Ajker Patrika

সংসারে বরকত পেতে মেনে চলুন এই ৬ নিয়ম

সাকী মাহবুব
সংসারে বরকত পেতে মেনে চলুন এই ৬ নিয়ম
ছবি: সংগৃহীত

বরকত হলো মহান আল্লাহর এক সুমহান ঐশ্বরিক অনুগ্রহ; যার শাব্দিক অর্থ প্রাচুর্য, বৃদ্ধি, স্থায়িত্ব ও কল্যাণ। সহজ কথায়, কোনো বস্তুর বাহ্যিক পরিমাণের চেয়ে তার উপযোগিতা, সুফল ও মানসিক তৃপ্তি বহুগুণ বেড়ে যাওয়াকে বরকত বলে। বস্তুগত আধুনিকতায় ঘেরা বর্তমান সমাজে ঘরবাড়িতে এই বরকতের বড্ড অভাব। অথচ ইসলামি জীবনচর্চা ও সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে খুব সহজে আমাদের গৃহকোণকে বরকতময় নীড়ে পরিণত করা সম্ভব।

পরিবারে বরকত ও শান্তি বজায় রাখার প্রধান উপায়গুলো হলো:

১. তাকওয়া ও ইমানি জীবন: খোদাভীতি ও ইমানের ওপর অবিচল থাকাই বরকতের মূল চাবিকাঠি। কোরআনে এসেছে, জনপদের মানুষ ইমান ও তাকওয়া অবলম্বন করলে আসমান-জমিনের বরকতের দ্বার খুলে দেওয়ার ওয়াদা করা হয়েছে।

২. সালাত ও কোরআন তিলাওয়াত: নিয়মিত সালাত ও ঘরে সুরা আল-বাকারা তিলাওয়াত করলে ফেরেশতাদের আগমন ঘটে, শয়তান দূর হয় এবং বরকত নেমে আসে।

৩. ভোরের সময়ের সঠিক ব্যবহার: সকালে অলসতা না করে ইবাদত ও কর্মজীবন শুরুর মধ্যে অশেষ কল্যাণ রয়েছে। নবীজি (সা.) তাঁর উম্মতের ভোরের কাজে বরকতের জন্য বিশেষ দোয়া করেছেন।

৪. হালাল উপার্জন ও সদকা: উপার্জনে সততা বরকতের ভিত্তি। হারাম সম্পদ অশান্তি আনে, অন্যদিকে হালাল পথের অল্প উপার্জনেও অশেষ বরকত মেলে। পাশাপাশি নিয়মিত দান-সদকা ও নিয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করলে নিয়ামত বহু গুণ বৃদ্ধি পায়।

৫. সালাম ও একত্রে আহার: ঘরে প্রবেশের সময় পরিবারের সদস্যদের সালাম দেওয়া সুন্নত, যা ঘরের বরকত বাড়ায়। এ ছাড়া ‘বিসমিল্লাহ’ বলে পরিবারের সবাই মিলে একত্রে বসে আহার করলেও খাবারে বরকত সৃষ্টি হয়।

৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক: আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে এবং তাদের বিপদে পাশে দাঁড়ালে জীবনে ও উপার্জনে বিশেষ বরকত আসে।

জাগতিক বাহ্যিক জাঁকজমক দিয়ে ঘরে প্রকৃত সুখ আনা যায় না। ইমানি পরিবেশ, হালাল রুজি এবং সুন্নাহভিত্তিক জীবনচর্চার মাধ্যমে একটি সাধারণ গৃহ হয়ে উঠতে পারে বরকতময় ও প্রশান্তিময় জান্নাতি নীড়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত