বিশ্বাসভঙ্গের এক নির্মম রূপ বিশ্বাসঘাতকতা বা গাদ্দারি। এটি বিশ্বাসের বন্ধন ছিন্ন করে দেয়। বিশ্বাস মানুষের মনে-প্রাণে আস্থার দেয়াল গড়ে তোলে। আর বিশ্বাসঘাতকতা সেই দেয়ালে আঘাত করে ভেঙে ফেলে সবকিছু। বিশ্বাসঘাতক শুধু একজন মানুষকে ঠকায় না—বরং বিশ্বাসের পুরো ভিত্তিকে নষ্ট করে দেয়। বিশ্বাসঘাতকতা মানবিক সম্পর্কের জন্য এক ভয়ংকর বিপর্যয়। একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো, প্রতিশ্রুতি ভেঙে সে কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করে না। মানুষের আস্থা নষ্ট করে না। যখন যে প্রতিশ্রুতি করে, তা রক্ষা করে। কেননা, পরকালে মানুষ প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করো, নিশ্চয় প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ৩৪)। বিশ্বাসঘাতকতা না করা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা নবীদের বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘এ কিতাবে উল্লেখিত ইসমাইলের কথা স্মরণ করো, সে ছিল প্রতিশ্রুতি রক্ষায় (দৃঢ়) সত্যবাদী, আর ছিল একজন রাসুল ও নবী।’ (সুরা মারিয়াম: ৫৪)
অপর দিকে প্রতিশ্রুতি ভাঙা, বিশ্বাসঘাতকতা করা মুনাফিকের চরিত্র। মুনাফিক বিশ্বাস ভেঙে গাদ্দারি করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুনাফিকের চিহ্ন হলো তিনটি—১. কথা বললে মিথ্যা বলে। ২. প্রতিশ্রুতি করলে তা রক্ষা করে না। এবং ৩. আমানত রাখা হলে তাতে খিয়ানত করে। (সহিহ্ বুখারি: ২৬৮২)
বিশ্বাসঘাতকতা মারাত্মক পাপ। দুনিয়া এবং পরকাল উভয় জায়গাতেই বিশ্বাসঘাতকের জন্য লাঞ্ছনা। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি করে (বিশেষ) পতাকা নির্দিষ্ট হবে। বলা হবে—এটা অমুক ব্যক্তির (বিশ্বাসঘাতকের) প্রতীক।’ (সহিহ্ বুখারি: ৬১৭৮)।
যদি কারও সঙ্গে কোনো চুক্তি থাকে, তাহলে তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। বিশ্বাসঘাতকতা করা যাবে না। এমনকি অমুসলিমের সঙ্গে করা চুক্তিও বিশ্বাসঘাতকতা করে ভাঙা যাবে না—যদি সেই অমুসলিম চুক্তিভঙ্গের কোনো কাজ না করে। আবু বাকরা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অকারণে কোনো চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা করবে, তার জন্য আল্লাহ তাআলা জান্নাত হারাম করে দেবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২৭৬০)

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৫ মিনিট আগে
মানবজীবনে জীবনসঙ্গীর প্রভাব অপরিসীম। একজন ভালো সঙ্গী মানুষকে আলোর পথে চালিত করে, আর মন্দ সঙ্গী জীবনকে বিপথগামী করে তোলে। সারা দিনের ক্লান্তি শেষে ঘরে ফিরে সঙ্গীর একটু সহমর্মিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ দেহ-মনকে প্রফুল্ল করে তোলে, মানুষকে নতুন উদ্যমে বাঁচার প্রেরণা জোগায়।
১৩ ঘণ্টা আগে
মহানবী মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাচনশৈলীর অধিকারী। তাঁর কথা বলার ধরন ও শব্দ চয়ন ছিল এতটাই মনোমুগ্ধকর, যা শ্রোতার হৃদয়ে সরাসরি রেখাপাত করত। তাঁর সুমিষ্ট বাণী মানুষকে সত্যের পথে আকর্ষিত করত।
২০ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১ দিন আগে