পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ, নির্ভরযোগ্য এবং অকৃত্রিম ভালোবাসার নাম হলো মা। একজন মানুষ যখন প্রথম পৃথিবীর আলো দেখে, তখন তার প্রথম আশ্রয়, প্রথম নিরাপত্তা এবং মমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন মা। ইসলাম এই পবিত্র সম্পর্কটিকে শুধু আবেগ বা পারিবারিক বন্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং মায়ের মর্যাদাকে উন্নীত করেছে ইবাদতের পর্যায়ে এবং সম্মানের সর্বোচ্চ শিখরে।
মায়ের মর্যাদা বাবার চেয়েও বেশি: এক ব্যক্তি নবী করিম (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে জানতে চান, ‘হে আল্লাহর রাসুল, মানুষের মধ্যে আমার কাছে সর্বোত্তম সেবা লাভের অধিকার কার?’ নবীজি (সা.) উত্তর দিলেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবার জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ লোকটি আবারও জানতে চান, ‘তারপর কার?’ তিনি আবারও বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ চতুর্থবার জিজ্ঞাসার পর নবীজি (সা.) বললেন, ‘তোমার পিতার।’ (সহিহ্ বুখারি ও সহিহ্ মুসলিম)।
এই হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, ইসলামি শরিয়তে সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাবার চেয়ে মায়ের অধিকার তিন গুণ বেশি।
মায়ের পদতলে জান্নাত: একজন মুমিনের জন্য জান্নাত লাভের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো মায়ের সেবা। এ প্রসঙ্গে একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা রয়েছে। হজরত মুআবিয়া ইবনে জাহিমা আসসালামি (রা.) রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে জিহাদে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে নবীজি (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমার মা কি বেঁচে আছেন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। তখন রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মায়ের সেবায় নিয়োজিত থাকো, কেননা তাঁর পায়ের নিচেই জান্নাত।’ (সুনানে নাসায়ি)
মায়ের দোয়া ও এক নজরে হজের সওয়াব: মায়ের দোয়া সন্তানের জন্য এক অবিনশ্বর ঢাল। হাদিস অনুযায়ী, তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল হয়, যার মধ্যে প্রথমটি হলো সন্তানের জন্য মা-বাবার দোয়া। (সুনানে আবু দাউদ: ১৫৩৮)
শুধু তাই নয়, মায়ের প্রতি ভালোবাসার দৃষ্টিতেও রয়েছে বিপুল সওয়াব। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, যখন কোনো অনুগত সন্তান নিজের মা-বাবার দিকে অনুগ্রহের নজরে দেখে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে একটি করে ‘কবুল হজের’ সওয়াব দান করেন। (সুনানে বায়হাকি)

আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। একটি সুন্দর, সুশোভিত ও গৌরবময় সমাজ বিনির্মাণে শিশুদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পবিত্র কোরআনে শিশুদের পার্থিব জীবনের শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য হিসেবে আখ্যায়িত করে মহান আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন, ‘ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা।’ (সুরা কাহাফ: ৪৬)
২ ঘণ্টা আগে
সুখ-দুঃখ ও আনন্দ-বেদনা আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অপ্রত্যাশিত কোনো আনন্দ বা বহুল প্রত্যাশিত কোনো সাফল্যের সংবাদে আমরা উৎফুল্ল হই এবং আনন্দ প্রকাশ করি। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, যেকোনো আনন্দের মুহূর্তে উৎফুল্লতার আতিশয্যে অহংকারী না হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতায় অবনত হতে।
২ ঘণ্টা আগে
গত শতাব্দীর ষাটের দশকের কথা। সে সময় মিসরের বিখ্যাত ‘কোরআনুল কারিম’ রেডিওর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ‘মুরাত্তাল’ (মাঝারি বা ধীরগতির) খতম রেকর্ড করেন শায়খ কারি মুহাম্মদ সিদ্দিক মিনশাবি। রেডিওর উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি সেই খতমটি শোনামাত্রই চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় এবং এমন অভূতপূর্ব তিলাওয়াতের..
২ ঘণ্টা আগে
মহররম চার পবিত্র মাসের একটি। ইসলামি বর্ষপঞ্জি শুরু হয় এ মাসের মাধ্যমে। মহররম মাসের মর্যাদা কোরআন ও হাদিসে বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া আশুরার কারণে মাসটি মুসলমানদের কাছে বেশ গুরুত্ব বহন করে। এই মাসে শান্তি ও তাকওয়ার সঙ্গে সময় কাটানোর কথা বলে ইসলাম।
২ ঘণ্টা আগে