মানুষ হিসেবে আমাদের একটি স্বভাবজাত চাহিদা হলো, আমরা নিজেদের প্রশংসা শুনতে খুব পছন্দ করি। প্রশংসা মিথ্যা হলেও বলতে বারণ করি না, শুনতেই থাকি। বরং আরও বেশি কামনা করি। এর বিপরীতে নিন্দা বা সমালোচনা একদমই সহ্য করতে পারি না। চরম বাস্তব ও সত্য হলেও সমালোচককে থামিয়ে দিই। ক্ষমতা থাকলে নিন্দুককে দমিয়ে দিই, শায়েস্তা করি।
অথচ উচিত ছিল, সমালোচনা আমলে নিয়ে নিজেকে সংশোধন ও পরিশীলিত করা। জীবনকে সুন্দর করে সাজানো।
মানুষ শুধু প্রশংসা শুনতেই যে পছন্দ করে, তাই না—বরং কেউ কেউ বলতেও পছন্দ করে। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে মানুষের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হই আমরা। আর যদি প্রশংসিত ব্যক্তি জাগতিক কোনো পদ-পদবি বা ক্ষমতার অধিকারী হয়, তাহলে তো একদম লাগামহীন হয়ে যাই। ইনিয়ে-বিনিয়ে কত কথাই না বলি তাকে খুশি করতে। এককথায় যাকে বলে চাটুকারিতা বা তেলবাজি।
এতে তার থেকে কিছু সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা যায়। কিছু অর্থকড়িও হয়তো মিলে। কিন্তু সামান্য এই স্বার্থের জন্য আমরা কখনো নির্জলা মিথ্যা পর্যন্ত বলে ফেলি নির্দ্বিধায়। অথচ প্রতিটি মিথ্যার জন্য কবিরা গুনাহ লেখা হচ্ছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এভাবে সামনাসামনি কারও প্রশংসা করা পছন্দ করতেন না। কাউকে এমনটা করতে দেখলে বারণ করতেন। এক হাদিসে এসেছে, একবার নবীজি (সা.) এক ব্যক্তিকে কারও প্রশংসা করতে শুনে বললেন, ‘তোমরা তো তাকে ধ্বংস করে দিলে। তোমরা তার মেরুদণ্ড ভেঙে দিলে।’ (সহিহ্ বুখারি: ২৬৬৩, সহিহ্ মুসলিম: ৬৭)
অতিরিক্ত প্রশংসার কারণে মানুষ অনেক সময় কাজের স্পৃহা হারিয়ে ফেলে। আগের মতো পূর্ণোদ্যমে আর কাজ করতে পারে না। তাই নবীজি এটাকে মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাই কোনো ভালো কাজের পরিমিত প্রশংসার সঙ্গে ভুলত্রুটি কিছু থাকলে তা সুন্দরভাবে ধরিয়ে দেওয়া উত্তম। এতে ভবিষ্যতে আরও সুন্দর কাজের আশা করা যায়।
একবার নবীজির কাছে এক ব্যক্তির কথা বলা হলো। আরেক ব্যক্তি তখন তার প্রশংসা করতে শুরু করল। তা দেখে নবীজি (সা.) বললেন, ‘তোমার অকল্যাণ হোক, তুমি তো তোমার বন্ধুর ঘাড় কেটে দিলে! (কথাটা নবীজি কয়েকবার বললেন) তোমাদের কেউ যদি কারও প্রশংসা করেই, তাহলে যেন বলে—আমি তার ব্যাপারে এমন এমন ধারণা করি, যদি বাস্তবেই সে এমনটা মনে করে থাকে। তার হিসেব আল্লাহ নেবেন। তিনি ছাড়া আর কেউ কারও ভালো হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত জানতে পারে না।’ (সহিহ্ বুখারি: ২৬৬২, সহিহ্ মুসলিম: ৬৫)
হজরত উসমান (রা.)-এর একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে হাদিসের কিতাবে। এক লোক তার সামনে বসে তার প্রশংসা করতে লাগল। সেখানে মিকদাদ (রা.)-ও ছিলেন। তিনি তা দেখে হাঁটু গেড়ে বসে লোকটির মুখে ছোট কঙ্কর মারতে শুরু করলেন। উসমান (রা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী হলো তোমার, এমন করছ কেন!’ তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা কাউকে মুখের ওপর প্রশংসা করতে দেখবে, তার মুখে মাটি নিক্ষেপ করবে।’ (সহিহ্ মুসলিম: ৬৯)
এসব হাদিসে নবীজি (সা.) কারও সামনাসামনি বা অতিরিক্ত প্রশংসা করতে নিষেধ করেছেন। আবার কিছু হাদিসে এর বৈধতার প্রমাণও পাওয়া যায়। তাই বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম এর সামঞ্জস্যবিধান করেছেন এভাবে—প্রশংসিত ব্যক্তির যদি ইমান-আমল ও আত্মশুদ্ধি পরিপূর্ণ থাকে, প্রশংসার কারণে যদি মনে কোনো ধরনের গর্ব-অহংকার ও বড়াই না আসে, তাহলে তা জায়েজ আছে। এর বিপরীত হলে সম্মুখ-প্রশংসা কঠোরভাবে অপন্দীয় ও গর্হিত কাজ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
তাই আমাদের উচিত, মানুষের অমূলক প্রশংসা থেকে নিজেদের বিরত রাখা।
লেখক: মুহাদ্দিস, খতিব

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তথ্যের অবাধ প্রবাহ যেমন আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি ‘গুজব’ নামক এক বিষবৃক্ষ আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে করে তুলছে বিষাক্ত। না জেনে কোনো সংবাদ প্রচার করা বা কোনো ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া আজ যেন একটা কঠিন ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
১৪৪৭ হিজরির হজের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবী থেকে সৌভাগ্যবান হাজি সাহেবগণ আল্লাহর ঘরে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। সেখানে পৌঁছানোর পর হজের মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগের দিনগুলো আত্মশুদ্ধি, হজের প্রস্তুতি ও আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের সুবর্ণ একটি সুযোগ। একজন সচেতন হজযাত্রী...
১৮ ঘণ্টা আগে
দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর বিতর নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার তৃতীয় রাকাতে সুরা ফাতিহার সঙ্গে সুরা মেলানোর পর একটি বিশেষ আমল করতে হয়—যাকে আমরা দোয়া কুনুত বলি। হানাফি মাজহাব মতে, বিতর নামাজে দোয়া কুনুত পাঠ করা ওয়াজিব।
১৮ ঘণ্টা আগে
তুরস্কের কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের আরতভিন প্রদেশের বোরচকা জেলার মারাল গ্রামের জীর্ণ এক কাঠের মসজিদ। বাইরে থেকে দেখলে মসজিদটিকে একদম সাদামাটা আর একঘেয়ে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। পাহাড়ের এক ঢালু খাঁজে, আঁকাবাঁকা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা স্থাপনাটিকে প্রথম দর্শনে কোনো প্রাণহীন পরিত্যক্ত ঘর ভেবে ভুল করা স্বাভাবিক।
১৮ ঘণ্টা আগে