মুফতি এনায়েতুল্লাহ ফাহাদ

রমজানের আগমনী বার্তা নিয়ে আমাদের দোরগোড়ায় হাজির হচ্ছে পবিত্র মাস শাবান। এটি চান্দ্রবর্ষের অষ্টম মাস। আরবিতে এ মাসকে বলা হয় আশ-শাবানুল মুআজ্জাম। ইতিহাস বলে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের দেড় বছর পর পূর্বতন কিবলা ফিলিস্তিনের মসজিদুল আকসা বা বায়তুল মুকাদ্দাসের পরিবর্তে মক্কার কাবা তথা বায়তুল্লাহ শরিফ কিবলা হিসেবে ঘোষিত ও নির্ধারিত হয় এই শাবান মাসেই।
নবীজি (সা.) অধিক রোজা রাখতেন এ মাসে
মুমিনের কাছে ইবাদতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় শাবানের দিনগুলো। আমরা দেখতে পাই, মুসলিম বিশ্বে শাবান মাস এলে চারদিকে ইবাদত-বন্দেগির সুবাতাস বইতে থাকে। এই মাসের মধ্য দিন থেকেই রমজানের আবহ শুরু হয়ে যায়। হিজরি বর্ষপঞ্জি হিসেবে পবিত্র রমজান মাসের আগের মাস শাবান। তাই প্রথমত, রমজান মাসের প্রস্তুতিকাল হিসেবে শাবান মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। রমজানে রোজা রাখতে অভ্যস্ত হতে এই মাসে আমরা বেশি বেশি নফল রোজা রাখতে পারি। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী করিম (সা.) রমজান ছাড়া শাবান মাসে সর্বাধিক রোজা রাখতেন। এমনকি আমি তাঁকে শাবান মাস অপেক্ষা অধিক রোজা রাখতে আর কোনো মাসে দেখিনি।’ (সহিহ বুখারি: ১৯৬৯)
এ মাসে বার্ষিক আমলনামা পেশ হয়
শাবান মাসের প্রতি নবী (সা.) গুরুত্বারোপের অন্যতম কারণ ছিল, এই মাসে বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। (লাতায়িফুল মাআরিফ: ২৪৪)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর দরবারে প্রতিদিন বান্দাদের আমলনামা পেশ করা হয়। দিনের আমলনামা রাতে আর রাতের আমলনামা দিনে পেশ করা হয়।’ (সহিহ মুসলিম: ১৭৯)। এটি হলো প্রতিদিনের আমলনামা। এ ছাড়া অপর একটি সহিহ হাদিসে আছে—সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমলনামা পেশ করা হয়। (সহিহ মুসলিম: ২৫৬৫)। এটি হলো সাপ্তাহিক আমলনামা। আর একবার মুমিনের আমলনামা পেশ করা হয় বার্ষিকভাবে। সেটা হলো শাবান মাসে।
এ মাসেই দরুদ পাঠের আয়াত নাজিল হয়
এই মাসে বেশি বেশি রাসুল (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা মুমিনের কর্তব্য। কারণ প্রিয় নবী (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ ও সালাম দেওয়ার নির্দেশনাসংবলিত আয়াতটি শাবান মাসেই অবতীর্ণ হয়। ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা নবীজি (সা.)-এর প্রতি পরিপূর্ণ রহমত বর্ষণ করেন, ফেরেশতাগণ নবীজি (সা.)-এর জন্য রহমত কামনা করেন; হে বিশ্বাসী মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।’ (সুরা আহজাব: ৫৬)
এ মাসের তারিখের হিসাব রাখার নির্দেশ
রমজান মাসের প্রস্তুতি হিসেবে শাবান মাসের তারিখের হিসাব রাখা বিশেষ একটি সুন্নত আমল। নবীজি (সা.) বলেন, ‘তোমরা রমজানের জন্য শাবানের চাঁদের হিসাব রাখো।’ (সিলসিলাতুস সহিহাহ, আলবানি: ২ / ১০৩)।
এ মাসেই শবে বরাত
