হজ ও ওমরাহর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন বিধান হলো কাবা শরিফ তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করা। পবিত্র কাবার চারপাশ নির্দিষ্ট নিয়মে মোট সাতবার চক্কর দেওয়াকে তাওয়াফ বলা হয়।
তাওয়াফ শুরুর প্রথম নিয়ম হলো ‘হাজারে আসওয়াদ’ (কালো পাথর) বরাবর যাওয়া। এরপর ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে সম্ভব হলে এ পাথরে চুমু দিয়ে কিংবা ভিড়ের কারণে সম্ভব না হলে দূর থেকে ইশারা (ইস্তিলাম) করে তাওয়াফ শুরু করতে হয়।
বিশেষ করে, হজ ও রমজানের মৌসুমে প্রচণ্ড ভিড় থাকায় বয়স্ক, নারী ও অসুস্থদের জন্য পাথরে সরাসরি চুমু দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে হাত দিয়ে দূর থেকে ইশারা করে হাতে চুমু দিলেই তাওয়াফের প্রথম সুন্নত আদায় হয়ে যায়।
তাওয়াফ শুরু করার সময় এই দোয়া পড়া সুন্নত:
اَللَّهُمَّ إِيْمَانًا بِكَ وَتَصْدِيْقًا بِكِتَابِكَ وَوَفَاءً بِعَهْدِكَ وَاتِّبَاعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ঈমানান বিকা, ওয়া তাসদিকান বিকিতাবিকা, ওয়া অফায়ান বি’আহদিকা, ওয়াত্তিবা’আন লিসুন্নাতি নাবিইয়িকা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ, তোমার প্রতি ইমান এনে, তোমার কিতাবের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে, তোমার সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করার লক্ষ্যে এবং তোমার নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণের উদ্দেশ্যেই আমি এই তাওয়াফ করছি।’
পুরুষদের জন্য ইহরাম অবস্থায় তাওয়াফ শুরুর আগে ‘ইজতিবা’ করা সুন্নত। অর্থাৎ, ইহরামের চাদরের এক পাশ ডান বগলের নিচ দিয়ে এনে বাম কাঁধের ওপর জড়িয়ে দিতে হবে, যেন ডান কাঁধ ও বাহু উন্মুক্ত থাকে। তবে তাওয়াফ শেষ হলে সালাতের আগে কাঁধ আবার ঢেকে নিতে হবে।
তাওয়াফের প্রথম তিন চক্রে পুরুষদের বুক ফুলিয়ে, ছোট ছোট পদক্ষেপে একটু দ্রুতগতিতে হেলান দিয়ে চলার ভঙ্গিতে হাঁটার নির্দেশ রয়েছে। আরবিতে একে ‘রমল’ বলা হয়। অন্য চার চক্র স্বাভাবিক হাঁটার গতিতেই সম্পন্ন করতে হয়।
মনে রাখা প্রয়োজন:
তাওয়াফ করা অবস্থায় বেশি বেশি ইস্তিগফার, জিকির ও দোয়া করা উত্তম। এ সময় আল্লাহর কাছে নিজের ভাষায় মনের আকুতি ও প্রয়োজন তুলে ধরে মিনতি করা যায়। প্রয়োজনে কোরআন তিলাওয়াতও করা যায়। তবে দোয়াগুলোর অর্থ বুঝে পড়া ভালো, যেন রবের কাছে কী চাওয়া হচ্ছে, তা হৃদয় দিয়ে অনুভব করা যায়।
তবে দল বেঁধে উচ্চস্বরে সমবেত কণ্ঠে দোয়া পড়া উচিত নয়। এতে অন্য তাওয়াফকারীদের মনঃসংযোগ ও দোয়ায় বিঘ্ন ঘটে। শান্তভাবে নিজের মতো করে বিনম্রচিত্তে দোয়া করাই তাওয়াফের প্রকৃত সৌন্দর্য।

ইবাদত বান্দা ও তার রবের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যম। রাসুল (সা.) ইবাদতে এমন স্বাদ পেতেন যে তিনি বলতেন, ‘নামাজে আমার চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে।’ (সহিহুল জামে: ৩০৯৮)। প্রত্যেক মুমিনের চেষ্টা হওয়া উচিত ইবাদতের সেই মধুরতা অর্জন করা। এ ক্ষেত্রে নিচের চারটি বিষয় বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে।
৯ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৪ ঘণ্টা আগে
কোরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করতে সাধারণত কয়েক বছর সময় লাগে। তবে মেধা, অদম্য অধ্যবসায় আর শিক্ষকদের নিবিড় পরিচর্যায় মাত্র ১০ মাসেই সেই অসাধ্য সাধন করেছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ৯ বছরের শিশু আরহাম ভূঁইয়া। প্রতিদিন অন্য শিক্ষার্থীদের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি পড়া বা সবক শুনিয়ে এই বিরল সাফল্য অর্জন করেছে সে।
১ দিন আগে
মা-বাবার জন্য দোয়া করা সন্তান হিসেবে গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও অনুরাগের সুন্দরতম বহিঃপ্রকাশ। পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসে মা-বাবার অধিকার রক্ষা ও তাঁদের প্রতি সদাচরণের বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ বনি ইসরাইলের কাছ থেকে নেওয়া অঙ্গীকারেও নিজের ইবাদতের পরেই মা-বাবার প্রতি সদয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন
১ দিন আগে