সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের দেশের একটি অন্যতম গুরুতর জাতীয় সমস্যা। প্রতিদিন অসতর্কতা, বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক, ট্রাফিক আইন অমান্য কিংবা চালকের সামান্য অবহেলায় অসংখ্য মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। অথচ একটি দুর্ঘটনা একটি পরিবারের স্বপ্ন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে মুহূর্তেই বিপর্যস্ত করে দেয়। তাই সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে আধুনিক নিয়মনীতির পাশাপাশি ইসলামের সুমহান নৈতিক শিক্ষাগুলো অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।
মানুষের জীবন রক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা
ইসলাম মানুষের জীবনকে অত্যন্ত পবিত্র ও মূল্যবান আমানত হিসেবে ঘোষণা করেছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না।’ (সুরা বাকারা: ১৯৫)। এই আয়াতের মূল শিক্ষা হলো—মানুষ এমন কোনো কাজ করবে না, যা তাকে ধ্বংস বা গুরুতর ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়।
এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিজের ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির জবাব ক্ষতি দিয়ে দেওয়া যাবে না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৩৪১)। তাই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য করা কিংবা অসতর্কতার মাধ্যমে অন্যের জীবন বিপন্ন করা সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী।
রাস্তার হক ও মানবিক দায়িত্ব
ইসলাম রাস্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মানুষের নির্দিষ্ট কিছু দায়িত্ব ও অধিকার নির্ধারণ করেছে। হাদিসে রাস্তার হক হিসেবে দৃষ্টি অবনত রাখা, কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা এবং পথচারীকে সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে আহত ব্যক্তিকে ভিডিও বা ছবি না তুলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং তাঁর জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসা ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার দাবি।
চালক ও পথচারীর দায়িত্বশীলতা
ইসলামে দায়িত্বশীলতার মূল ভিত্তি হলো আমানত রক্ষা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।’ (সহিহ বুখারি: ৭১৩৮)। একজন চালক হিসেবে গাড়ি চালানোর আগে ফিটনেস ও ব্রেক পরীক্ষা করা, ক্লান্তি বা অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি না চালানো এবং মনোযোগ দিয়ে ড্রাইভ করা তাঁর নৈতিক দায়িত্ব। পাশাপাশি পথচারীদেরও ট্রাফিক সংকেত মেনে চলা এবং নির্ধারিত স্থান দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার মাধ্যমে সচেতনতা দেখাতে হবে।