অর্ধশাবানের রাতে অর্থাৎ শবে বরাতে ইবাদত করা এবং যেকোনো নফল আমল, যাতে আগ্রহ বোধ হয়, তা আদায় করা মোস্তাহাব। এ রাতের বিশেষ ফজিলতের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। নবী (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা অর্ধশাবানের রাতে সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন; অতঃপর তিনি তাঁর সকল সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন, কেবল মুশরিক ও বিদ্বেষপোষণকারী ব্যতীত। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫)
উল্লেখিত বিষয় লক্ষ করার পাশাপাশি অন্যান্য ইবাদত—নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, দোয়া-কালাম, দান-সদকাহ-খয়রাত, ওমরাহ ইত্যাদির মাধ্যমে এই মাসকে সার্থক ও সাফল্যময় করা যায়। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা পালন ও অন্যান্য ইবাদত করে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন।
লেখক: খতিব, মুহাদ্দিস ও গবেষক

রমজানের আগমনী বার্তা নিয়ে আমাদের দোরগোড়ায় হাজির হচ্ছে পবিত্র মাস শাবান। এটি চান্দ্রবর্ষের অষ্টম মাস। আরবিতে এ মাসকে বলা হয় আশ-শাবানুল মুআজ্জাম। ইতিহাস বলে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের দেড় বছর পর পূর্বতন কিবলা ফিলিস্তিনের মসজিদুল আকসা বা বায়তুল মুকাদ্দাসের পরিবর্তে মক্কার কাবা তথা বায়তুল্লাহ শরিফ কিবলা হিসেবে ঘোষিত ও নির্ধারিত হয় এই শাবান মাসেই।
নবীজি (সা.) অধিক রোজা রাখতেন এ মাসে
মুমিনের কাছে ইবাদতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় শাবানের দিনগুলো। আমরা দেখতে পাই, মুসলিম বিশ্বে শাবান মাস এলে চারদিকে ইবাদত-বন্দেগির সুবাতাস বইতে থাকে। এই মাসের মধ্য দিন থেকেই রমজানের আবহ শুরু হয়ে যায়। হিজরি বর্ষপঞ্জি হিসেবে পবিত্র রমজান মাসের আগের মাস শাবান। তাই প্রথমত, রমজান মাসের প্রস্তুতিকাল হিসেবে শাবান মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। রমজানে রোজা রাখতে অভ্যস্ত হতে এই মাসে আমরা বেশি বেশি নফল রোজা রাখতে পারি। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী করিম (সা.) রমজান ছাড়া শাবান মাসে সর্বাধিক রোজা রাখতেন। এমনকি আমি তাঁকে শাবান মাস অপেক্ষা অধিক রোজা রাখতে আর কোনো মাসে দেখিনি।’ (সহিহ বুখারি: ১৯৬৯)
এ মাসে বার্ষিক আমলনামা পেশ হয়
শাবান মাসের প্রতি নবী (সা.) গুরুত্বারোপের অন্যতম কারণ ছিল, এই মাসে বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। (লাতায়িফুল মাআরিফ: ২৪৪)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর দরবারে প্রতিদিন বান্দাদের আমলনামা পেশ করা হয়। দিনের আমলনামা রাতে আর রাতের আমলনামা দিনে পেশ করা হয়।’ (সহিহ মুসলিম: ১৭৯)। এটি হলো প্রতিদিনের আমলনামা। এ ছাড়া অপর একটি সহিহ হাদিসে আছে—সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমলনামা পেশ করা হয়। (সহিহ মুসলিম: ২৫৬৫)। এটি হলো সাপ্তাহিক আমলনামা। আর একবার মুমিনের আমলনামা পেশ করা হয় বার্ষিকভাবে। সেটা হলো শাবান মাসে।
এ মাসেই দরুদ পাঠের আয়াত নাজিল হয়
