মানবজীবনের স্বাভাবিক পরিণতি মৃত্যু। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মানুষের কর্মজীবনের ইতি ঘটলেও কিছু নেক আমল এমন রয়েছে, যার প্রতিদান পরকালেও অবিরাম পৌঁছাতে থাকে। দুনিয়ায় রেখে যাওয়া এমন কিছু কল্যাণকর উদ্যোগ মৃত্যুর পরও আলোর উৎস হয়ে থাকে।
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ মারা গেলে তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়; তবে তিনটি আমল ব্যতিক্রম—১. চলমান দান (সদকায়ে জারিয়া), ২. এমন উপকারী জ্ঞান, যার মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হয় এবং ৩. সুসন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহ মুসলিম)
১. সদকায়ে জারিয়া: এটি এমন দান, যার সুফল দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়। যেমন—মসজিদ, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ, পানির কূপ বা নলকূপ স্থাপন, বৃক্ষরোপণ, এতিমখানা পরিচালনা কিংবা জনকল্যাণে জমি ওয়াক্ফ করা। এসবের উপকারিতা যত দিন বজায় থাকবে, দাতার আমলনামায় সওয়াব তত দিন যুক্ত হতে থাকবে।
২. উপকারী জ্ঞান: একজন শিক্ষক, গবেষক, লেখক বা দাঈর রেখে যাওয়া দ্বীনি ও নৈতিক জ্ঞান, যা মানুষকে সঠিক পথ দেখায়, তা সদকায়ে জারিয়ার মতোই। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন, মানব উন্নয়ন ও দ্বীনি সচেতনতায় সহায়ক জ্ঞান মৃত্যুর পরও মুমিনের জন্য সওয়াবের পথ খোলা রাখে।
৩. সুসন্তান: সন্তানকে সুশিক্ষায় গড়ে তোলা আখিরাতের অমূল্য বিনিয়োগ। সন্তান মা-বাবার জন্য ইস্তিগফার ও দোয়া করলে তা কবুল হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জান্নাতে কারও মর্যাদা বৃদ্ধি পেলে জানানো হবে—সন্তানের দোয়ার কারণেই সে এই সম্মান লাভ করেছে। (সুনানে ইবনে মাজাহ)
এ ছাড়া আলেমদের মতে, মৃত স্বজনদের জন্য দোয়া করা, তাদের নামে দান-সদকা করা এবং ঋণ পরিশোধ করার সওয়াবও মৃতের কাছে নিশ্চিতভাবে পৌঁছায়। (সহিহ বুখারি)
মৃত্যু অবধারিত হলেও এই তিন আমলের সুফল অবিনশ্বর। তাই জীবিত থাকতেই এমন স্থায়ী মানবকল্যাণমূলক কাজ করে যাওয়া উচিত, যা পরকালে আমাদের মুক্তির মাধ্যম হবে।

পৃথিবীতে প্রতিটি প্রাণীর জন্য মৃত্যু এক অবধারিত ও ধ্রুব সত্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৮৫)। মৃত্যু জীবনের সমাপ্তি নয়, বরং এটি এক নতুন জীবনের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হওয়া। এই চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও জীবিতদের জন্য
১০ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৫ ঘণ্টা আগে
মানুষের জীবন একটি স্বল্পকালীন যাত্রা। পথের দুই ধারে কত রং, প্রলোভন আর আকর্ষণ; ধনদৌলতের ঝলক, খ্যাতির হাতছানি, ক্ষমতার নেশা কিংবা আরাম-আয়েশের চাহিদা। এসব বৈধ নিয়ামত উপভোগ করা যাবে না, ইসলাম এমন কথা বলে না। ইসলাম বরং দুনিয়াকে আল্লাহর দেওয়া অনুগ্রহ হিসেবে গ্রহণ করতে শেখায়।
১ দিন আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
২ দিন আগে