Ajker Patrika

অন্যকে ক্ষমা করলে আল্লাহ যে প্রতিদান দেবেন

ইসলাম ডেস্ক 
অন্যকে ক্ষমা করলে আল্লাহ যে প্রতিদান দেবেন
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমা একটি উচ্চতর মানবিক গুণ। পবিত্র কোরআনের বর্ণনায় আল্লাহ তাআলা পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু। আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো অন্যকে ক্ষমা করার মানসিকতা রাখা। ক্ষমার এই গুণ মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবী (সা.)-কে অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং মুমিনদের জন্য একে জান্নাত লাভের অছিলা হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

ক্ষমা মহান আল্লাহর বিশেষ গুণ

আল্লাহ তাআলার একটি গুণবাচক নাম হলো ‘আল-গাফুর’ বা পরম ক্ষমাশীল। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় তিনি আল্লাহ, ক্ষমাশীল, পরম ক্ষমাপরায়ণ।’ (সুরা হজ: ৬০)। আল্লাহ যেমন তাঁর বান্দাদের অগণিত ভুল ক্ষমা করেন, তেমনি তিনি চান তাঁর বান্দারাও যেন একে অপরকে ক্ষমা করতে শেখে।

নবীজি (সা.)-কে ক্ষমার নির্দেশ

আল্লাহ তাআলা নবী করিম (সা.)-কে ক্ষমার নীতি অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘(হে নবী) আপনি ক্ষমাশীলতার নীতি অবলম্বন করুন। সৎকাজের আদেশ দিন এবং মূর্খদের এড়িয়ে চলুন।’ (সুরা আরাফ: ১৯৯)। তাফসিরে তাবারিতে উল্লেখ আছে, জিবরাইল (আ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন—‘আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যে আপনার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে, আপনি তার সঙ্গে যুক্ত থাকুন, যে আপনাকে বঞ্চিত করে, তাকে দান করুন এবং যে আপনার ওপর জুলুম করে, তাকে ক্ষমা করে দিন।’

ক্ষমাশীলদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ

পবিত্র কোরআনে ক্ষমাকে পরকালীন সমৃদ্ধির উপায় বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে ধাবিত হও, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের সমান...যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকিদের জন্য; যারা রাগ সংবরণ করে এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৩৩-১৩৪)

ক্ষমা তাকওয়া ও সাহসিকতার পরিচয়

মানুষকে ক্ষমা করে দেওয়া দুর্বলতা নয়, বরং এটি সাহসিকতার কাজ। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি ধৈর্য ধরবে ও ক্ষমা করবে, সন্দেহাতীতভাবে তা বড় উচ্চমানের সাহসিকতাপূর্ণ কাজের অন্যতম।’ (সুরা আশ-শুরা: ৪৩)। এ ছাড়া সুরা বাকারার ২৩৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘ক্ষমা করে দেওয়াই তাকওয়ার নিকটতম।’

নবীজি (সা.)-এর জীবনে ক্ষমার দৃষ্টান্ত

রাসুলুল্লাহ (সা.) ব্যক্তিগত কোনো কষ্টের প্রতিশোধ কখনো নেননি।

একবার এক বেদুইন নবীজির চাদর এত জোরে টেনে ধরল যে, তাঁর গলায় দাগ পড়ে গেল। কিন্তু নবীজি (সা.) রাগ না করে মুচকি হেসে তাকে যা প্রয়োজন, তা দিয়ে দিতে বললেন।

চরম শত্রু, যারা নবীজিকে দেশছাড়া করেছিল, মক্কা বিজয়ের দিন তিনি তাদের সবাইকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে বলেছিলেন—‘আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।’

ক্ষমা করলে মর্যাদা কমে না, বাড়ে

অনেকে মনে করেন, ক্ষমা করলে মানুষ তাকে দুর্বল ভাববে। কিন্তু হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘সদকা করাতে সম্পদের ঘাটতি হয় না। যে ব্যক্তি ক্ষমা করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। আর যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনীত হয়, আল্লাহ তার সম্মান উন্নত করেন।’ (সহিহ্ মুসলিম: ২৫৮৮)

ক্ষমা দৃঢ় সংকল্প ও ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। পূর্ণ মুমিন হতে হলে এবং আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে আমাদের অবশ্যই ক্ষমা ও সহনশীলতার পথ অনুসরণ করতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত