
সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করলে ইদানীং একধরনের মিম খুব চোখে পড়ে—পিৎজা অর্ডার করতে গিয়ে দশবার মনে মনে রিহার্সাল করা। কিংবা লিফটে পরিচিত কাউকে দেখে সিঁড়ি দিয়ে ১০ তলায় উঠে যাওয়া। বিষয়গুলোকে আমরা ইনট্রোভার্ট বা অন্তর্মুখী স্বভাবের তকমা দিয়ে বেশ মজা পাই। এমনকি ইদানীং ইনট্রোভার্ট হওয়াটা অনেকটা ‘কুল’ বা ট্রেন্ডি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটা কি আমরা দেখেছি? মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, আপনি যাকে নিজের ‘ইনট্রোভার্ট’ স্বভাব বলে গর্ব করছেন, তা আসলে ‘সোশ্যাল অ্যাংজাইটি’ বা সামাজিক ভীতি হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। আপনি মানুষের সঙ্গ পছন্দ করেন না বলে একা থাকেন, নাকি মানুষকে ভয় পান বলে একা থাকতে বাধ্য হন? পার্থক্যটা ঠিক এখানেই।
‘ইনট্রোভার্ট’ বনাম ‘সোশ্যাল অ্যাংজাইটি’
ইনট্রোভার্ট হওয়া একটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। একজন ইনট্রোভার্ট মানুষ ভিড়ের চেয়ে একাকিত্ব বা নির্জনতা উপভোগ করেন। কারণ, এতে তিনি মানসিক শক্তি ফিরে পান। অন্যদিকে, সোশ্যাল অ্যাংজাইটি হলো একটি মানসিক অবস্থা, যেখানে মানুষ সামাজিক পরিবেশে অপমানিত বা লজ্জিত হওয়ার ভয়ে কুঁকড়ে থাকে। সহজভাবে বললে ইনট্রোভার্ট হওয়াটা আপনার পছন্দ। আর সোশ্যাল অ্যাংজাইটি হলো আপনার অসহায়ত্ব।
ইনট্রোভার্ট হওয়া নাকি পালানো
রেডিট বা টাম্বলারের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে দেখা যায়, প্রায় ৭৫ শতাংশ পোস্ট মানুষের সঙ্গে মেলামেশা নিয়ে ভয়, অস্বস্তি বা বিরক্তি সম্পর্কিত। এখানে একটি সূক্ষ্ম ফাঁদ রয়েছে। যখন আমরা নিজের সামাজিক ভয়কে ইনট্রোভার্ট বলে মেনে নিই, তখন আমরা আসলে সমস্যাটি সমাধানের বদলে তা থেকে পালানোর বৈধতা পেয়ে যাই। সোশ্যাল অ্যাংজাইটি সব সময় চায় আপনি যেন মেলামেশা এড়িয়ে চলেন। আর আপনি ‘আমি তো ইনট্রোভার্ট’ বলে সেই এড়িয়ে চলাকে জাস্টিফাই করেন।
আত্মবিশ্বাসী ইনট্রোভার্ট হওয়া সম্ভব
অবশ্যই! সব ইনট্রোভার্টই লাজুক বা ইনসিকিউর নন। অনেক ইনট্রোভার্ট আছেন যাঁরা চমৎকার পাবলিক স্পিকার বা দক্ষ টিম লিডার। তাঁরা মানুষের সঙ্গে সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন, কিন্তু কাজ শেষে তাঁরা নিজের জন্য কিছুটা নিভৃত সময় চান। অন্যদিকে, একজন এক্সট্রোভার্ট বা বহির্মুখী মানুষেরও সোশ্যাল অ্যাংজাইটি থাকতে পারে। তিনি হয়তো মানুষের মাঝে থাকতে খুব ভালোবাসেন, কিন্তু অন্যরা তাঁকে নিয়ে কী ভাবছে, সে বিষয় নিয়ে সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকেন।
নিজেকে চেনার জন্য কিছু প্রশ্ন
ডা. এলেন হেনরিকসেন একটি চমৎকার তত্ত্ব দিয়েছেন। নিজেকে প্রশ্ন করুন, ‘যদি আমি নিজের ওপর ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী হতাম এবং মানুষের বিচারের ভয় না থাকত, তবে কি আমার সামাজিক জীবন এখনকার মতোই হতো?’ যদি উত্তর ‘না’ হয় অর্থাৎ আপনি আরও বেশি মানুষের সঙ্গে মিশতেন বা আড্ডায় যেতেন, তবে নিশ্চিত থাকুন আপনার সমস্যাটি অন্তর্মুখিতা নয়। এটা আসলে সোশ্যাল অ্যাংজাইটি।
ইনট্রোভার্টরা যেসব পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে চান
একা থাকা অপরাধ নয়। তবে সেই একা থাকাটা যদি ভয় থেকে আসে, তবে তা আপনার ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নতির পথে বাধা হতে পারে। আপনি ইনট্রোভার্ট হতে পারেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু খেয়াল রাখুন, আপনার সেই অন্তর্মুখিতার আড়ালে কোনো মানসিক ভীতি যেন আপনার ডানা না ছেঁটে দেয়। নিজেকে জানুন, নিজের ভয়গুলোকে চিনুন— তবেই আপনি নির্জনতাকেও উপভোগ করতে পারবেন, আবার ভিড়েও হতে পারবেন আত্মবিশ্বাসী।
সূত্র: মিডিয়াম, সাইকোলজি টুডে, স্টার্স ইনসাইডার

বর্তমান বিশ্বের পর্যটন খাতে বড় পরিবর্তনটি এনেছেন নারীরা। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, এককভাবে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে নারীরা এখন এগিয়ে আছে। বিশেষ করে ৫০ বছর বয়সের বেশি নারীরা কোনো সঙ্গীর অপেক্ষা না করেই বেরিয়ে পড়ছেন অজানার সন্ধানে। গত পাঁচ বছরে ইন্টারনেটে ‘নারীদের একা ভ্রমণ’ লিখে সার্চ করার হার...
৪ ঘণ্টা আগে
শৈশব থেকে আমরা একটি প্রবাদ শুনে বড় হয়েছি ‘পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি’। কিন্তু আধুনিক করপোরেট দুনিয়া এবং উদ্যোক্তাদের ভিড়ে এই ধারণা কিছুটা বদলে গেছে। এখন বলা হয়, ‘ওয়ার্ক স্মার্টার, নট হার্ডার’। অর্থাৎ কঠোর নয়, কৌশলগত পরিশ্রমই আসল। অনেকে দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পান না। আবার কেউ...
৬ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষ একইভাবে এই অনিদ্রার শিকার নয়। কেউ হয়তো গভীর ঘুমে শান্তির রাত কাটাচ্ছে, আবার কেউ সূর্য ওঠার আগেই কর্মস্থলে ছুটছে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার কাঁচা ঘুম চোখে নিয়ে। বৈশ্বিক ঘুমের এই মানচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মহাদেশভেদে মানুষের জীবনযাত্রা আর সংস্কৃতি তাদের ঘুমের ধরনে এক...
৮ ঘণ্টা আগে
সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জেমস বন্ড বা সুপারম্যান মনে হতে পারে। তবে সাবধান! অফিসে যাওয়ার পথে বা কাজের শুরুতে সেই আত্মবিশ্বাস আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে। নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে গিয়ে এমন কোনো ফাইলে হাত দেবেন না যা আপনি বোঝেন না।
১২ ঘণ্টা আগে