আধুনিক ও ব্যস্ততম জীবনে আমরা প্রতিনিয়ত নানাবিধ সংকট ও বিপদের সম্মুখীন হই। ব্যক্তিগত, সামাজিক কিংবা আত্মিক নানামুখী জটিলতা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে আমরা কত উপায়েরই-না দ্বারস্থ হই। অথচ এই অনুসন্ধানের মাঝেই অনেক সময় ভুলে যাই মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের কথা।
প্রতিদিন ভোরে নামাজ শেষে কোরআনের সান্নিধ্য লাভ করা এবং এর আলোকে পুরো দিনের কর্মপরিকল্পনা সাজানোর সুন্দর অভ্যাসটি আমরা ক্রমেই ভুলতে বসেছি। মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য যে গ্রন্থটি শাশ্বত ও পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা প্রদান করে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে তার অবস্থান ঠিক কতটুকু—তা আজ গভীরভাবে ভাববার বিষয়।
ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের চেষ্টার অন্ত নেই। অথচ এই গ্রন্থে মহান রব স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘আর নিশ্চয়ই তা (কোরআন) মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত।’ (সুরা নামল: ৭৭)
সুফি সাহিত্য ও ইসলামি ভাবধারায় কোরআনকে মানব চরিত্রের ‘পরশপাথর’ বা ‘কিমিয়া’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। যেমন—হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজালি (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম রেখেছিলেন ‘কিমিয়ায়ে সাআদাত’ বা ‘সৌভাগ্যের পরশপাথর’—যা মূলত কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানুষের জীবনকে আলোকিত করার নির্দেশিকা।
১. হৃদয়ের অভূতপূর্ব রূপান্তর: জাহেলিয়াত বা অজ্ঞতার যুগের চরম বর্বর মানুষকে পবিত্র কোরআন তার ঐশী আদর্শ ও বাণীর স্পর্শে ‘সোনার মানুষে’ পরিণত করেছিল, যা বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর আত্মিক রূপান্তর।
২. মর্যাদা ও মান বৃদ্ধি: পরশপাথরের স্পর্শে সাধারণ ধাতু যেমন মূল্যবান সোনায় পরিণত হয়, কোরআনের সান্নিধ্যে মানুষের সম্মান ও মর্যাদাও তেমনি বৃদ্ধি পায়। যে ব্যক্তি কোরআনের আদর্শকে নিজের জীবনে ধারণ করে, সে মহান আল্লাহর দরবারে সর্বাধিক সম্মানিত হয়।
৩. আত্মিক ও ব্যাধি নিরাময়: পবিত্র কোরআন মানুষের অন্তরের হিংসা, অহংকার, সংশয় ও কুসংস্কার দূর করে সেখানে হিদায়াত ও শান্তির অমল আলো জ্বালিয়ে দেয়।
মহান রব পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতকে কেন্দ্র করে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের রুটিন সাজাতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সূর্য হেলে পড়ার পর থেকে রাতের গাঢ় অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম করুন এবং ফজরের নামাজে কোরআন পাঠ করার নীতি অবলম্বন করুন। নিশ্চয়ই ফজরের নামাজের পর কোরআন পাঠ (ফেরেশতাগণ কর্তৃক) সরাসরি সাক্ষ্যপ্রাপ্ত।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ৭৮)
আমরা যদি নিখাদ ও বিশুদ্ধ চিত্তে এই মহিমান্বিত গ্রন্থের দ্বারস্থ হই, তবে দুনিয়া ও আখিরাতে এর অসীম রহমত ও বরকত লাভ করতে পারব, ইনশা আল্লাহ।
সর্বোপরি, কোরআন এমন এক ঐশী গ্রন্থ, যার পরতে পরতে আমরা আমাদের জীবনের প্রতিটি প্রশ্ন, সংকট ও সমস্যা সমাধানের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা খুঁজে পাই। তাই কর্মব্যস্ততার অজুহাত এড়িয়ে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কোরআনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়া ও গভীর করা সময়ের অন্যতম দাবি।
লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৬ ঘণ্টা আগে
পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র চার মাস রয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) থেকে রমজান মাস শুরু হতে পারে। আর ঈদুল ফিতর হতে পারে ১০ মার্চ (বুধবার)। তবে চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে তৎকালীন আকাশে চাঁদ দেখার ওপর।
১৬ ঘণ্টা আগে
কালো জাদু অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর বিদ্যা। এর মাধ্যমে মূলত অপশক্তির আশ্রয় নিয়ে অন্যের ক্ষতি করা কিংবা অসৎ স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করা হয়। শয়তান মানুষকে পথভ্রষ্ট ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য যেসব কৌশল অবলম্বন করে, তার মধ্যে অন্যতম জাদুটোনা।
১৯ ঘণ্টা আগে
ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি নফল ইবাদতের মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজের মর্যাদা ও ফজিলত সর্বাপেক্ষা বেশি। শেষ রাতের নীরবতায় রবের দরবারে সিজদাবনত হওয়া এবং নিজের আকুতি পেশ করা বান্দার আত্মিক প্রশান্তির এক অনন্য মাধ্যম। তবে তাহাজ্জুদের গুরুত্ব জানার পাশাপাশি এটি আদায়ের সঠিক সময় এবং শেষ সীমা...
১ দিন আগে