Ajker Patrika

ফরজ ও নফলের মধ্যে পার্থক্য কী

মুফতি হাসান আরিফ
ফরজ ও নফলের মধ্যে পার্থক্য কী
প্রতীকী ছবি

ইবাদত ও আমলকে গুরুত্বের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ভাগে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রধান ও বহুল চর্চিত পরিভাষা হলো ‘ফরজ’ ও ‘নফল’।

ফরজ, ওয়াজিব কিংবা সুন্নতের মতো পরিভাষাগুলো সরাসরি আল্লাহ তাআলা বা তাঁর রাসুল (সা.) নির্ধারণ করে দিয়ে যাননি। বরং কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস সম্পর্কে বিজ্ঞ ফকিহ ও মুজতাহিদ ইমামগণ গভীর গবেষণা করে মুসলিম উম্মাহর আমলের সুবিধার্থে এই পরিভাষাগুলো নির্ধারণ করেছেন।

ফরজ কাকে বলে?

ইসলামি শরিয়তের যেসব আদেশ অকাট্য দলিল (যেমন পবিত্র কোরআনের স্পষ্ট নির্দেশ বা সুসংহত হাদিস) দ্বারা প্রমাণিত এবং যার মধ্যে প্রমাণের দিক থেকে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই, তাকে ফরজ বলা হয়।

ফরজ কাজ পালন করা প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য আবশ্যিক ও বাধ্যতামূলক। শরিয়তসম্মত কোনো ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃত ফরজ ত্যাগকারী ব্যক্তি মারাত্মক গুনাহগার বা ‘ফাসিক’ হিসেবে গণ্য হয়। ফরজ বিধানকে সরাসরি অস্বীকারকারী ব্যক্তি ইসলাম থেকে খারিজ বা ‘কাফির’ বলে গণ্য হয়।

নফল ও মুস্তাহাব কাকে বলে?

‘মুস্তাহাব’ শব্দের অর্থ হলো পছন্দনীয় বা উত্তম। আর শরিয়তের দৃষ্টিতে ফরজ ও ওয়াজিবের বাইরে অতিরিক্ত সব ভালো কাজই নফল বা মুস্তাহাবের অন্তর্ভুক্ত। আলেমদের মতে, নফল, মুস্তাহাব, মানদুব ও সুন্নতে জায়েদা মূলত প্রায় কাছাকাছি অর্থবোধক বিষয়।

নফল এমন একটি আমল, যা পালন করলে অফুরন্ত সওয়াব পাওয়া যায়, কিন্তু না করলে বা ছেড়ে দিলে কোনো গুনাহ হয় না কিংবা এর জন্য কোনো তিরস্কারও নেই। নফল হলো মূলত স্বেচ্ছায় আল্লাহর নৈকট্য ও ভালোবাসা অর্জনের জন্য অতিরিক্ত ইবাদত করা।

সহজ কথায়, ফরজ হলো একজন মুমিনের ইমান ও ইসলাম টিকে থাকার মূল ভিত্তি বা ন্যূনতম বাধ্যবাধকতা, আর নফল হলো মহান আল্লাহর আরও নৈকট্য লাভ ও অতিরিক্ত সওয়াব অর্জনের সিঁড়ি। একজন সচেতন মুসলিমের প্রথম দায়িত্ব হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ফরজ বিধানগুলোকে যথাযথভাবে রক্ষা করা এবং এরপর নিজের আমলকে আরও সমৃদ্ধ করতে সাধ্যানুযায়ী নফল ইবাদতে মনোযোগী হওয়া।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত