নবী আদম (আ.)-এর যুগ থেকেই কোরবানির বিধান চলে আসছে। সব নবীর যুগেই এই বিধান ছিল বলে ইসলামবিষয়ক গবেষকগণ মত দেন। এই বিধানের ধারাবাহিকতা চলে আসছে কাল-মহাকাল ধরে।
কোরবানির আমলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় পড়েন হজরত ইবরাহিম (আ.)। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে স্বপ্নে আদিষ্ট হন তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি দিতে। উট, মেষ কোরবানে দেওয়ার পরও যখন একই স্বপ্ন বারবার দেখতে থাকেন—আল্লাহর মর্জি তখন তাঁর বুঝতে বাকি থাকে না।
আল্লাহ চান তাঁর কলিজার টুকরা সন্তানের কোরবানি। রবের সন্তুষ্টি চিত্তে সন্তান কোরবানি দেওয়ার সব বন্দোবস্ত করেন নবী ইবরাহিম (আ.)। কিন্তু আল্লাহ চেয়েছিলেন রবের প্রতি তাঁর ত্যাগের পরীক্ষা করতে। ইসমাইল (আ.) এর পরিবর্তে কোরবানি হয় জান্নাতি দুম্বা।
ক্রমান্বয়ে ইসলামের বিধানেও যুক্ত হয় কোরবানি। সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব বা আবশ্যক। তবে যে পশু দিয়ে কোরবানি দেওয়া হবে, তা ইসলামের শর্ত অনুযায়ী কিছু ত্রুটি থেকে মুক্ত হতে হবে।
কোরবানির পশুর বর্ণনা দিতে গিয়ে সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) শিংবিশিষ্ট ও মোটাতাজা একটি মেষ কোরবানি করেছেন। এর চেহারা, পা ও চোখ ছিল মিটমিটে কালো। (সুনানে ইবনে মাজা: ৩১২৮)
পশুর যেসব ত্রুটি থাকলে কোরবানি হবে না—
হজরত আলী (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের কোরবানির পশুর চোখ ও কান সুস্থ হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার আদেশ করেছেন। (জামে তিরমিজি: ১৫০৩)
অন্য বর্ণনায় বিষয়টি এসেছে এভাবে, জনৈক ব্যক্তি আলী (রা.)-কে কোরবানির গরু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, সাতজন ব্যক্তি পর্যন্ত একটি গরুতে অংশীদার হওয়া যায়। ওই ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, শিং ভাঙা হলে? আলী (রা.) বললেন, সমস্যা নেই।
ওই ব্যক্তি আবার জিজ্ঞেস করলেন, আরজা (খোঁড়া) হলে? তিনি বললেন, জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারলে তা জবাই কর। আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের কোরবানির পশুর চোখ ও কান সুস্থ হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার আদেশ করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ: ৭৩৪)
লেখক: ইসলামবিষয়ক গবেষক

আকিকা নবজাতক শিশুর আগমনে শুকরিয়া আদায়ের অন্যতম মাধ্যম। আকিকা ইসলামি ঐতিহ্যের অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতও এটি। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাতি হাসান ও হোসাইনের পক্ষ থেকে দুটি করে বকরি জবেহ করেছেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)
৩ ঘণ্টা আগে
দাম্পত্যজীবনে অনেক সময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেখানে স্বামী-স্ত্রীর একত্রে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ইসলাম ধর্ম দাম্পত্যসম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিলেও একান্ত নিরুপায় অবস্থায় ‘তালাক’ বা বিচ্ছেদের অনুমতি দিয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
নামাজের শুরুতে তাকবিরে তাহরিমা বা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বাঁধার পর প্রথম যে দোয়াটি পড়া হয়, তাকে ‘সানা’ বলা হয়। সানা পাঠ করা সুন্নতে মুআক্কাদা। একা নামাজ আদায়কারী, ইমাম ও মুক্তাদি—সবার জন্যই সানা পড়া সুন্নত।
৭ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১২ ঘণ্টা আগে