Ajker Patrika

ক্ষমা করলে যেভাবে মর্যাদা বাড়ে

মুফতি খালিদ কাসেমি
ক্ষমা করলে যেভাবে মর্যাদা বাড়ে
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যিনি ক্ষমা করেন, তিনি দুর্বল নন। বরং তিনিই প্রকৃত শক্তিমান। কারণ, ক্ষমার পথ বেছে নিতে প্রয়োজন হয় গভীর আত্মসংযম, উদারতা ও মনের বিশালতা।

ইসলাম ক্ষমাকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তারা যেন ক্ষমা করে এবং উপেক্ষা করে। তোমরা কি পছন্দ করো না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিন? আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা নুর: ২২)

এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পেছনে রয়েছে এক অনন্য ঘটনা। মিথ্যা অপবাদের ঘটনায় হজরত আবু বকর (রা.)-এর আত্মীয় মিসতাহ (রা.) জড়িয়ে পড়েছিলেন। এতে ব্যথিত হয়ে আবু বকর (রা.) তাঁর নিয়মিত আর্থিক সহযোগিতা বন্ধ করার শপথ করেন। কিন্তু এই আয়াত নাজিল হলে তিনি শপথ প্রত্যাহার করে পুনরায় সহযোগিতা শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কসম! আমি চাই, আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন।’ (সহিহ বুখারি: ৪৭৫০)। ব্যক্তিগত তীব্র আঘাতের ঊর্ধ্বে উঠে ক্ষমা প্রদর্শনের এটি এক অসাধারণ নজির।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সদকা করলে সম্পদ কমে না। ক্ষমা করার কারণে আল্লাহ বান্দার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। আর কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনয়ী হলে আল্লাহ তার মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২৫৮৮)

ক্ষমা মানে অন্যায়ের কাছে হার মানা বা অবিচারকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়; বরং এটি মুমিনের আত্মশক্তির অনন্য প্রকাশ। পারিবারিক জীবন, দাম্পত্যের মনোমালিন্য, পারস্পরিক লেনদেন কিংবা কর্মক্ষেত্রে নানা ভুল-বোঝাবুঝিতে ক্ষমার চর্চা সম্পর্ককে ভাঙন থেকে রক্ষা করে। এটি মানুষের অন্তরের বিদ্বেষ কমায়, পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনে এবং পরিবার ও সমাজে সৌহার্দ্য গড়ে তোলে।

তাই কে কষ্ট দিল, তা নিয়ে সব সময় ভেবে সময় নষ্ট না করে, কাকে ক্ষমা করা যায়—এই উদার মানসিকতা লালন করাই প্রকৃত মহত্ত্বের পরিচয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত