নফল একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো অতিরিক্ত বা ঐচ্ছিক। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় ফরজ ও ওয়াজিবের অতিরিক্ত ইবাদতকে নফল বলা হয়। এসব আমলে রয়েছে অঢেল সওয়াব; তবে তা ত্যাগ করলে কোনো গুনাহ বা তিরস্কার নেই।
ইসলামে নফল ইবাদতের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। কিয়ামতের কঠিন দিনে নফল ইবাদত বান্দার জন্য অনেক বড় সহায় হয়ে দাঁড়াবে। সেদিন কারও ফরজ ইবাদতে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে নফল ইবাদতের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ করা হবে। আবু দাউদ শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব হবে। কারও ফরজ নামাজে ত্রুটি থাকলে আল্লাহ ফেরেশতাদের বলবেন—দেখো আমার বান্দার কোনো নফল নামাজ আছে কি না? থাকলে তা দিয়ে ফরজের দুর্বলতা পূরণ করে দাও।’
দৈনন্দিন জীবনে অনেক নফল ইবাদত আমরা সহজে করতে পারি; যেমন নফল নামাজ আদায়, জিকির-আজকার, তাসবিহ পাঠ, দরুদ পাঠ, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা, কবর জিয়ারত এবং মাসনুন দোয়াগুলো পাঠ করা। এমনকি মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা কিংবা সব সময় অজু অবস্থায় থাকাও নফল ইবাদতের সওয়াব এনে দেয়।
প্রকৃতপক্ষে ফরজ ও ওয়াজিব পালনের পর নফল ইবাদতে মশগুল থাকা আল্লাহর প্রতি বান্দার অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। মানুষের পক্ষে শতভাগ নির্ভুলভাবে ফরজ আদায় করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। নফল ইবাদত সেই অপূর্ণতা দূর করে এবং বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করে। মুসলিম শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, নফল ইবাদতের মাধ্যমে সগিরা গুনাহ মাফ হয় এবং বান্দা আল্লাহর প্রিয়জনে পরিণত হয়।
মুসনাদে আহমাদের একটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) এত বেশি নফল ইবাদত ও তাহাজ্জুদ পড়তেন যে তাঁর পবিত্র পা ফুলে যেত। জান্নাতে নবীজি (সা.)-এর প্রতিবেশী হওয়ার আমলও হলো বেশি বেশি নফল ইবাদত করা। একবার রাবিয়া ইবনে কাব আসলামি (রা.) জান্নাতে নবী করিম (সা.)-এর সঙ্গী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বলেছিলেন, ‘অধিক সিজদার (নফল নামাজের) মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করো।’ (সহিহ্ মুসলিম)
অনেকে মনে করেন, নফল না পড়লে গুনাহ নেই, তাই এটি করার প্রয়োজন নেই। মনে রাখা উচিত, আখিরাতের চূড়ান্ত হিসাবে ফরজের ঘাটতি মেটানোর একমাত্র উপায় হবে এই নফল ইবাদত। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বেশি বেশি নফল ইবাদত করার এবং তাঁর নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করুন।
লেখক: শিক্ষক ও গবেষক

ক্ষমা একটি উচ্চতর মানবিক গুণ। পবিত্র কোরআনের বর্ণনায় আল্লাহ তাআলা পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু। আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো অন্যকে ক্ষমা করার মানসিকতা রাখা। ক্ষমার এই গুণ মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবী (সা.)-কে অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং মুমিনদের জন্য একে জান্নাত লাভের অছিলা হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
৬ ঘণ্টা আগে
ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইতিহাসে যেসব মনীষী তাঁদের মেধা ও গবেষণার মাধ্যমে অমর হয়ে আছেন, তাঁদের মধ্যে ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) অন্যতম। তিনি একাধারে শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, ইতিহাসবিদ ও আইনবিদ। তাঁর পাণ্ডিত্য ও অবদানের কারণে তাঁকে আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস বা হাদিসশাস্ত্রের সেনাপতি বলা হয়।
৭ ঘণ্টা আগে
জায়েদের কথায় মুহাম্মদ (সা.)-এর হৃদয় ভরে গেল। ভালোবাসার গভীর স্রোত তাঁর চোখে জল এনে দিল। তিনি জায়েদকে নিয়ে কাবার চত্বরে গেলেন, কুরাইশদের সামনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন, ‘হে মক্কাবাসী, তোমরা শুনে রাখো, জায়েদ আজ থেকে মুক্ত। শুধু মুক্তই নয়—সে আমার সন্তান। সে আমার ওয়ারিশ, আমি তাঁর ওয়ারিশ।’
৭ ঘণ্টা আগে
পবিত্র রমজান মাস মুমিনের জন্য ইবাদতের বসন্তকাল। এই মাসে প্রতিটি আমলের প্রতিদান আল্লাহ তাআলা বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। রোজা পালনকালে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত কিছু শারীরিক বিষয় নিয়ে আমরা সংশয়ে ভুগি। এর মধ্যে অন্যতম হলো—রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হওয়া।
৮ ঘণ্টা আগে