Ajker Patrika

নমুনা ভাইভা: জিআইয়ের স্বীকৃতি পেলে লাভ কী?

এম এম মুজাহিদ উদ্দীন
নমুনা ভাইভা: জিআইয়ের স্বীকৃতি পেলে লাভ কী?

আরাফাত শাহীন পড়াশোনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে। ৪৫তম বিসিএসে তিনি সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি ভাইভা বোর্ডে ১৪-১৫ মিনিট ছিলেন। ১১ জনের মধ্যে তাঁর সিরিয়াল ছিল আট। এদিকে কাকতালীয়ভাবে শিক্ষা ক্যাডারে তাঁর মেধাক্রমও ছিল আট। তাঁর ভাইভা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া। আরাফাত প্রথমে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। অনুমতি পেলে সবার উদ্দেশে সালাম দিলেন। চেয়ারম্যান বসতে বললে তিনি তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে বসে পড়েন।

চেয়ারম্যান: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, তাই না?

আরাফাত শাহীন: জি স্যার।

চেয়ারম্যান: রাজশাহীতে তো অনেক আম উৎপাদন হয়। ওখান থেকে আম খাওয়া হয়েছে?

আরাফাত শাহীন: জি স্যার। আম খাওয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান: কী কী আম খেয়েছেন? পাঁচটি আমের নাম বলুন তো।

আরাফাত শাহীন: ক্ষীরশাপাতি, ফজলি, ল্যাংড়া (তিনটা বলার পর আর কিছুতেই মনে এল না। সরি স্যার, মনে আসছে না বললাম।)

চেয়ারম্যান: জিআই বলতে কী বোঝায়?

আরাফাত শাহীন: জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন বা ভৌগোলিক নির্দেশক।

চেয়ারম্যান: জিআইয়ের স্বীকৃতি পাওয়া আম কী কী?

আরাফাত শাহীন: ফজলি, ক্ষীরশাপাতি।

চেয়ারম্যান: আচ্ছা, জিআইয়ের স্বীকৃতি পেলে লাভ কী?

আরাফাত শাহীন: জিআই স্বীকৃতি পেলে কোনো পণ্যের ব্র্যান্ড ভ্যালু বেড়ে যায়। অন্য কেউ আর এটার স্বীকৃতি দাবি করতে পারে না।

চেয়ারম্যান: আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় মাদ্রাসাশিক্ষাকে কি মূলধারায় যুক্ত করার প্রয়োজন আছে, আপনার মতামত কী?

আরাফাত শাহীন: আলিয়া মাদ্রাসা ও কওমি মাদ্রাসার প্রসঙ্গ টেনে এনে আমার মতামত দিলাম।

চেয়ারম্যান: আপনি তো ইসলামের ইতিহাসে পড়াশোনা করেছেন। ইসলামি জ্ঞানও মোটামুটি থাকার কথা। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ২ মিনিটের একটি বক্তব্য দেন। বিষয় হলো: ধর্মীয় মূল্যবোধ শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা।

আরাফাত শাহীন: আমাকে দাঁড়িয়ে বলার অনুমতি দিলে সেভাবেই ২ মিনিটের মতো বললাম। স্যার সন্তুষ্ট হলেন কি না, মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারিনি।

চেয়ারম্যান এক্সটার্নাল-১-এর দিকে চেয়ে প্রশ্ন করতে বললেন।

এক্সটার্নাল-১: আপনাদের মাস্টার্সে গ্রুপ কয়টা?

আরাফাত শাহীন: স্যার, চারটি। এরপর ভুল বলেছি মনে করে একটি বললাম।

এক্সটার্নাল-১: একটি হবে কেন?

আরাফাত শাহীন: সরি স্যার, চারটি।

এক্সটার্নাল-১: আপনি কোন গ্রুপে ছিলেন?

আরাফাত শাহীন: বি গ্রুপ। মিডল ইস্ট ইন মডার্ন টাইমস।

এক্সটার্নাল-১: আচ্ছা, আপনি তো মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংজ্ঞা বলুন তো।

আরাফাত শাহীন: নিজের মতো করে গুছিয়ে বলার চেষ্টা করলাম। স্যারকে সন্তুষ্ট মনে হলো না।

এক্সটার্নাল-১: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দুজন প্রফেসর ইমেরিটাস ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের। দুজনের একজন মারা গেছেন; অন্যজন জীবিত আছেন। যিনি মারা গেছেন, তাঁর নাম বলতে পারবেন?

আরাফাত শাহীন: ড. এ বি এম হোসেন।

এক্সটার্নাল-১: মধ্যপ্রাচ্যের ওপর তাঁর লেখা একটি বই আছে। নাম জানেন?

