ইসলাম ডেস্ক

ইবাদতে একাগ্রতা বা মনোযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অনেকে অভিযোগ করেন যে, তাঁরা ইবাদত করেন, কিন্তু ইবাদতে মন বসে না, বরং গুনাহের প্রতিই আগ্রহ জাগে। ইবাদতের প্রতি এই অনাগ্রহ বা অলসতা একটি ক্ষতিকর অভ্যাস।
ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত বা মুস্তাহাব—প্রতিটি ইবাদতের মাধ্যমেই আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে চিরস্থায়ী জান্নাত লাভের চেষ্টা করি। ইমানের সঙ্গে নেক আমল অপরিহার্য হওয়া সত্ত্বেও অনেকে এই আমলের ব্যাপারে চরম অবহেলা প্রদর্শন করেন। নেক আমলে মন না বসার এই অনীহাবোধ জীবনে অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনে। এর পেছনে একাধিক কারণ বিদ্যমান, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিচে তুলে ধরা হলো:
ক. পরকালীন জীবন সম্পর্কে উদাসীনতা
যাঁরা আখিরাতে নেক আমলের সুফল ও তাতে অবহেলার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সচেতন নন, তাঁদের মধ্যে ইবাদতের আগ্রহ জন্মায় না। তাঁরা পার্থিব জীবনকে আসল মনে করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সত্যবিমুখ এবং তারা অহংকার প্রদর্শন করে।’ (সুরা নাহল: ২২)
খ. গুনাহের আধিক্য
অধিক হারে গুনাহ করা মানুষের অন্তরকে শক্ত ও প্রভাবিত করে তোলে। যে অন্তরে গুনাহ বেশি হয়, সেখানে নেক আমলের আগ্রহ ধীরে ধীরে কমে আসে। গুনাহ মানুষের হৃদয়ে মরিচা ধরায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কখনো না, বরং তারা যা করে, তা-ই তাদের হৃদয়ে মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে।’ (সুরা মুতাফফিফিন: ১৪)
গ. শয়তানের কুমন্ত্রণা
শয়তান মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু। সে সর্বদা মানুষকে সৎ পথে বাধা দেয়, যাতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে মনে করে যে তারা সঠিক পথেই রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্য এক শয়তান নিয়োজিত করে দিই, অতঃপর সে-ই হয় তার সঙ্গী। শয়তানরাই মানুষকে সৎ পথে বাধা দান করে আর মানুষ মনে করে যে, তারা সৎ পথে রয়েছে।’ (সুরা জুখরুফ: ৩৬-৩৭)
ঘ. ইলম বা জ্ঞানের অভাব
ইলম তথা সঠিক জ্ঞান ছাড়া নেক আমল করা সম্ভব নয়, ফলে ইবাদতে অনীহা দেখা দেয়। ইসলামি জ্ঞানহীনদের হৃদয়ে আল্লাহ তাআলা মোহর মেরে দেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘এমনিভাবে আল্লাহ জ্ঞানহীনদের অন্তরে মোহর মেরে দেন।’ (সুরা রুম: ৫৯)
ঙ. অসৎ সঙ্গীর প্রভাব
অসৎ সঙ্গী নেক আমলের পথে একটি বড় প্রতিবন্ধক। সঙ্গীর খারাপ অভ্যাসের প্রভাব দ্রুতই নিজের মধ্যে চলে আসে। এ কারণেই সৎ লোকদের সঙ্গে থাকার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।’ (সুরা তাওবা, ১১৯)
চ. তাকওয়া বা আল্লাহভীতির অভাব
ইবাদতে মন না বসার অন্যতম প্রধান কারণ হলো তাকওয়ার অভাব। তাকওয়া মানুষকে ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্যবোধ ও সত্য পথে চলার শক্তি জোগায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যাদের মনে তাকওয়া রয়েছে, তাদের ওপর শয়তানের আগমন ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়।’ (সুরা আরাফ: ২০১)
এ ছাড়া অন্তরের কুপ্ররোচনা, ইমানি দুর্বলতা, দুনিয়াবি চিন্তা, অতিরিক্ত টেনশন ও মানসিক অস্থিরতাও ইবাদত থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিতে পারে।
লেখক: মুফতি ইবরাহীম আল খলীল, সহকারী শিক্ষাসচিব, মাদ্রাসা আশরাফুল মাদারিস, তেজগাঁও, ঢাকা

