
উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ, আধ্যাত্মিক সাধক এবং তাবলিগ জামাতের অন্যতম প্রাণপুরুষ শায়খুল হাদিস মাওলানা জাকারিয়া কান্ধলভি (রহ.)। ১৮৯৮ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের উত্তর প্রদেশের কান্ধালা গ্রামে এক ঐতিহ্যবাহী ইলমি পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মাওলানা ইয়াহইয়া কান্ধলভি ছিলেন মাওলানা রশিদ আহমাদ গাঙ্গুহি (রহ.)-এর সুযোগ্য ছাত্র।
শায়খুল হাদিস (রহ.)-এর পরিবার ছিল ইলম ও আমলের এক অনন্য খনি। এমনকি পরিবারের নারীরাও কোরআন তিলাওয়াত ও হাদিসের কিতাব পাঠে পারদর্শী ছিলেন। তিনি তাঁর চাচা এবং তাবলিগ জামাতের প্রবর্তক মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভি (রহ.)-এর কাছে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে শায়খ খলিল আহমাদ সাহারানপুরি (রহ.)-এর সান্নিধ্যে ইলমে হাদিসের সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত হন।
হাদিস শিক্ষার বিশেষ নিয়ম: দরসে হাদিসের সময় তিনি দুটি বিষয় কঠোরভাবে মেনে চলতেন:
ভারতের বিখ্যাত ইসলামি বিদ্যাপীঠ জামিয়া মাজাহির উলুম সাহারানপুর থেকে তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শুরু। মাত্র আট বছরের মাথায় তিনি বুখারি শরিফের পাঠদান শুরু করেন। তাঁর পাঠদানের সুখ্যাতি ভারত ছাড়িয়ে মক্কা-মদিনা ও ইউরোপ-আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি টানা ৬০ বছর মাজাহেরে উলুমে হাদিসের পাঠদান করেছেন এবং আশ্চর্যজনকভাবে এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কোনো বেতন গ্রহণ করেননি।
মাওলানা খলিল আহমাদ সাহারানপুরি (রহ.)-এর কাছে দীর্ঘ ১২ বছর আধ্যাত্মিক সাধনা বা সুলুক সম্পন্ন করেন। ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে (১৩৪৫ হিজরি) শায়খ সাহারানপুরি নিজ মাথার পাগড়ি খুলে জাকারিয়া কান্ধলভি (রহ.)-এর মাথায় বেঁধে দেন এবং তাঁকে বাইয়াত করানোর অনুমতি (খিলাফত) প্রদান করেন। তাঁর হাতে গড়া ছাত্র ও মুরিদদের এক বিশাল কাফেলা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ইসলামের আলো ছড়াচ্ছেন।
শায়খুল হাদিস (রহ.) কেবল একজন শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক ক্ষুরধার লেখক। তাঁর রচিত ছোট-বড় কিতাবের সংখ্যা প্রায় ৮৪ টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
তাবলিগ জামাতের প্রসারে মাওলানা জাকারিয়া কান্ধলভি (রহ.)-এর অবদান অবিস্মরণীয়। মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) প্রতিটি জটিল বিষয়ে তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করতেন। তিনি মাদ্রাসার ছাত্র ও ওলামায়ে কেরামকে দাওয়াতি কাজে যুক্ত করতে নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন।
১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে সোমবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে মদিনা মুনাওয়ারায় এই মহান মনীষী ইন্তেকাল করেন। মদিনার জান্নাতুল বাকিতে তাঁকে দাফন করা হয়।

রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করার নিয়ম, এর প্রকারভেদ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড। লাইলাতুল কদর পেতে ইতিকাফের ভূমিকা জানুন।
২ ঘণ্টা আগে
এদিকে আসিম (রা.)-এর দোয়া আল্লাহ কবুল করেছিলেন। নবীজি (সা.) মদিনায় থেকেই তাঁদের শাহাদাতের খবর পেয়েছিলেন। যখন কুরাইশরা খবর পেলেন যে আসিম (রা.) শহীদ হয়েছেন, তখন তাঁরা তাঁর লাশ থেকে কিছু অংশ কেটে আনার জন্য লোক পাঠালেন। কারণ আসিম (রা.) বদর যুদ্ধে কুরাইশদের এক নেতাকে হত্যা করেছিলেন।
৩ ঘণ্টা আগে
মুসাফির বা ভ্রমণকারীর জন্য ইবাদতের ক্ষেত্রে বিশেষ শিথিলতা প্রদান করেছে ইসলাম। বিশেষ করে রমজান মাসে দীর্ঘ ভ্রমণে থাকলে রোজা রাখা না রাখার ব্যাপারে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৮ ঘণ্টা আগে