Ajker Patrika

চাকরির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে মানসম্মত সিভি বানান

মাহাবুব খান এলিন
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩: ২৯
চাকরির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে মানসম্মত সিভি বানান

চাকরিপ্রার্থীর পরিচয়ের প্রথম মাধ্যম হলো তাঁর সিভি। একটি পরিপাটি, তথ্যসমৃদ্ধ ও আকর্ষণীয় সিভি চাকরিদাতার কাছে আপনাকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকে শুরু করে পেশাগত জীবনের প্রতিটি ধাপেই সিভি বা জীবনবৃত্তান্তের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে সিভির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। প্রসপেক্টাস ও ব্রিটিশ কাউন্সিল অবলম্বনে মানসম্মত সিভি নিয়ে লিখেছেন মো. তাহমিদ আল মাহাবুব খান এলিন

দেশের চাকরির বাজারে চাহিদার তুলনায় সুযোগ কম। ফলে একজন চাকরিপ্রার্থীকে প্রবল প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে এগোতে হয়। এ প্রতিযোগিতায় একটি মানসম্মত সিভি আপনাকে অন্যদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রাখতে পারে। বাস্তবতা হলো, প্রথম দেখাতেই যদি নিয়োগকর্তার কাছে সিভিটি ভালো লাগে, তবে সাক্ষাৎকারে ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অনেকের ধারণা, সিভি যত বড় ও ভারী হবে, তত ভালো। কিন্তু বাস্তবে এ ধারণা ভুল। বরং অল্প কথায় নিজেকে স্পষ্ট ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরাই একটি ভালো সিভির মূল কৌশল। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, একজন নিয়োগকর্তা একটি সিভি দেখতেই গড়ে ১ মিনিটের কম সময় ব্যয় করেন। তাই সময় নিয়ে, মনোযোগ দিয়ে সঠিকভাবে সিভি তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

নাম ও যোগাযোগের তথ্য

সিভির শুরুতেই প্রার্থীর নাম ও যোগাযোগের ঠিকানা থাকতে হবে। ‘কারিকুলাম ভিটা’ বা ‘সিভি’ শব্দটি শিরোনাম হিসেবে ব্যবহার না করে নিজের নামকেই শিরোনাম করা ভালো। যোগাযোগের তথ্য স্পষ্টভাবে লিখতে হবে। ই-মেইল ঠিকানা ও মোবাইল ফোন নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি হালনাগাদ লিংকডইন প্রোফাইলের লিঙ্ক যুক্ত করলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। এই অংশে সাম্প্রতিক ও পরিপাটি একটি ছবি ব্যবহার করা উচিত।

ব্যক্তিগত প্রোফাইল

সিভির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ব্যক্তিগত প্রোফাইল। এখানে আপনার কর্মজীবনের লক্ষ্য এবং আপনি প্রতিষ্ঠানকে কী দিতে পারবেন, তা সংক্ষেপে তুলে ধরতে হবে। দুই থেকে তিনটি বাক্যের মধ্যেই বিষয়টি শেষ করা শ্রেয়। বক্তব্য যেন হয় স্পষ্ট, বাস্তবধর্মী ও আকর্ষণীয়।

পেশাগত অভিজ্ঞতা

পূর্ববর্তী চাকরি, ইন্টার্নশিপ বা কাজের অভিজ্ঞতা এই অংশে উল্লেখ করতে হবে। সর্বশেষ কর্মস্থল দিয়ে শুরু করে পর্যায়ক্রমে আগের অভিজ্ঞতাগুলো লিখুন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নাম, দায়িত্বের বিবরণ, অর্জন এবং কাজের সময়কাল স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সদ্য স্নাতকদের ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

শিক্ষাগত যোগ্যতা লেখার ক্ষেত্রেও সর্বশেষ ডিগ্রি দিয়ে শুরু করে ক্রমানুসারে মাধ্যমিক পর্যন্ত তথ্য দিতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নামের পাশে পাসের সাল ও জিপিএ উল্লেখ করা আবশ্যক। ফলাফল প্রকাশ না হলে ‘অ্যাপিয়ার্ড’ লেখা যেতে পারে।

প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা

সদ্য স্নাতকদের জন্য এই অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু তাঁদের পেশাগত অভিজ্ঞতা কম থাকে, তাই প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা তাঁদের সিভিকে শক্তিশালী করে। প্রশিক্ষণের বিষয়, সময়কাল ও স্থান উল্লেখ করা উচিত।

শখ ও আগ্রহ

সাধারণ ও অস্পষ্ট শখ—যেমন ভ্রমণ বা প্রকৃতি উপভোগ এড়িয়ে চলাই ভালো। বরং এমন শখ উল্লেখ করুন, যা আপনার নিষ্ঠা, নেতৃত্ব বা দলগত কাজের দক্ষতা প্রকাশ করে। সামাজিক বা দলগত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ইতিবাচক শখ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ভাষা ও কম্পিউটার দক্ষতা

বাংলাদেশে চাকরির ক্ষেত্রে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অপরিহার্য। ইংরেজি ভাষা দক্ষতার ক্ষেত্রে আইইএলটিএস, টোয়েফল বা পিটিই পরীক্ষার স্কোর উল্লেখ করা যেতে পারে। পাশাপাশি কম্পিউটার দক্ষতা এখন প্রায় সব চাকরির জন্যই প্রয়োজনীয়। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল ও পাওয়ার পয়েন্টের পাশাপাশি গ্রাফিক ডিজাইন বা ভিডিও এডিটিংয়ের দক্ষতা থাকলে তা উল্লেখ করুন।

রেফারেন্স ও অঙ্গীকারনামা

রেফারেন্স হিসেবে যে কাউকে দেওয়া গেলেও সদ্য স্নাতকদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা উত্তম বিকল্প। অবশ্যই তাঁদের অনুমতি নিয়ে নাম, পদবি, প্রতিষ্ঠান ও যোগাযোগের তথ্য দিতে হবে। সিভির শেষে অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করতে হবে—সব তথ্য সত্য ও নির্ভুল। স্বাক্ষর সংযুক্ত করা আবশ্যক।

কিছু জরুরি বিষয়

সিভিতে টাইমস নিউ রোমান, অ্যারিয়াল বা ভারদানা ফন্ট ব্যবহার করা নিরাপদ। ফন্ট সাইজ ১১-এর কম হওয়া উচিত নয়। অপ্রয়োজনীয় বিশেষণ এড়িয়ে চলুন এবং সিভি সংক্ষিপ্ত রাখুন—সাধারণত দুই পৃষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখাই ভালো। বানান, ভাষা ও কাঠামোগত ভুল এড়াতে সিভি জমা দেওয়ার আগে ভালোভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।

সূত্র: প্রসপেক্টাস, ব্রিটিশ কাউন্সিল

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত