প্রশ্ন: ঋতুস্রাবের সময় নারীরা কোন কোন আমল করতে পারবে? জিকির, তাসবিহ ও সকাল-সন্ধ্যার দোয়াগুলো কি পাঠ করা যাবে? শরিয়তের আলোকে জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
জাহানারা বেগম, কুমিল্লা
উত্তর: ঋতুস্রাব চলাকালে সব ধরনের নামাজ আদায় ও রোজা রাখা নিষিদ্ধ। পরে এই সময়ের ফরজ নামাজগুলোর কাজা করতে হয় না। তবে ফরজ রোজা ছুটে গেলে পরে আদায় করে নিতে হয়। আয়েশা (রা.) বলেন, আমরা নবী (সা.)-এর সময়ে ঋতুমতী হলে নামাজের কাজা করতাম না।’ (মুসলিম: ৩৩৫)
এই বিশেষ সময়ে কোরআন তিলাওয়াত করাও নিষেধ। কারণ ঋতুস্রাবের কারণে গোসল আবশ্যক হয়ে যায়। আর গোসল আবশ্যক হলে কোরআন তিলাওয়াত নাজায়েজ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ঋতুমতী নারী ও গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তি কোরআন তিলাওয়াত করবে না।’ (তিরমিজি: ১৩১)
পবিত্র কোরআন স্পর্শ না করে এবং পুরো আয়াত তিলাওয়াত না করে যদি কয়েক শব্দ বা আয়াতের একাংশ তিলাওয়াত করা হয়, তবে কোনো সমস্যা নেই। এ ছাড়া পবিত্র কোরআনের যেসব আয়াত দোয়া হিসেবে পাঠ করা হয়, সেগুলো কেবল দোয়া হিসেবে পাঠ করলেও কোনো সমস্যা নেই। নারী যদি কোরআনের শিক্ষক হন, তবে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর সময় পুরো আয়াত একসঙ্গে তিলাওয়াত না করে ভেঙে ভেঙে দু-এক শব্দ করে পড়াতে কোনো সমস্যা নেই।
হজের সময় ঋতুস্রাব শুরু হলে পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফ করা ছাড়া বাকি সব ইবাদত যথানিয়মে পালন করতে হবে। তাওয়াফ পরে কাজা আদায় করে নেবে।
ঋতুস্রাবের সময় সব ধরনের দোয়া ও তাসবিহ পাঠ করা যাবে। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) সব সময় আল্লাহর স্মরণ করতেন। (মুসলিম: ৭১২) কারণ দোয়া বা তাসবিহ পাঠের জন্য পবিত্রতা জরুরি নয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা মুমিন: ৬০)
সুতরাং এই সময়ে নারীরা কালিমা তাইয়েবা, কালিমা শাহাদাত, কালিমা তাওহিদ, দুরুদ শরিফ, ইস্তিগফার, সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক, সুরা নাসসহ সব ধরনের দোয়া ও জিকির করতে পারবেন। এ ছাড়া আজানের জবাব দিতেও কোনো সমস্যা নেই। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/ ৩৮)
উত্তর দিয়েছেন: ইসলামবিষয়ক গবেষক

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আনুগত্য ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক অনন্য উৎসব। সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে অনেক সময় আর্থিক সংকটের কারণে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত নগদ অর্থ না থাকলে ঋণ করে কোরবানি করা যাবে কি? এই কোরবানি কি বৈধ হবে?
৮ ঘণ্টা আগে
ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। মুসলমানদের জীবনে পবিত্র ঈদুল আজহা বয়ে আনে এক অনন্য ত্যাগ ও আনন্দের বার্তা। কোরবানি একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো—নৈকট্য লাভ, উৎসর্গ করা, আত্মত্যাগ কিংবা প্রিয়ভাজন হওয়া। শরিয়তের পরিভাষায়, সামর্থ্যবান ব্যক্তির নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত পশু আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে...
১০ ঘণ্টা আগে
কোরবানি আল্লাহর পছন্দনীয় আমল। এ জন্য যুগে যুগে পৃথিবীতে আগমনকারী সব উম্মতের ওপর কোরবানির বিধান দেওয়া হয়েছিল। কোরবানি যেহেতু আল্লাহর নামে পশু জবাইয়ের মাধ্যমে পালন করতে হয়, এ জন্য পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে শরিয়ত কিছু সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৮ ঘণ্টা আগে