ইতিহাস কখনো নিছক কাহিনি নয়, কখনো কখনো তা হয়ে ওঠে অনুভূতির প্রতীক। মদিনার অদূরে অবস্থিত এক নিঃশব্দ পাহাড় তেমনই এক ইতিহাসের সাক্ষী। এটি শুধু মাটি-পাথরের সমষ্টি নয়; বরং এই পাহাড় ইসলামের প্রথম যুগের বীরত্ব, আত্মত্যাগ, কষ্ট ও ভালোবাসার জীবন্ত স্মারক। রাসুলুল্লাহ (সা.) যাকে বলেছিলেন, ‘উহুদ আমাদের ভালোবাসে, আমরাও তাকে ভালোবাসি।’
মদিনা শহরের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত উহুদ পাহাড়। এই পাহাড়ের পাদদেশেই সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই—উহুদের যুদ্ধ।
বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের কাছে পরাজিত হয়ে কুরাইশরা প্রতিশোধ নিতে উন্মুখ হয়ে ওঠে। তারা ইসলাম, নবী ও মুসলমানদের মুছে দিতে অঙ্গীকার করে উহুদ প্রান্তরে সমবেত হয়।
প্রথমে মুসলমানদের হাতে বিজয়ের পাল্লা ভারী থাকলেও কিছু সাহাবির কৌশলগত ভুলে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়। নবীজি (সা.) একটি ছোট পাহাড়—জাবালে রুমায় ৫০ জন তিরন্দাজ নিযুক্ত করেন। তাঁদের প্রতি নির্দেশ ছিল, ‘আমরা জিতি বা হারি—তোমরা এখানেই থাকবে।’
কিন্তু যুদ্ধের রণক্ষেত্রে শত্রুদের পলায়ন দেখে তাঁরা গনিমতের মাল সংগ্রহে পাহাড় ছেড়ে নেমে পড়েন। এই সুযোগে কুরাইশ বাহিনী পেছন থেকে আক্রমণ করে মুসলমানদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এই যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় চাচা হামজা (রা.) শহীদ হন। তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করেন তখনো অমুসলিম ওয়াহশি। হামজা (রা.)-এর মরদেহ বিকৃত করেন হিন্দা। বুক চিড়ে কলিজা চিবানোসহ তাঁর নাক-কান কেটে বিকৃত করে দেওয়া হয়।
পরবর্তীকালে হিন্দা ও আবু সুফিয়ান ইসলাম গ্রহণ করলেও রাসুল (সা.) এই ঘটনার যন্ত্রণা ভুলে যাননি। একবার তিনি হিন্দার প্রতি বলেন, ‘তুমি সামনে বসো না। পাশে বা পেছনে বসো। তোমাকে দেখলে চাচা হামজার কথা মনে পড়ে, কষ্ট হয়।’
উহুদ পাহাড় শুধু ইতিহাস নয়, ভালোবাসারও এক অনন্য নিদর্শন। নবীজি (সা.)-এর মুখে এই পাহাড়ের প্রতি ভালোবাসার ঘোষণা ইসলামের ইতিহাসে এক দুর্লভ মানবিক সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘উহুদ একটি পাহাড়, যা আমাদের ভালোবাসে। আমরাও তাকে ভালোবাসি।’ (সহিহ্ মুসলিম)
উহুদের প্রান্তরে শুধু একটি যুদ্ধই হয়নি, হয়েছে শিক্ষা, আত্মত্যাগ ও নবীপ্রেমের এক দুর্লভ পরীক্ষা। এই পাহাড় আজও দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বাসের পাহারাদার হয়ে। উহুদের দিকে তাকালে আমরা কেবল একটি প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখি না; দেখি ইতিহাসের বুক থেকে ভেসে আসা সাহস, শোক এবং ভালোবাসার শিখর।

নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং মুমিনের জন্য শ্রেষ্ঠ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে ৮২ বার সালাত কায়েমের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আর তোমরা আমার স্মরণার্থে নামাজ কায়েম করো।’ (সুরা তহা: ১৪)। নামাজের প্রতিটি রুকন সঠিকভাবে পালন করা নামাজ কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত। এর মধ্যে ‘রুকু’ অত্যন্ত...
৭ ঘণ্টা আগে
বিয়ে সামাজিক বন্ধন, অনন্য ইবাদত। বিয়ের আকদ বা মূল অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হলো বিয়ের খুতবা পাঠ করা। বর ও কনের ইজাব-কবুলের (প্রস্তাব ও গ্রহণ) ঠিক আগে আল্লাহর প্রশংসা ও কোরআনের আয়াত-সংবলিত এই খুতবা পাঠের মাধ্যমে একটি নতুন জীবনের বরকতময় সূচনা হয়।
৮ ঘণ্টা আগে
ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর ও শিক্ষণীয় ঘটনা হলো আসহাবুল ফিল বা হস্তী বাহিনীর ঘটনা। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে ইয়েমেনের দাম্ভিক শাসক আবরাহা পবিত্র কাবা শরিফ ধ্বংসের উদ্দেশ্যে এক বিশাল বাহিনী নিয়ে মক্কায় অভিযান চালায়। মানুষের তৈরি বিশাল শক্তির বিরুদ্ধে মহান আল্লাহর কুদরতি শক্তির সেই লড়াইয়ের ইতিহাস আজও মুমিনদের...
১১ ঘণ্টা আগে
নামাজ মুমিনের মিরাজ এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। নামাজের প্রতিটি রুকন ও আমলের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। এর মধ্যে নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ, যা দরুদে ইবরাহিম নামে পরিচিত। নবী করিম (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের শ্রেষ্ঠতম...
১৮ ঘণ্টা আগে