আসসালামু আলাইকুম। আমাদের সমাজে নবীজি (সা.)-কে নিয়ে একটি ঘটনা খুব প্রচলিত, যার মূল বিষয়বস্তু হলো ‘একদিন মহানবী (সা.) পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন একটি হরিণীকে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। হরিণীটি তখন তাঁর কাছে মিনতি করে বলে যে তার দুটি ছোট বাচ্চা আছে, যারা দুধ না পেলে মারা যাবে। সে দুধ পান করিয়ে ফিরে আসার ওয়াদা করলে নবীজি (সা.) তাকে ছেড়ে দেন এবং নিজে তার দায়িত্ব নিয়ে গাছের নিচে বসে থাকেন। এরপর শিকারি এসে নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। কিন্তু হরিণীটি ফিরে আসার পর সেই শিকারি লোকটি মুসলমান হয়ে যায় এবং হরিণীটিকেও মুক্ত করে দেয়।’ এই ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাই।
জুবায়ের হোসেন, চট্টগ্রাম।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। হরিণীর সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর কথোপকথন এবং তার ফিরে আসার এই ঘটনা আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত। অনেকে এটিকে নবীজি (সা.)-এর মুজিজা বা অলৌকিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে হাদিস বিশারদগণ (মুহাদ্দিসিনে কেরাম) এই ঘটনার বিশুদ্ধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। বিখ্যাত হাদিস গবেষকগণ এই ঘটনাকে দুর্বল, বানোয়াট বা ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন।
মোল্লা আলী কারি (রহ.) বলেন, হরিণীর আনুগত্য সম্পর্কিত ঘটনাটি নবীজি (সা.)-এর প্রশংসায় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত। তবে হাদিস ও তাফসির বিশারদ ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘এই ঘটনার কোনো ভিত্তি নেই। যে ব্যক্তি এটিকে রাসুল (সা.)-এর দিকে সম্পর্কিত করবে, সে মিথ্যা বলবে।’
শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রহ.) এ ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত দুর্বল ও ভিত্তিহীন বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এর সনদগুলোতে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে এবং মূল বর্ণনার মধ্যেও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যায়। (আল-মাসনু ফি মারিফাতিল হাদিসিল মাউজু)
এ-সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোর সনদ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনোটিই গুরুতর অভিযোগ থেকে মুক্ত নয়। তাই এগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকা আবশ্যক। এই বর্ণনাগুলোর মূল বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেগুলোর মধ্যে প্রচুর পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে। মোটকথা, এগুলোর মধ্যে স্পষ্টতই বাড়াবাড়ি রয়েছে।
উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বির আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১ ঘণ্টা আগে
ইতিহাসের পাতায় ‘ফেরাউন’ কোনো সাধারণ নাম নয়, বরং এটি চরম জুলুম, অহংকার ও খোদাদ্রোহিতার এক নিকৃষ্টতম প্রতীক। নিজেকে ‘সর্বোচ্চ প্রভু’ দাবি করা এই দুনিয়াবি খোদার পতন হয়েছিল অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে। লোহিতসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে তাঁর সলিলসমাধি আজও বিশ্ববাসীর জন্য এক জাগ্রত সতর্কবার্তা।
৮ ঘণ্টা আগে
পবিত্র কোরআনের ৩০তম পারায় অবস্থিত ৮৯ নম্বর সুরা হলো ‘সুরা ফাজর’ (سورة الفجر)। মক্কা নগরীতে অবতীর্ণ ৩০টি আয়াত, ১৩৯টি শব্দ ও ৫৭৩টি বর্ণসমৃদ্ধ এই সুরা নাজিল হওয়ার আদি ধারাক্রম অনুযায়ী দশম সুরা। মক্কায় নাজিল হওয়া অন্য অনেক সুরার মতো এটিও অত্যন্ত সুরময় ও ছন্দসমৃদ্ধ।
১০ ঘণ্টা আগে
কোরবানিদাতা কোরবানির পশু থেকে যে মাংস পান, সাধারণত তা থেকে কিছু অংশ গরিব-মিসকিন, আত্মীয়স্বজনকে দিয়ে দেন, কিছু অংশ নিজেরা খান আর কিছু অংশ সংরক্ষণ করে রাখেন। কেউ কেউ আবার কোরবানির কোনো মাংস সংরক্ষণ করে রাখেন না; সবটুকু দান করে দেন বা খেয়ে ফেলেন।
২০ ঘণ্টা আগে