ইবাদতে একাগ্রতা বা মনোযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অনেকে অভিযোগ করেন যে, তাঁরা ইবাদত করেন, কিন্তু ইবাদতে মন বসে না, বরং গুনাহের প্রতিই আগ্রহ জাগে। ইবাদতের প্রতি এই অনাগ্রহ বা অলসতা একটি ক্ষতিকর অভ্যাস।
ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত বা মুস্তাহাব—প্রতিটি ইবাদতের মাধ্যমেই আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে চিরস্থায়ী জান্নাত লাভের চেষ্টা করি। ইমানের সঙ্গে নেক আমল অপরিহার্য হওয়া সত্ত্বেও অনেকে এই আমলের ব্যাপারে চরম অবহেলা প্রদর্শন করেন। নেক আমলে মন না বসার এই অনীহাবোধ জীবনে অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনে। এর পেছনে একাধিক কারণ বিদ্যমান, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিচে তুলে ধরা হলো:
ক. পরকালীন জীবন সম্পর্কে উদাসীনতা
যাঁরা আখিরাতে নেক আমলের সুফল ও তাতে অবহেলার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সচেতন নন, তাঁদের মধ্যে ইবাদতের আগ্রহ জন্মায় না। তাঁরা পার্থিব জীবনকে আসল মনে করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সত্যবিমুখ এবং তারা অহংকার প্রদর্শন করে।’ (সুরা নাহল: ২২)
খ. গুনাহের আধিক্য
অধিক হারে গুনাহ করা মানুষের অন্তরকে শক্ত ও প্রভাবিত করে তোলে। যে অন্তরে গুনাহ বেশি হয়, সেখানে নেক আমলের আগ্রহ ধীরে ধীরে কমে আসে। গুনাহ মানুষের হৃদয়ে মরিচা ধরায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কখনো না, বরং তারা যা করে, তা-ই তাদের হৃদয়ে মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে।’ (সুরা মুতাফফিফিন: ১৪)
গ. শয়তানের কুমন্ত্রণা
শয়তান মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু। সে সর্বদা মানুষকে সৎ পথে বাধা দেয়, যাতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে মনে করে যে তারা সঠিক পথেই রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্য এক শয়তান নিয়োজিত করে দিই, অতঃপর সে-ই হয় তার সঙ্গী। শয়তানরাই মানুষকে সৎ পথে বাধা দান করে আর মানুষ মনে করে যে, তারা সৎ পথে রয়েছে।’ (সুরা জুখরুফ: ৩৬-৩৭)
ঘ. ইলম বা জ্ঞানের অভাব
ইলম তথা সঠিক জ্ঞান ছাড়া নেক আমল করা সম্ভব নয়, ফলে ইবাদতে অনীহা দেখা দেয়। ইসলামি জ্ঞানহীনদের হৃদয়ে আল্লাহ তাআলা মোহর মেরে দেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘এমনিভাবে আল্লাহ জ্ঞানহীনদের অন্তরে মোহর মেরে দেন।’ (সুরা রুম: ৫৯)
ঙ. অসৎ সঙ্গীর প্রভাব
অসৎ সঙ্গী নেক আমলের পথে একটি বড় প্রতিবন্ধক। সঙ্গীর খারাপ অভ্যাসের প্রভাব দ্রুতই নিজের মধ্যে চলে আসে। এ কারণেই সৎ লোকদের সঙ্গে থাকার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।’ (সুরা তাওবা, ১১৯)
চ. তাকওয়া বা আল্লাহভীতির অভাব
ইবাদতে মন না বসার অন্যতম প্রধান কারণ হলো তাকওয়ার অভাব। তাকওয়া মানুষকে ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্যবোধ ও সত্য পথে চলার শক্তি জোগায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যাদের মনে তাকওয়া রয়েছে, তাদের ওপর শয়তানের আগমন ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়।’ (সুরা আরাফ: ২০১)
এ ছাড়া অন্তরের কুপ্ররোচনা, ইমানি দুর্বলতা, দুনিয়াবি চিন্তা, অতিরিক্ত টেনশন ও মানসিক অস্থিরতাও ইবাদত থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিতে পারে।
লেখক: মুফতি ইবরাহীম আল খলীল, সহকারী শিক্ষাসচিব, মাদ্রাসা আশরাফুল মাদারিস, তেজগাঁও, ঢাকা

হাদিসে এমন কিছু সৌভাগ্যবান মানুষের কথা এসেছে, যাদের জন্য আল্লাহর ফেরেশতারা দোয়া করেন। তাঁরা দোয়া করেন ক্ষমা, রহমত, হিদায়াত ও জান্নাতের জন্য। কারা সেই মানুষ, কোন আমলগুলো করলে একজন বান্দা এই মর্যাদায় পৌঁছাতে পারে?
৬ ঘণ্টা আগে
নামাজ আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি যেমন আমাদের দৈহিক পবিত্রতা নিশ্চিত করে, তেমনই আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। আজকের এই নামাজের সময়সূচি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, আল্লাহর জন্য সময় বের করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।
১২ ঘণ্টা আগে
গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগতীরে দোয়ার মাধ্যমে শেষ হয়েছে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ি নেজামের অধীনে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী খুরুজের জোড়। সকালে ঢাকা, গাজীপুরসহ আশপাশের জেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নামে ইজতেমা ময়দানে। দোয়ায় অংশ নেন প্রায় ৭২টি দেশ থেকে ২ হাজার ৫০০ বিদেশি মেহমান ও বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ...
২১ ঘণ্টা আগে
অজু দৈনন্দিন জীবনে একাধিকবার ফিরে আসা এক পবিত্র চর্চা। যাঁরা অজুকে গুরুত্ব দেন, নিয়মিত অজু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করেন, তাঁদের জন্য রয়েছে দুনিয়ায় শান্তি ও আখিরাতে মুক্তির প্রতিশ্রুতি। অজু নামাজের পূর্বশর্ত। এটি শুধু শরীর ধোয়ার একটি প্রক্রিয়া নয়, বরং আত্মিক ও শারীরিক পবিত্রতার সম্মিলিত একটি প্রতীক।
১ দিন আগে