প্রশ্ন: স্বপ্নে অপ্রত্যাশিতভাবেই কখনো কখনো অশ্লীল বিষয় চলে আসে। এসব অপ্রীতিকর কোনো কিছু স্বপ্নে দেখলে কি পাপ হবে? এ বিষয়ে ইসলামের বিধান জানতে চাই।
তাসলিম আহমেদ, নওগাঁ।
উত্তর: ঘুমন্ত অবস্থায় চিন্তা ও কল্পনার ওপর মানুষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে না। সে ইচ্ছা করলেও কোনো নির্দিষ্ট স্বপ্ন দেখতে পারে না, আবার অপছন্দের স্বপ্নও ঠেকাতে পারে না। এ কারণেই ইসলাম স্বপ্নকে মানুষের ইচ্ছাকৃত কর্মের অন্তর্ভুক্ত করেনি।
ইসলামের মৌলিক নীতি হলো, মানুষের ওপর সাধ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব চাপানো হয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না।’ (সুরা বাকারা: ২৮৬)। এ জন্য কোনো ব্যক্তি যদি ঘুমের মধ্যে অশ্লীল দৃশ্য দেখেন, তাহলে শুধু সেই স্বপ্ন দেখার কারণে তাকে পাপী বলা যাবে না।
মানুষের আমল তখনই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হয়, যখন সে সচেতনভাবে কোনো কাজ করে। ঘুমন্ত ব্যক্তি শরয়ি দায়িত্বের আওতায় থাকেন না। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির কাছ থেকে কলম (আমল লেখার দায়িত্ব) উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে—ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হওয়া পর্যন্ত, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু বালেগ হওয়া পর্যন্ত এবং মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি সুস্থ হওয়া পর্যন্ত।’ (আবু দাউদ: ৪৩৯৯) এ হাদিসের আলোকে বোঝা যায়, ঘুমের মধ্যে সংঘটিত কোনো বিষয়ের জন্য মানুষের বিরুদ্ধে গুনাহ লেখা হয় না। তাই স্বপ্নে অশ্লীল কিছু দেখা, এমনকি যৌনস্বপ্ন দেখাও কোনো অপরাধ নয়। তবে জেগে ওঠার পর যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সেই স্বপ্নের কল্পনায় ডুবে থাকে বা হারাম কাজে লিপ্ত হয়, তখন সেটি আলাদা বিষয়।
মানুষের দৈনন্দিন জীবন তার স্বপ্নের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সারা দিন অশ্লীল ছবি, ভিডিও, অনৈতিক সম্পর্ক বা কুরুচিপূর্ণ বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকলে সেগুলোর প্রতিফলন ঘুমের মধ্যেও দেখা দিতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘স্বপ্ন তিন প্রকার—আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদমূলক স্বপ্ন, শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতিকর স্বপ্ন এবং মানুষের নিজের চিন্তাভাবনার প্রতিফলন।’ (সহিহ বুখারি: ৭০১৭)
তাই স্বপ্নের জন্য মানুষ দোষী না হলেও, সেই স্বপ্নের পেছনে যদি জাগ্রত জীবনের গুনাহ ভূমিকা রাখে, তাহলে অবশ্যই তার জন্য তওবা করা জরুরি। তবে এটিও নিশ্চিত কোনো নিয়ম নয়। অনেক সময় কোনো গুনাহে জড়িত না থাকলেও মানুষ এ ধরনের স্বপ্ন দেখতে পারে।
ইসলাম শুধু সমস্যার কথা বলেনি, সমাধানের পথও দেখিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুমানোর আগে অজু করা, ডান কাতে শোয়া, আয়াতুল কুরসি, সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়া এবং আল্লাহর জিকির করার শিক্ষা দিয়েছেন। এসব আমল মানুষের অন্তরে প্রশান্তি আনে এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করে। যদি কেউ ভীতিকর বা অশ্লীল স্বপ্ন দেখে, তাহলে নববি নির্দেশনা হলো—শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা, বাঁ দিকে হালকাভাবে তিনবার ফুঁ দেওয়া এবং সেই স্বপ্ন মানুষের কাছে বর্ণনা না করা। এতে ওই স্বপ্ন কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (সহিহ বুখারি: ৭০৪৫)
ইসলাম মানুষের স্বপ্নকে নয়, তার সচেতন কর্মকে মূল্যায়ন করে। তাই অশ্লীল স্বপ্ন দেখে হতাশ বা অপরাধবোধে ভোগার কোনো কারণ নেই।
উত্তর দিয়েছেন: ফয়জুল্লাহ রিয়াদ, মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

যারা আগেভাগে মসজিদে আসে এবং খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনে—তাদের জন্য রয়েছে অতুলনীয় সওয়াবের প্রতিশ্রুতি। এমনকি কারও নামের পাশে লেখা হতে পারে উট সদকার সওয়াবও! হাদিস ও কোরআনের আলোকে আমরা জেনে নিতে পারি—এই দিনটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং তা কীভাবে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়।
২১ মিনিট আগে
তৎকালীন আরব সমাজ যখন ঘোর অমানিশায় আচ্ছন্ন ছিল, মজলুমের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠছিল আকাশ-বাতাস, আর মানবসভ্যতা বঞ্চনার হিমালয়ের নিচে ডুকরে কাঁদছিল—ঠিক তখনই ন্যায়বিচারের উজ্জ্বল ধ্রুবতারা হয়ে আগমন করেন আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
১ ঘণ্টা আগে
একটি সংসারের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন দুজন মানুষ—স্বামী ও স্ত্রী। একই ছাদের নিচে আলাদা চিন্তা ও অভ্যাসের দুজন মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহনশীলতার মাধ্যমে গড়ে তোলেন একটি নতুন জীবন। সুখী সংসার এক দিনে গড়ে ওঠে না; তা সময়ের পরতে পরতে নির্মিত হয়। সংসারের এই হাসি ইহকাল পেরিয়ে...
২ ঘণ্টা আগে
স্পেন এমন বহু মুসলিম মনীষীর উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছে, যাঁরা বিশ্বসভ্যতার মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। হরেক রকমের জ্ঞান-বিজ্ঞানের শাখায় এই মনীষীদের অনন্য অবদানের ফলেই আন্দালুস (মুসলিম স্পেন) তার ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় ও জাঁকজমকপূর্ণ সময় পার করেছে।
২ ঘণ্টা আগে