Ajker Patrika

যে ৮ গুণ মানুষকে আল্লাহর প্রিয় করে তোলে

মো. আব্দুল ওহাব
যে ৮ গুণ মানুষকে আল্লাহর প্রিয় করে তোলে

আল্লাহ তাআলা মুমিনদের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর রঙে রঙিন হতে। আর আল্লাহর রঙে নিজেকে রাঙানোর সেরা উপায় হলো তাঁর এবং রাসুল (সা.)-এর পছন্দের গুণাবলি নিজের চরিত্রে ধারণ করা। নিচে এমন আটটি বিশেষ গুণ ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো, যা একজন বান্দাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রিয়পাত্রে পরিণত করে—

১. তাকওয়া বা পরম আল্লাহভীতি

সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপস্থিতি অনুভব করা, তাঁর নির্দেশ মেনে চলা এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকাই তাকওয়া। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা যদি ইমানদার হয়ে থাকো, তবে আমাকে ভয় করো।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৭৫)। প্রিয় নবী (সা.) প্রিয় উম্মতকে আদেশ দিয়ে বলেন, ‘তোমাদের প্রভু আল্লাহ তাআলাকে ভয় করো, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করো, রমজানের রোজা রাখো, সম্পদের জাকাত দাও, নেতৃত্বদানকারীদের আনুগত্য করো; তবেই প্রতিপালকের জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।’ (জামে তিরমিজি: ৬১৬)

২. কঠিন বিপদে ধৈর্য ও সহনশীলতা

যুগে যুগে আম্বিয়ায়ে কেরাম ও মহান মনীষীদের অন্যতম প্রধান ভূষণ ছিল ধৈর্য। বর্তমান সময়ের অস্থির সমাজে এই গুণের চর্চা অত্যন্ত জরুরি। সুরা রাদের ২৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমরা ধৈর্যধারণের কারণে তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আর তোমাদের এই শেষ ঠিকানা কতই-না চমৎকার!’

৩. কাজের ধীরস্থিরতা ও দূরদর্শিতা

যেকোনো কাজে তাড়াহুড়ো করলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে এবং কাজের বরকত নষ্ট হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ধীরস্থিরতা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, আর তাড়াহুড়ো শয়তানের পক্ষ থেকে।’ তিনি এক সাহাবিকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমার ভেতর এমন দুটি স্বভাব রয়েছে, যা আল্লাহ তাআলা ভালোবাসেন—প্রজ্ঞা ও ধীরস্থিরতা।’ (সহিহ মুসলিম: ১৭)

৪. সৃষ্টির প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। আল্লাহর অন্য সৃষ্টি ও মানুষের প্রতি অনুকম্পা দেখানো পরম সওয়াবের কাজ। আল্লাহ তাআলা সুরা বাকারার ১৯৫ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করেন, ‘আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অনুগ্রহকারীদের ভালোবাসেন।’

৫. অনুশোচনা ও বেশি বেশি তওবা

মানুষমাত্রই ভুল হতে পারে, কিন্তু ভুলের পর রবের দরবারে অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসাই মুমিনের সৌন্দর্য। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীকে ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা: ২২২)। হাদিস শরিফে প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষমাত্রই গুনাহগার। আর গুনাহগারদের মধ্যে তওবাকারীরাই উত্তম।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২৫)

৬. আল্লাহর ওপর অকৃত্রিম ভরসা

সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ সর্বাবস্থায় হতাশ না হয়ে রবের ওপর দৃঢ় ভরসা রাখাই তাওয়াক্কুল। কোরআনে এসেছে, ‘অতঃপর যখন কোনো কাজের সিদ্ধান্ত নিয়ে নাও, তখন আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ ভরসাকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৫৯)

৭. বিচারে ও বিবাদে চরম সুবিচার

ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক জীবনে সুবিচার কায়েম করা প্রতিটি মুমিনের আমানত। রাসুল (সা.) আজীবন সব ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। সুরা মায়েদার ৪২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যদি বিচার করেন, তবে ন্যায়ভাবে ফয়সালা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন।’

৮. চিরন্তন সত্যবাদিতা

সত্য মানুষকে মুক্তির পথ দেখায় আর মিথ্যা ধ্বংস ডেকে আনে। সত্যবাদীদের মর্যাদার বিষয়ে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদিনী নারী—এদের জন্য মহান আল্লাহ ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান রেখেছেন।’ (সুরা আহজাব: ৩৫)। আল্লাহ তাআলা ইমানদারদের নির্দেশ দিয়েছেন সত্যবাদীদের সান্নিধ্যে থাকার জন্য।

লেখক: শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত