
সালাম মুসলমানদের একটি তাৎপর্যপূর্ণ অভিবাদন। বহু যুগ আগে থেকেই সালামের রীতি চলে আসছে। পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে, ‘তোমার নিকট ইবরাহিমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত এসেছে? যখন তারা তার কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, সালাম। উত্তরে তিনিও বললেন, সালাম।’ (সুরা জারিয়াত: ২৪-২৫)
এই সুরা থেকে আমরা দেখতে পাই, সালাম শুধু মহানবী (সা.)-এর উম্মতের মধ্যেই নয়, সব জাতির মাঝে এক শান্তির বার্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সালাম শুধু একটি অভ্যাস নয়, বরং এটি এক মুসলমানের প্রতি অপর মুসলমানের অধিকার। পবিত্র হাদিসে বলা হয়েছে, সালামের জবাব দেওয়া ওয়াজিব। সালামের জবাব না দেওয়া মারাত্মক পাপ। সালাম শুধু সৌজন্য নয়, বরং এটি পবিত্র দোয়া ও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের উত্তম পন্থা।
আশ্চর্যজনকভাবে, অনেক সময় আমরা দেখি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অন্যদের কাছ থেকে সালাম পাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন, কিন্তু নিজেরা সালাম দিতে একেবারেই অনীহা প্রকাশ করেন। এটি শুধুমাত্র অহংকারের লক্ষণ নয়, বরং সমাজে ভুল ধারণা সৃষ্টি করে।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড় সবার সঙ্গেই সালাম বিনিময় করতেন। হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘একবার আমি নবী করিম (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম। শিশুদের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে তিনি তাদের সালাম করলেন।’ (জামে তিরমিজি: ২৭৩৫)। এই হাদিস আমাদের জন্য বড় শিক্ষা।
যখন একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানের সঙ্গে দেখা করে, তখন প্রথমেই সালাম বিনিময় করা উচিত। নবীজি (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে প্রথমে সালাম দেয়।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৫১৯৭)
পরিবারে প্রবেশ করার সময় সালাম দেওয়া উচিত, কারণ এতে ঘরে বরকত আসে। হজরত আনাস (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল আমাকে বলেছেন, ‘বৎস, যখন পরিবার-পরিজনের কাছে যাবে, তখন তাদের সালাম দেবে। এতে তোমার ও পরিবারের বরকত হবে।’ (জামে তিরমিজি: ২৭৩৭)
নবী করিম (সা.) আরও বলেন, ‘যখন তোমরা কোনো ঘরে প্রবেশ করবে, তখন সালাম দেবে। এটা তোমাদের জন্য শান্তি, বরকত ও রহমতের কারণ হবে।’ (সহিহ্ মুসলিম: ৫৬)
সালামের গুরুত্ব শুধু এই পৃথিবীতেই সীমাবদ্ধ নয়, পরকালেও থাকবে। মৃত্যু, কিয়ামত, জান্নাত—সব জায়গায় মোমিনদের একে অপরকে সালাম দিয়ে সম্ভাষণ জানানো হবে। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘যেদিন তারা আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হবে, সেদিনও তাদের অভিবাদন হবে সালাম।’ (সুরা আহজাব: ৪৪)
সালামের মাধ্যমে মানবিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে—যা আমাদের জীবনে শান্তি ও ভালোবাসা প্রতিষ্ঠা করে। তাই সালামের প্রচলন ও অনুশীলন আরও বিস্তৃত করা উচিত।
লেখক: শিক্ষক, জামিয়া মিফতাহুল উলূম নেত্রকোনা

স্রষ্টার এক অপূর্ব সৃষ্টি এই সুবিশাল মহাবিশ্ব। আর সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য মহান আল্লাহ তাআলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার হলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)। তিনি নির্দিষ্ট কোনো গোত্র, ভূখণ্ড বা সময়ের সীমারেখায় আবদ্ধ হয়ে আসেননি; বরং ধরণির বুকে আবির্ভূত হয়েছিলেন
১৬ ঘণ্টা আগে
ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল কিংবা মুস্তাহাব—এ পরিভাষাগুলো সরাসরি আল্লাহ তাআলা বা তাঁর রাসুল (সা.) নির্ধারিত করে যাননি। বরং কোরআন-সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস সম্পর্কে বিজ্ঞ ফকিহ ও মুজতাহিদ ইমামগণ গবেষণা করে এই পরিভাষাগুলো নির্ধারণ করেছেন।
১৭ ঘণ্টা আগে
মহানবী (সা.) আরবের সমাজে প্রচলিত বৈষম্যপূর্ণ সমাজব্যবস্থা আমূল বদলে দিয়েছিলেন। তিনি দরিদ্রদের দূর দূর না করে পরম স্নেহে বুকে টেনে নিয়েছিলেন, তাদের উপযুক্ত সামাজিক মর্যাদা দিয়েছেন এবং নিজেকেও চিরকাল তাদের কাতারে শামিল রাখতে ভালোবেসেছিলেন। হজরত জুলাইবিব (রা.) নামে এক সাধারণ সাহাবির জীবনের ঘটনাই এর বড়
১৮ ঘণ্টা আগে
হজরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখি (রহ.)-এর প্রকৃত নাম মীর সুলতান মোহাম্মদ। তিনি ছিলেন তৎকালীন আফগানিস্তানের বলখ (পারস্য সাম্রাজ্যের বাকট্রিয়া প্রদেশের রাজধানী) রাজ্যের প্রতাপশালী সম্রাট শাহ আলী আসগরের সন্তান। পিতার ইন্তেকালের পর উত্তরাধিকারসূত্রে শাহজাদা সুলতান মাহমুদকেই বলখের সিংহাসনে আসীন করা হয়।
১৯ ঘণ্টা আগে