Ajker Patrika

মা-বাবার অধিকার ও সন্তানের দায়িত্ব

আব্দুস সাত্তার সুমন
মা-বাবার অধিকার ও সন্তানের দায়িত্ব
প্রতীকী ছবি

বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তানের কাঁধে এসে পড়ে পুরো সংসারের ভার। নিজের নতুন সংসার, স্ত্রী-সন্তানের চাহিদা থাকার পরও তাঁকে গ্রহণ করতে হয় বৃদ্ধ মা ও ছোট ভাই-বোনদের পড়াশোনা ও চিকিৎসার দায়িত্ব। নিজের সুখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন পুরো পরিবারের আশ্রয়স্থল।

তবে সময়ের আবর্তে সেই জ্যেষ্ঠ সন্তান যখন নিজে বৃদ্ধ হন, উপার্জন কমে আসে, তখন সন্তান হিসেবে আমাদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত? অনেকে মনে করেন, বাবা তো কিছু আয় করছেনই কিংবা সন্তানকে বড় করা বাবারই দায়িত্ব ছিল। কিন্তু কোরআন শুধু পিতা-মাতার কর্তব্য নয়, বরং বার্ধক্যে তাঁদের প্রতি অসীম ‘ইহসান’ বা সদাচরণের আদেশ দিয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের রব নির্দেশ দিয়েছেন...পিতা-মাতার একজন বা উভয়ই বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের ‘উফ’ বলো না এবং তাদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বলো।’ (সুরা ইসরা: ২৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তুমি এবং তোমার সম্পদ তোমার পিতার।’ (সুনান ইবনে মাজাহ: ২২৯১)। এর অর্থ হলো, পিতার অভাবের দিনে সন্তানের সম্পদ থেকে তাঁর প্রয়োজন পূরণ করা সন্তানেরই আবশ্যিক দায়িত্ব। অবশ্য ইসলাম এখানে ভারসাম্য রক্ষা করেছে। নিজের স্ত্রী-সন্তানের ন্যায্য অধিকার ও খোরপোশ নিশ্চিত করার পর। (সহিহ বুখারি: ৫৩৫৬)। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী পিতা-মাতার পাশে দাঁড়ানোই ইমানের দাবি।

যে বাবা জীবনের সোনালি দিনগুলো নিজের মা ও ভাই-বোনের পেছনে ব্যয় করেছেন, বৃদ্ধ বয়সে এসে তাঁর সেই ত্যাগ ভুলে যাওয়া ঘোর অন্যায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা উভয়কে বা একজনকে বৃদ্ধ বয়সে পেল অথচ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না, সে লাঞ্ছিত।’ (সহিহ মুসলিম: ২৫৫১)

বৃদ্ধ পিতার অবদানের বিপরীতে তাঁর পাশে দাঁড়ানো করুণা নয়; বরং ইমানি দায়িত্ব ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের হক আদায় করে বার্ধক্যে বাবার পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই নিহিত রয়েছে একটি সংসারের সৌন্দর্য ও পরকালের পরম সাফল্য।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত