Ajker Patrika

রাতের যে সময় তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা উত্তম

মুফতি শাব্বীর আহমদ
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫: ৫৬
রাতের যে সময় তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা উত্তম
তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করছেন এক মুসল্লি। ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের সঠিক সময় জানতে চাই। রাতের কোন সময় তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা সবচেয়ে উত্তম এবং পড়ার উত্তম পদ্ধতি কী? জানালে উপকৃত হব।

শাহরিয়ার আলম, সিলেট

উত্তর: তাহাজ্জুদ শব্দটির উৎপত্তি আরবি ‘হুজুদ’ মূল থেকে, যার অর্থ হলো ঘুম থেকে জেগে ওঠা। শরিয়তের পরিভাষায়, এশার নামাজের পর রাতের কোনো একসময় ঘুম থেকে জেগে যে নফল নামাজ আদায় করা হয়, তাকে তাহাজ্জুদ বলা হয়। এটি মুমিনের জন্য শ্রেষ্ঠ নফল ইবাদত।

তাহাজ্জুদ নামাজের সঠিক সময়

তাহাজ্জুদ নামাজের সময় মূলত এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিক (ফজরের আজানের আগমুহূর্ত) পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে এর বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে:

  • শুরু ও শেষ: এশার ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগপর্যন্ত।
  • সর্বোত্তম সময়: রাতের শেষ তৃতীয়াংশ হলো তাহাজ্জুদ আদায়ের শ্রেষ্ঠ সময়। হাদিস অনুযায়ী, এ সময় মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বান্দাদের ডাকতে থাকেন, ‘কে আছো ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। কে আছো কিছু চাইবে? আমি তাকে দেব।’ (সহিহ বুখারি)

রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বের করার গাণিতিক নিয়ম

রাতের শেষ তৃতীয়াংশ হিসাব করা অত্যন্ত সহজ। সূর্যাস্ত (মাগরিব) থেকে সুবহে সাদিক (ফজর) পর্যন্ত সময়কে তিন দিয়ে ভাগ করলেই আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত সময় পেয়ে যাবেন।

যেমন রাত (মাগরিব) যদি শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টায় এবং রাত শেষ (ফজর) যদি হয় ভোর ৫টায়; তাহলে আমরা রাত পেয়ে থাকি মোট ১১ ঘণ্টা। হিসাব করলে দেখা যায়, তাহাজ্জুদের শ্রেষ্ঠ সময় (শেষ তৃতীয় ভাগ) শুরু রাত ১টা ২০ মিনিট থেকে।

এ ছাড়া রাত (মাগরিব) যদি শুরু হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় এবং রাত শেষ (ফজর) যদি হয় ভোর সাড়ে ৫টায়; তাহলে আমরা রাত পেয়ে থাকি মোট ১২ ঘণ্টা। হিসাব করলে দেখা যায় তাহাজ্জুদের শ্রেষ্ঠ সময় (শেষ তৃতীয় ভাগ) শুরু রাত ১টা ৩০ মিনিট থেকে।

তাহাজ্জুদ সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা

ঘুম কি বাধ্যতামূলক? তাহাজ্জুদের আভিধানিক অর্থ ঘুমের পর জেগে ওঠা। তবে কেউ যদি রাতে না ঘুমিয়ে নফল নামাজ আদায় করেন, তাও কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ হিসেবে কবুল হবে এবং তিনি সওয়াব পাবেন।

  • নিয়মিত পড়া: অনেকে মনে করেন একবার তাহাজ্জুদ শুরু করলে সারা জীবন পড়তে হয়, নতুবা গুনাহ হয়। এটি ভুল ধারণা। তাহাজ্জুদ নামাজ নফল ইবাদত, পড়লে অশেষ সওয়াব, না পড়লে গুনাহ নেই।
  • ভৌতিক ভয়: সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচলিত আছে যে তাহাজ্জুদ আদায় করলে জিন আসে বা অলৌকিক কিছু ঘটে। এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কুসংস্কার।

তাহাজ্জুদ নামাজের বিশেষ ৩ ফজিলত

১. হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম হলো তাহাজ্জুদের নামাজ।’ (সহিহ মুসলিম)

২. হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবী (সা.) বললেন, ‘তোমরা অবশ্যই রাতের ইবাদত করবে। কেননা এটি তোমাদের পূর্ববর্তী সৎকর্মশীলদের অভ্যাস, আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উপায়, গুনাহসমূহের কাফফারা এবং পাপকর্মের প্রতিবন্ধক।’ (জামে তিরমিজি)

৩. হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে নিজে ওঠে এবং স্ত্রীকেও জাগায়, অতঃপর তারা একত্রে দুই রাকাত নামাজ (তাহাজ্জুদ) আদায় করে; আল্লাহর নিকট তাদের নাম জিকিরকারী ও জিকিরকারিণীদের দপ্তরে লিপিবদ্ধ করা হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৪৫১)

উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বীর আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

আরও পড়ুন-

জুমার নামাজ কত রাকাত, আদায়ের পদ্ধতি কী

ফজরের নামাজের গুরুত্ব ও বিশেষ ফজিলত

জানাজার নামাজের দোয়া ও পূর্ণাঙ্গ নিয়ম

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত