Ajker Patrika

রমজান: আত্মসংযম শেখায় যে মাস

ইসলাম ডেস্ক 
রমজান: আত্মসংযম শেখায় যে মাস
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাস মুমিন মুসলমানের জন্য আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ সময়।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া (সংযম ও আল্লাহভীতি) অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা: ১৮৩)

রমজানের তিন দশক: রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত

হাদিস অনুযায়ী, পবিত্র রমজান মাসকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে:

  • ১. প্রথম ১০ দিন: অসীম রহমতের ধারা।
  • ২. দ্বিতীয় ১০ দিন: গুনাহ থেকে ক্ষমা বা মাগফিরাতের সময়।
  • ৩. শেষ ১০ দিন: দোজখের আগুন থেকে মুক্তি বা নাজাতের সময়। এই মুক্তির জন্যই শেষ দশকে ইতিকাফের বিধান রাখা হয়েছে।

রোজার অতুলনীয় পুরস্কার ও ফজিলত

হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘মানুষের প্রতিটি নেক কাজের সওয়াব ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু রোজার বিষয়টি ভিন্ন। রোজার সওয়াব একইভাবে সীমাবদ্ধ নয়; রোজার প্রতিদান স্বয়ং আমি (আল্লাহ) প্রদান করব।’

তবে সতর্ক থাকতে হবে যে, শুধুমাত্র পানাহার ত্যাগ করলেই রোজা হয় না। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা ও অন্যায় কাজ ত্যাগ করল না, তার ক্ষুধার্ত থাকায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (সহিহ্ বুখারি)

রমজান হলো মুমিনের জীবন সাজানোর শ্রেষ্ঠ সুযোগ। রাসুল (সা.) সেই ব্যক্তিকে দুর্ভাগা বলেছেন, যে রমজান পাওয়ার পরও নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না। তাই আসুন, গতানুগতিক ধারায় রমজান না কাটিয়ে ইবাদত ও হালাল রিজিকের মাধ্যমে আমরা সফলতার চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছানোর চেষ্টা করি।

লেখক: শওকত এয়াকুব, গবেষক

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত