে তা ব্যবহারের উপযোগী।
সিরাম ও প্যাক
এক্সফোলিয়েট করার পর যদি আপনি আপনার মুখ ময়শ্চারাইজ না করেন, তাহলে আপনার ত্বক মলিন হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে সিরাম ও শিট মাস্ক আপনার ত্বকের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হতে পারে। এগুলো আমাদের ত্বকে পুরোপুরি পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করতে পারে। ব্রণ ও ফুসকুড়ি বেশি হয় এমন ত্বকের জন্য বেছে নিন ভিটামিন সি, জিংক, স্যালিসিলিক অ্যাসিড এবং রেটিনলযুক্ত সিরাম। জিংক ত্বকের জ্বালা ভাব ও অস্বস্তি দূর করে। রেটিনল ফোলা ভাব কমায়। স্যালিসিলিক অ্যাসিড রোমকূপ পরিষ্কার করে। ভিটামিন ‘সি’ ত্বকে তেল উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। একইভাবে শুষ্ক ত্বকের জন্য বেছে নিন ভিটামিন ‘ই’, গ্লাইকোলিক অ্যাসিড ও হাইড্রোলিক অ্যাসিডযুক্ত সিরাম। এর উপাদানগুলো ত্বক ময়শ্চারাইজ করে, এক্সফোলিয়েট করে এবং স্থিতিস্থাপকতা বাড়িয়ে ত্বক করে তোলে কোমল।
সুষম খাবার
আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন ফল এবং শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত করুন, যা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এ, সি এবং ই আর অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। উজ্জ্বল ত্বকের জন্য ভালো খাবার হলো পালংশাক, গাজর, মিষ্টি আলু, সবুজ চা, ডার্ক চকলেট, আখরোট, টমেটো ও ব্রুকলি।
ঘুমাতে যাওয়ার আগে ত্বকের যত্ন
ত্বকের মেরামত প্রক্রিয়া রাতে সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। ঘুমানোর আগে মুখে যেকোনো ক্রিম, ময়শ্চারাইজার বা প্যাক ব্যবহারের আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে, যাতে কোনো ধরনের ময়লা বা মেকআপ ত্বকে লেগে না থাকে। এতে করে ত্বক পুষ্টি পাবে ও ক্ষয়ক্ষতি সারিয়ে উঠবে।
লেখক: কসমেটোলজিস্ট ও স্বত্বাধিকারী, শোভন মেকওভার
মডেল: ঐশী, ছবি: মঞ্জু আলম

এক মাস রোজা রাখার পর শরীরের বিপাকীয় হার বা মেটাবলিজম একটি ভিন্ন ছন্দে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এরপর ঈদের আনন্দ আর খাওয়াদাওয়ার উৎসব শেষে অনেকে দ্রুত ওজন কমাতে বা সুস্থ হতে আবারও ডায়েট শুরু করেন। কিন্তু ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা ডায়েট পরিকল্পনা উপকারের চেয়ে শরীরের বেশি ক্ষতি করতে পারে...
৬ ঘণ্টা আগে
সারা বছর হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে কিছুদিনের বাৎসরিক ছুটি কি আসলেই যথেষ্ট? পরিবারকে সময় দেওয়া, ঘুরতে যাওয়া কিংবা নিজেকে একটু সময় দেওয়ার জন্য এটুকু ছুটি অনেক সময়ই কম মনে হয়। আর এ সুযোগে বিশ্বজুড়ে করপোরেট কর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এক নতুন ট্রেন্ড—সফট অফ ডে। ইন্টারনেটে একে এলিট করপোরেট হ্যাক বলা...
৮ ঘণ্টা আগে
ঈদের দিন একটু ভিন্ন স্বাদের কিন্তু সুস্বাদু খাবার খেতে সবার মন চায়। এবার গরুর মাংসটা একটু ভিন্ন ঘরানায় রান্না করে দেখতে পারেন। রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা...
১১ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আমাদের শরীরের পরিপাকতন্ত্র এবং মেটাবলিজম একটি নির্দিষ্ট ধারায় অভ্যস্ত হয়ে যায়। ঈদের পর হঠাৎ অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস আপনার শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ঈদের আনন্দকে বিষাদে রূপ না দিতে চাইলে খাবারের গুণগত মান ঠিক রেখে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন। মনে রাখবেন, পরিমিত খাবার...
১ দিন আগে