বরকত হলো মহান আল্লাহর এক সুমহান ঐশ্বরিক অনুগ্রহ; যার শাব্দিক অর্থ প্রাচুর্য, বৃদ্ধি, স্থায়িত্ব ও কল্যাণ। সহজ কথায়, কোনো বস্তুর বাহ্যিক পরিমাণের চেয়ে তার উপযোগিতা, সুফল ও মানসিক তৃপ্তি বহুগুণ বেড়ে যাওয়াকে বরকত বলে। বস্তুগত আধুনিকতায় ঘেরা বর্তমান সমাজে ঘরবাড়িতে এই বরকতের বড্ড অভাব। অথচ ইসলামি জীবনচর্চা ও সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে খুব সহজে আমাদের গৃহকোণকে বরকতময় নীড়ে পরিণত করা সম্ভব।
১. তাকওয়া ও ইমানি জীবন: খোদাভীতি ও ইমানের ওপর অবিচল থাকাই বরকতের মূল চাবিকাঠি। কোরআনে এসেছে, জনপদের মানুষ ইমান ও তাকওয়া অবলম্বন করলে আসমান-জমিনের বরকতের দ্বার খুলে দেওয়ার ওয়াদা করা হয়েছে।
২. সালাত ও কোরআন তিলাওয়াত: নিয়মিত সালাত ও ঘরে সুরা আল-বাকারা তিলাওয়াত করলে ফেরেশতাদের আগমন ঘটে, শয়তান দূর হয় এবং বরকত নেমে আসে।
৩. ভোরের সময়ের সঠিক ব্যবহার: সকালে অলসতা না করে ইবাদত ও কর্মজীবন শুরুর মধ্যে অশেষ কল্যাণ রয়েছে। নবীজি (সা.) তাঁর উম্মতের ভোরের কাজে বরকতের জন্য বিশেষ দোয়া করেছেন।
৪. হালাল উপার্জন ও সদকা: উপার্জনে সততা বরকতের ভিত্তি। হারাম সম্পদ অশান্তি আনে, অন্যদিকে হালাল পথের অল্প উপার্জনেও অশেষ বরকত মেলে। পাশাপাশি নিয়মিত দান-সদকা ও নিয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করলে নিয়ামত বহু গুণ বৃদ্ধি পায়।
৫. সালাম ও একত্রে আহার: ঘরে প্রবেশের সময় পরিবারের সদস্যদের সালাম দেওয়া সুন্নত, যা ঘরের বরকত বাড়ায়। এ ছাড়া ‘বিসমিল্লাহ’ বলে পরিবারের সবাই মিলে একত্রে বসে আহার করলেও খাবারে বরকত সৃষ্টি হয়।
৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক: আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে এবং তাদের বিপদে পাশে দাঁড়ালে জীবনে ও উপার্জনে বিশেষ বরকত আসে।
জাগতিক বাহ্যিক জাঁকজমক দিয়ে ঘরে প্রকৃত সুখ আনা যায় না। ইমানি পরিবেশ, হালাল রুজি এবং সুন্নাহভিত্তিক জীবনচর্চার মাধ্যমে একটি সাধারণ গৃহ হয়ে উঠতে পারে বরকতময় ও প্রশান্তিময় জান্নাতি নীড়।

আরবি ‘সবর’ শব্দের অর্থ হলো ধৈর্য, সহনশীলতা ও আত্মসংযম। রূপক অর্থে সবরকে বিষাক্ত কাঁটাযুক্ত বৃক্ষের ফলের সঙ্গে তুলনা করা হয়, যা আহরণ করতে গেলে হাত ক্ষতবিক্ষত হতে পারে। তবে এর চূড়ান্ত পরিণাম অত্যন্ত মিষ্টি। জীবনের নানা কণ্টকাকীর্ণ পথে সবরের মাধ্যমেই মানুষ আত্মিক স্বস্তি ও স্থিরতা খুঁজে...
৭ ঘণ্টা আগে
দৈনন্দিন জীবনের নানা ব্যস্ততা, হতাশা ও মানসিক চাপে অশান্তি আসা স্বাভাবিক। মন অস্থির থাকলে কোনো কাজেই মন বসে না, সবকিছুই যেন বিষাদময় মনে হয়। এমন মুহূর্তে হৃদয়ে প্রশান্তি ফিরিয়ে আনতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশিত সুন্নাহসম্মত জিকির ও দোয়ার চেয়ে উত্তম আর কিছু হতে পারে না।
৮ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৭ ঘণ্টা আগে
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা, অলসতা কিংবা ঘুমের ভুলের কারণে প্রায়শই একটি প্রশ্ন জেগে ওঠে—‘ফজরের নামাজের শেষ সময় মূলত কখন?’ কিংবা ‘সূর্যোদয়ের ঠিক কতক্ষণ পর কাজা নামাজ আদায় করা যায়?’ ফজরের নামাজের ওয়াক্ত, শেষ সময় এবং কাজা-সংক্রান্ত বিধান নিয়ে সঠিক তথ্য নিচে আলোচনা করা হলো:
১ দিন আগে