পৃথিবীর শুরু থেকেই মানবজাতি এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থার প্রয়োজন অনুভব করেছে, যার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করা যায়। এই সম্মিলিত প্রয়োজন মেটাতেই আল্লাহ যুগে যুগে শরিয়তসহ নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। তাঁদের আনা দ্বীন বা ধর্মগুলোয় যেমন ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পন্থা, তেমনি ছিল পার্থিব জীবনের যাবতীয় মূলনীতি।
এই পবিত্র আগমনী ধারাকে পূর্ণতা দিয়েছেন আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি বিশ্ববাসীকে পুনরায় ইসলামের দিকে ডেকেছেন এবং তাঁর আনা দ্বীনকে একটি নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ দ্বীন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। ইসলাম একদিকে যেমন পার্থিব জীবনব্যবস্থাকে সংশোধন করার ঘোষণা দিয়েছে, অন্যদিকে পারকালীন জীবনে অফুরন্ত সুখ-শান্তি লাভের উপায়গুলোর বিশদ বিবরণ দিয়ে তা পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য ধর্মই হচ্ছে ইসলাম। মানুষের ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি ইসলামেই নিহিত। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম হচ্ছে ইসলাম।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৯)
ইসলামের এই পূর্ণতা সামগ্রিক। পূর্ববর্তী নবীদের দ্বীন তাঁদের নিজ নিজ যুগ ও জাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ হলেও তা সামগ্রিক ছিল না। কিন্তু ইসলাম কোনো বিশেষ যুগ, ভূখণ্ড বা জাতির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এটি কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি যুগ ও জাতির জন্য একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ দ্বীন।
ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা, যা মানুষকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জীবন পরিচালনার বিধান সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে। কিন্তু বর্তমানে আমরা ইসলামকে ব্যক্তিগত বিষয় মনে করি। অনেকে ব্যক্তিজীবনে ইসলাম মানলেও সমাজ ও জাতীয় জীবনে তা প্রয়োগ করতে আগ্রহী নই। আমরা ইসলামের কিছু অংশ বিশ্বাস করে মেনে নিই, আর কিছু অংশ অবিশ্বাস করে জীবনে বাস্তবায়ন করতে চাই না। কিন্তু ইসলাম এমন মন-চাওয়া জীবনব্যবস্থা নয়। ইসলামের কিছু বিধান খুব মন দিয়ে মেনে নেওয়া আর কিছু অংশ ছেড়ে দেওয়া—এ ধরনের খণ্ডিত ইসলাম আল্লাহর কাছে কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।
লেখক: বাইতুল আকরাম মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স টঙ্গী, গাজীপুর

ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো মহিমান্বিত রাত ‘লাইলাতুল কদর’ অন্বেষণ করা। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকে শবে কদর অন্বেষণ করো।’ (সহিহ্ বুখারি: ২০২০)। ইতিকাফকারী ব্যক্তি যেহেতু পুরো সময় ইবাদতে থাকেন, তাই তাঁর শবে কদর পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।
১৬ ঘণ্টা আগে
বিংশ শতাব্দীর মুসলিম উম্মাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক, প্রখ্যাত সাহিত্যিক সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি (রহ.)। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের রায়বেরেলির এক সম্ভ্রান্ত আলেম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সাইয়েদ আবদুল হাই ছিলেন ‘নুজহাতুল খাওয়াতির’-এর মতো কালজয়ী গ্রন্থের রচয়িতা।
১৭ ঘণ্টা আগে
সুমামা কিছুটা অবাক হলেন। তিনি এমন কোমল প্রশ্ন আশা করেননি। তবুও তাঁর মুখের ভাব কঠোর রেখে বললেন, ‘হে মুহাম্মদ, ভাবছি তো অনেক কিছুই। তবে আমি আপনার কাছে উত্তম আচরণেরই আশা করছি। যদি আপনি আমাকে হত্যা করেন, তবে আপনি একজন খুনিকে হত্যা করবেন। আর যদি আপনি দয়া করেন, তবে আপনি একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তির ওপর...
১৭ ঘণ্টা আগে
রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ কেবল পুরুষদের জন্য নয়; বরং নারীদের জন্যও এটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রজনী ‘লাইলাতুল কদর’ লাভের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ইতিকাফ। নবী করিম (সা.)-এর পবিত্র স্ত্রীরাও নিয়মিত ইতিকাফ পালন করতেন।
১৮ ঘণ্টা আগে