এই মাসে বেশি বেশি রাসুল (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা মুমিনের কর্তব্য। কারণ প্রিয় নবী (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ ও সালাম দেওয়ার নির্দেশনাসংবলিত আয়াতটি শাবান মাসেই অবতীর্ণ হয়। ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা নবীজি (সা.)-এর প্রতি পরিপূর্ণ রহমত বর্ষণ করেন, ফেরেশতাগণ নবীজি (সা.)-এর জন্য রহমত কামনা করেন; হে বিশ্বাসী মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।’ (সুরা আহজাব: ৫৬)
এ মাসের তারিখের হিসাব রাখার নির্দেশ
রমজান মাসের প্রস্তুতি হিসেবে শাবান মাসের তারিখের হিসাব রাখা বিশেষ একটি সুন্নত আমল। নবীজি (সা.) বলেন, ‘তোমরা রমজানের জন্য শাবানের চাঁদের হিসাব রাখো।’ (সিলসিলাতুস সহিহাহ, আলবানি: ২ / ১০৩)।
এ মাসেই শবে বরাত
অর্ধশাবানের রাতে অর্থাৎ শবে বরাতে ইবাদত করা এবং যেকোনো নফল আমল, যাতে আগ্রহ বোধ হয়, তা আদায় করা মোস্তাহাব। এ রাতের বিশেষ ফজিলতের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। নবী (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা অর্ধশাবানের রাতে সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন; অতঃপর তিনি তাঁর সকল সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন, কেবল মুশরিক ও বিদ্বেষপোষণকারী ব্যতীত। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫)
উল্লেখিত বিষয় লক্ষ করার পাশাপাশি অন্যান্য ইবাদত—নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, দোয়া-কালাম, দান-সদকাহ-খয়রাত, ওমরাহ ইত্যাদির মাধ্যমে এই মাসকে সার্থক ও সাফল্যময় করা যায়। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা পালন ও অন্যান্য ইবাদত করে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন।
লেখক: খতিব, মুহাদ্দিস ও গবেষক

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঊর্ধ্বাকাশ ভ্রমণ মানব ইতিহাসের একটি অলৌকিক ঘটনা। এই সফরে নবীজি (সা.) সপ্তম আকাশ পেরিয়ে আল্লাহ তাআলার এত নিকটবর্তী হয়েছিলেন, যেখানে কোনো ফেরেশতা এমনকি জিবরাইল (আ.)-ও যেতে পারেননি। নবীজি (সা.)-এর এই মহাযাত্রা উম্মতের জন্য আল্লাহর কুদরতের বিশেষ নিদর্শন হয়ে আছে।
২ ঘণ্টা আগে
পবিত্র হাদিস থেকে জানা যায়, নবীজি (সা.)-এর মিরাজের বাহন ছিল বোরাক। বোরাক দেখতে কেমন ছিল, তা নিয়ে আমাদের মধ্যে একটি কৌতূহল কাজ করে। তবে বোরাকের একটি ছবি সমাজে প্রচলিত ‘দেখতে ঘোড়ার মতো। পাখা আছে। চেহারা নারী আকৃতির।’ বোরাকের আকৃতি সম্পর্কে পবিত্র কোরআন বা হাদিসে কি নির্দিষ্ট কোনো বর্ণনা রয়েছে...
২ ঘণ্টা আগে
মসজিদুল ফাসহ উহুদ যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত একটি পবিত্র স্থাপনা। এটি উহুদ পাহাড়ের পাদদেশে, রণক্ষেত্রের উত্তর দিকে ৭০০-৮০০ মিটার দূরে অবস্থিত। ঐতিহাসিক কৌশল হিসেবে প্রিয় নবী মুসলিম বাহিনীকে এমনভাবে বিন্যস্ত করেছিলেন, যেন তাদের মুখ থাকে মদিনার দিকে আর পিঠ থাকে উহুদ পাহাড়ের টিলাগুলোর দিকে।
২ ঘণ্টা আগে
মৃত্যু—এমন এক অনিবার্য বাস্তবতা, যা কেউ অস্বীকার করতে পারে না। চাই সে মুসলমান হোক কিংবা অমুসলিম, ইমানদার হোক কিংবা বেইমান, আস্তিক হোক কিংবা নাস্তিক। তবে আশ্চর্যজনক বাস্তবতা হলো, সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ মৃত্যু থেকে পালানোর পথ খুঁজে বেড়িয়েছে অহর্নিশি। কেউ খুঁজেছে আবে হায়াত, কেউবা...
১ দিন আগে