ইতিহাস কেবল কাগজ-কলমে লেখা থাকে না, অনেক সময় তা দাঁড়িয়ে থাকে পাথর আর কাঠের অবিনাশী কীর্তিতে। তেমনই এক নিদর্শন কাঠ-পাথরের এক বিস্ময়কর মসজিদ। নিখাদ হস্তশিল্পে নির্মিত এই মসজিদটি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যকলার জীবন্ত সাক্ষী। তখনকার মানুষের শিল্পবোধ দেখে অনুমান করা যায়, বিশ্বাস ও ধৈর্যের এক আশ্চর্য প্রতিফলন এই স্থাপনা।
চোখ জুড়ানো এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের পর্যটনসমৃদ্ধ অঞ্চল কুমরাটে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে। পর্যটকদের ভ্রমণের আনন্দ যেন দ্বিগুণ করে দেয় এই স্থাপত্য। তারা বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে থাকে প্রাচীন এই মসজিদের দিকে, যার নির্মাণশৈলী ও স্থাপত্য নিদর্শন যুগ যুগ ধরে মানুষকে মোহিত করছে।
পাহাড়ঘেরা মনোরম কুমরাট উপত্যকার থাল গ্রামে সড়কের পাশে অবস্থিত এই মসজিদ নদীর কিনার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদটি ‘জামিয়া দারুস সালাম’ নামে পরিচিত। এটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো। এর যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি বিস্ময় জাগায়, তা হলো এর নির্মাণে সিমেন্ট, চুন, লোহা কিংবা ধাতব পেরেকের কোনো ব্যবহারই হয়নি। সম্পূর্ণ কাঠ, পাথর এবং কাঠের তৈরি পেরেক দিয়ে তৈরি হয়েছে এই মসজিদ। এর স্তম্ভ, ছাদ ও দেয়ালজুড়ে রয়েছে অসাধারণ কাঠের নকশা ও অলংকরণ, যা অতীত যুগের দক্ষ কাঠশিল্পীদের নিপুণতায় নির্মিত এক অনন্য নিদর্শন।
মসজিদের বর্তমান খতিব মাওলানা শাহাব উদ্দীন ১০ বছর ধরে এখানে নিয়োজিত আছেন। তাঁর বর্ণনায় জানা যায়, ‘মসজিদটির প্রাথমিক নির্মাণ হয়েছিল প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ বছর আগে। একসময় অগ্নিকাণ্ডের ফলে মসজিদটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৫৩ সালে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হয়, যার স্মারকস্বরূপ একটি ফলক আজও মিহরাবের ওপর স্থাপিত রয়েছে। এই মসজিদের কাঠামো সম্পূর্ণরূপে কাঠ ও পাথরে নির্মিত। এখানে ব্যবহৃত সমস্ত পেরেকই কাঠের এবং এর দেয়ালের প্রস্থ কোথাও কোথাও ছয় ফুট পর্যন্ত।’

মসজিদটি দুইতলাবিশিষ্ট। দ্বিতীয় তলা থেকে চারপাশের সবুজ মাঠ ও সেসবের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা নদীর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যায়। মসজিদের নিচতলা দুটি অংশে বিভক্ত। একটি বড় ইবাদত কক্ষ এবং একটি প্রশস্ত বারান্দা। শীতকালে ওই অঞ্চলে প্রচণ্ড তুষারপাত হয়, তাই মসজিদের ভেতরে কাঠ, কয়লা বা লাকড়ি দিয়ে অগ্নিকুণ্ড জ্বালিয়ে নামাজ আদায় করা হয়। আর গ্রীষ্মকালে বেশি গরম পড়লে মুসল্লিরা বারান্দা ও দ্বিতীয় তলায় নামাজ আদায় করেন।
জামিয়া দারুস সালাম মসজিদের দেয়ালজুড়ে কাঠের খোদাই, নিখুঁত কারুকাজ ও পাথরের দৃঢ় নির্মাণশৈলী একদিকে যেমন প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যধারার ঐতিহ্য বহন করে, তেমনি এটি মসজিদের টেকসই স্থায়িত্বের প্রমাণও বহন করে। এটি এখন আর শুধু মসজিদ নয়, বরং স্থানীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক জীবন্ত চিত্র। যুগ যুগ পেরিয়ে মসজিদটি আজও দাঁড়িয়ে আছে অনন্য সৌন্দর্য ও স্থাপত্যশৈলীর এক মূর্ত নিদর্শন হয়ে।
কাঠ-পাথরের এই মসজিদ শুধু প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন নয়, এটি সময়কে উপেক্ষা করে টিকে থাকা এক দৃষ্টান্ত। কাঠ ও পাথরের সুদৃঢ় বন্ধনে নির্মিত এই মসজিদ আমাদের মনে করিয়ে দেয় আধ্যাত্মিকতা ও স্থায়িত্ব তখনই আসে, যখন নির্মাণে থাকে বিশ্বাস আর শিল্পে থাকে আন্তরিকতা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই মসজিদ শুধু ঘুরে দেখার স্থান নয়, এটি হয়ে উঠুক ইতিহাস ও নান্দনিকতার পাঠশালা।
ডন ও ইনডিপেনডেন্ট উর্দু অবলম্বনে

সপ্তাহজুড়ে কর্মব্যস্ততা, নানা চাহিদা আর ক্লান্তির পর মুসলিম জীবনের এক বিশেষ অবলম্বন হলো জুমার দিন। এটি শুধু একটি সপ্তাহান্ত নয়—বরং তা ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি অপূর্ব সুযোগ। হাদিসে এসেছে, জুমার দিন সপ্তাহের সেরা দিন।
৩ ঘণ্টা আগে
প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারীদের মাঝে মাঝে ঘুমের ঘোরে এমন হওয়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধি বা উঠতি তারুণ্যে এটি বেশি ঘটে থাকে, তবে বয়ঃসন্ধিকাল পার হওয়ার অনেক পরেও এটি ঘটতে পারে। অনেক সময় অসচেতনতা বা সঠিক ধর্মীয় জ্ঞানের অভাবে এই বিষয়টি নিয়ে অনেকে দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা লোকলজ্জায় ভোগেন।
৫ ঘণ্টা আগে
মৃত্যু এক অনিবার্য ও চিরন্তন সত্য। এই ধরণির ক্ষণস্থায়ী সফর শেষ করে প্রত্যেক মানুষকে মৃত্যুর অমীয় স্বাদ গ্রহণ করতে হয় এবং প্রবেশ করতে হয় অনন্তকালের আবাসে। এই চিরসত্য মৃত্যুকে ঘিরে মানুষের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে মৃত্যু-পরবর্তী জীবনই হলো প্রকৃত জীবনের সূচনা।
১৫ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৯ ঘণ্টা আগে