আরাফাত শাহীন: জি, স্যার। বইটির নাম ‘আধুনিক মধ্যপ্রাচ্য: অটোম্যান সাম্রাজ্য থেকে জাতিসত্তা রাষ্ট্র’।

এক্সটার্নাল-১: বইটি প্রকাশ করেছে কোন প্রতিষ্ঠান?

আরাফাত শাহীন: বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। (কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর উত্তরটা মনে এল। অবশ্য স্যার কিছুটা সাহায্য করেছেন।)

এক্সটার্নাল-১: ওই বইয়ে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে এক লাইনে সুন্দর একটা সংজ্ঞা আছে। সেটি বলতে পারবেন?

আরাফাত শাহীন: সরি স্যার। অনেক আগে পড়েছি তো; এ জন্য মনে করতে পারছি না।

এক্সটার্নাল-১: মধ্যপ্রাচ্যে একটি শিয়া রাষ্ট্র আছে। কোনটি?

আরাফাত শাহীন: স্যার, ইরান।

এক্সটার্নাল-১: ইরান শিয়াদের কোন মতবাদ অনুসরণ করে?

আরাফাত শাহীন: স্যার, বারো ইমামপন্থী। ইসনা আশারিয়া।

এক্সটার্নাল-১: সৌদি আরবের শাসন পদ্ধতি কী?

আরাফাত শাহীন: রাজতন্ত্র।

এক্সটার্নাল-১: মধ্যপ্রাচ্যের আর কোন দেশে রাজতন্ত্র চালু আছে?

আরাফাত শাহীন: স্যার, জর্ডান।

এক্সটার্নাল-১: আর কোন দেশ?

আরাফাত শাহীন: ওমান। (এটা বলার সময় আত্মবিশ্বাস পাচ্ছিলাম না)।

এক্সটার্নাল-১: সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা কে?

আরাফাত শাহীন: সরি স্যার।

এক্সটার্নাল-১: সৌদি আরব দেশটির নামকরণ হয়েছে কার নামে?

আরাফাত শাহীন: স্যার, মুহাম্মদ আল সৌদ।

এক্সটার্নাল-১: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার উপাধি কী? ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে অপসারণ করা যাবে? সংবিধানে কী আছে?

আরাফাত শাহীন: স্যার, অপসারণ করা যাবে না।

এক্সটার্নাল-১: লেবাননে বসবাস করে এমন কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীর নাম বলুন।

আরাফাত শাহীন: সুন্নি, শিয়া, দ্রজ জনগোষ্ঠী।

এক্সটার্নাল-১: দ্রজদের কি মুসলিম বলে মেনে নেওয়া হয়?

আরাফাত শাহীন: জি স্যার। তারা মুসলিম সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচিত হয়।

এক্সটার্নাল-১: দ্রজরা কোন মতবাদে বিশ্বাসী?

আরাফাত শাহীন: শিয়া।

এক্সটার্নাল-১: লেবাননের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এ বিষয়ে জানা আছে?

আরাফাত শাহীন: সরি স্যার, আমার জানা নেই।

এক্সটার্নাল-১: লেবাননের সংবিধানে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে কী বলা আছে?

আরাফাত শাহীন: প্রেসিডেন্ট সুন্নিদের মধ্য থেকে, প্রধানমন্ত্রী শিয়া আর প্রধান বিচারপতি দ্রজদের মধ্য থেকে।

এক্সটার্নাল-১: লেবাননের জনসংখ্যার একটা বড় অংশ ম্যারোনাইট খ্রিষ্টান। ক্ষমতায় তাদের অবস্থান কী?

আরাফাত শাহীন: আমি কয়েক সেকেন্ড চিন্তা করে সরি বললাম।

এরপর এক্সটার্নাল-২ আমাকে প্রশ্ন করলেন। তিনি আমাকে মাত্র একটি প্রশ্ন করলেন।

হামাসের উত্থান কীভাবে হলো?

আরাফাত শাহীন: ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের কথা বলে ফাতাহ ও হামাসের উৎপত্তি নিয়ে বলার চেষ্টা করলাম। ফাতাহ প্রসঙ্গ আসার কারণে এক্সটার্নাল-২-এর কাছ থেকে নিয়ে চেয়ারম্যান নিজেই প্রশ্ন করলেন।

চেয়ারম্যান: হামাস ও ফাতাহের মধ্যে পার্থক্যের জায়গাটা কোথায়?

আরাফাত শাহীন: ফাতাহ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা পেতে চায়। আর হাসাম লড়াই করে করে ক্ষমতা পেতে চায়। হামাস নিজেদের স্বাধীনতাকামী হিসেবে পরিচয় দেয়।

এটাই ছিল আরাফাতের জন্য শেষ প্রশ্ন। এরপর চেয়ারম্যান তাঁকে কাগজপত্র নিয়ে চলে যেতে বললেন। তিনি স্যারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বের হওয়ার সময় সালাম দিয়ে বের হয়ে এলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত