ইসলাম ডেস্ক

ইসলাম শব্দের মূল অর্থই হলো শান্তি, প্রীতি ও আত্মসমর্পণ। ইসলাম ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার এক শাশ্বত আহ্বান। ইসলামের বাণী সমগ্র মানবজাতির জন্য; যেখানে প্রতিটি মানুষ সমান মর্যাদার অধিকারী।
বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে মহানবী (সা.) বিশ্ববাসীর কাছে অনন্য ভ্রাতৃত্বের রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। সেদিন রাসুল (সা.) বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, অনারবদের ওপর আরবদের কিংবা কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর শ্বেতাঙ্গদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; সবাই এক আদমের সন্তান।
পবিত্র কোরআনের সুরা হুজরাতের ১০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই। অতএব, তোমাদের ভাইদের পারস্পরিক সম্পর্ক যথাযথভাবে সংশোধন করে নাও এবং আল্লাহকে ভয় করো, আশা করা যায় তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হবে।’
এই আয়াত প্রমাণ করে যে মানবীয় ভ্রাতৃত্বের সঙ্গে দ্বীনি ভ্রাতৃত্বের এক গভীর যোগসূত্র রয়েছে। ইসলাম একটি সুবিশাল বৃক্ষের মতো, যার শিকড় ইমানের গভীরে প্রোথিত এবং শাখা-প্রশাখা অসীম আকাশের মতো বিস্তৃত। এই গাছের ফুলের সুবাস হলো একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
সুরা আলে ইমরানের ১০৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ভ্রাতৃত্বকে তাঁর ‘শ্রেষ্ঠ নিয়ামত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর রশিকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ও না। তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু, অতঃপর তিনি তোমাদের হৃদয়ে সম্প্রীতি সঞ্চার করলেন, ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে।’
রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলিম উম্মাহকে একটি দেহের সঙ্গে তুলনা করেছেন। দেহের একটি অঙ্গে ব্যথা পেলে যেমন পুরো শরীর অস্থির হয়ে পড়ে, তেমনি একজন মুসলমানের কষ্টে অন্য মুসলমানের ব্যথিত হওয়া বাধ্যতামূলক। তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষে লিপ্ত হবে না, কেউ কারও পেছনে লাগবে না এবং কেউ কারও থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে না। বরং হে আল্লাহর বান্দারা, তোমরা ভাই ভাই হয়ে বসবাস করো।’ (সহিহ্ বুখারি)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘একজন মুমিন অপর মুমিনের জন্য একটি প্রাচীরের ইটের মতো, যার একটি ইট অপরটিকে শক্তি জোগায়।’
বর্তমানে পৃথিবীর দিকে তাকালে আমরা শুধু হানাহানি, রেষারেষি আর রক্তপাত দেখতে পাই। মানুষের হৃদয়ে যদি ইসলামের এই ভ্রাতৃত্ববোধ ও মায়া-মহব্বত থাকত, তবে পৃথিবীটা হতে পারত এক জান্নাতি উদ্যান। ইসলাম সব সময় দয়া ও সহানুভূতির শিক্ষা দেয়।
আমাদের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়—
‘ইসলাম বলে সকলের তরে মোরা সবাই,
সুখ-দুঃখ সমভাগ করে নেব সকলে ভাই।’
প্রভাতের সোনালি সূর্যকিরণ যেভাবে সারা দুনিয়াকে আলোকিত করে, আমাদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতিও সেভাবে ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বময়। ইসলামের দেখানো পথে যদি আমরা একে অপরের হাসি-কান্না ভাগ করে নিতে পারি, তবেই পৃথিবীতে প্রকৃত শান্তি ফিরে আসা সম্ভব। কারণ, মানুষকে ভালোবাসলেই আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়া যায়, যা ইহকাল ও পরকালে চিরকল্যাণ বয়ে আনে।
লেখক: শারমিন নাহার ঝর্ণা

ইসলাম শব্দের মূল অর্থই হলো শান্তি, প্রীতি ও আত্মসমর্পণ। ইসলাম ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার এক শাশ্বত আহ্বান। ইসলামের বাণী সমগ্র মানবজাতির জন্য; যেখানে প্রতিটি মানুষ সমান মর্যাদার অধিকারী।
বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে মহানবী (সা.) বিশ্ববাসীর কাছে অনন্য ভ্রাতৃত্বের রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। সেদিন রাসুল (সা.) বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, অনারবদের ওপর আরবদের কিংবা কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর শ্বেতাঙ্গদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; সবাই এক আদমের সন্তান।
পবিত্র কোরআনের সুরা হুজরাতের ১০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই। অতএব, তোমাদের ভাইদের পারস্পরিক সম্পর্ক যথাযথভাবে সংশোধন করে নাও এবং আল্লাহকে ভয় করো, আশা করা যায় তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হবে।’
এই আয়াত প্রমাণ করে যে মানবীয় ভ্রাতৃত্বের সঙ্গে দ্বীনি ভ্রাতৃত্বের এক গভীর যোগসূত্র রয়েছে। ইসলাম একটি সুবিশাল বৃক্ষের মতো, যার শিকড় ইমানের গভীরে প্রোথিত এবং শাখা-প্রশাখা অসীম আকাশের মতো বিস্তৃত। এই গাছের ফুলের সুবাস হলো একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
সুরা আলে ইমরানের ১০৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ভ্রাতৃত্বকে তাঁর ‘শ্রেষ্ঠ নিয়ামত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর রশিকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ও না। তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু, অতঃপর তিনি তোমাদের হৃদয়ে সম্প্রীতি সঞ্চার করলেন, ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে।’
রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলিম উম্মাহকে একটি দেহের সঙ্গে তুলনা করেছেন। দেহের একটি অঙ্গে ব্যথা পেলে যেমন পুরো শরীর অস্থির হয়ে পড়ে, তেমনি একজন মুসলমানের কষ্টে অন্য মুসলমানের ব্যথিত হওয়া বাধ্যতামূলক। তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষে লিপ্ত হবে না, কেউ কারও পেছনে লাগবে না এবং কেউ কারও থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে না। বরং হে আল্লাহর বান্দারা, তোমরা ভাই ভাই হয়ে বসবাস করো।’ (সহিহ্ বুখারি)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘একজন মুমিন অপর মুমিনের জন্য একটি প্রাচীরের ইটের মতো, যার একটি ইট অপরটিকে শক্তি জোগায়।’
বর্তমানে পৃথিবীর দিকে তাকালে আমরা শুধু হানাহানি, রেষারেষি আর রক্তপাত দেখতে পাই। মানুষের হৃদয়ে যদি ইসলামের এই ভ্রাতৃত্ববোধ ও মায়া-মহব্বত থাকত, তবে পৃথিবীটা হতে পারত এক জান্নাতি উদ্যান। ইসলাম সব সময় দয়া ও সহানুভূতির শিক্ষা দেয়।
আমাদের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়—
‘ইসলাম বলে সকলের তরে মোরা সবাই,
সুখ-দুঃখ সমভাগ করে নেব সকলে ভাই।’
প্রভাতের সোনালি সূর্যকিরণ যেভাবে সারা দুনিয়াকে আলোকিত করে, আমাদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতিও সেভাবে ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বময়। ইসলামের দেখানো পথে যদি আমরা একে অপরের হাসি-কান্না ভাগ করে নিতে পারি, তবেই পৃথিবীতে প্রকৃত শান্তি ফিরে আসা সম্ভব। কারণ, মানুষকে ভালোবাসলেই আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়া যায়, যা ইহকাল ও পরকালে চিরকল্যাণ বয়ে আনে।
লেখক: শারমিন নাহার ঝর্ণা

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনার ঐতিহাসিক খন্দক যুদ্ধক্ষেত্রে একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ আধুনিকায়নের পাশাপাশি ওই ঐতিহাসিক যুদ্ধের রণকৌশল প্রদর্শনের জন্য একটি আধুনিক ‘সিমুলেশন সাইট’ বা কৃত্রিম যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে।
১২ ঘণ্টা আগে
শীতকাল এলেই অনেকের একটি সাধারণ প্রশ্ন উঁকি দেয়—অজু করার জন্য গরম পানি ব্যবহার করলে কি পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যাবে? অনেকের ধারণা, ঠান্ডা পানি দিয়ে কষ্ট করে অজু করলে সওয়াব বেশি আর আরামদায়ক গরম পানি ব্যবহার করলে সওয়াব কম।
১ দিন আগে
নামাজ আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি যেমন আমাদের দৈহিক পবিত্রতা নিশ্চিত করে, তেমনই আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। আজকের এই নামাজের সময়সূচি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, আল্লাহর জন্য সময় বের করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।
১ দিন আগে
হাদিসে এমন কিছু সৌভাগ্যবান মানুষের কথা এসেছে, যাদের জন্য আল্লাহর ফেরেশতারা দোয়া করেন। তাঁরা দোয়া করেন ক্ষমা, রহমত, হিদায়াত ও জান্নাতের জন্য। কারা সেই মানুষ, কোন আমলগুলো করলে একজন বান্দা এই মর্যাদায় পৌঁছাতে পারে?
২ দিন আগে