আরবি ‘সবর’ শব্দের অর্থ হলো ধৈর্য, সহনশীলতা ও আত্মসংযম। রূপক অর্থে সবরকে বিষাক্ত কাঁটাযুক্ত বৃক্ষের ফলের সঙ্গে তুলনা করা হয়, যা আহরণ করতে গেলে হাত ক্ষতবিক্ষত হতে পারে। তবে এর চূড়ান্ত পরিণাম অত্যন্ত মিষ্টি। জীবনের নানা কণ্টকাকীর্ণ পথে সবরের মাধ্যমেই মানুষ আত্মিক স্বস্তি ও স্থিরতা খুঁজে পায় এবং আখিরাতে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে লাভ করে অসীম প্রতিদান।
বিপদ-আপদে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো সবর। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা: ১৫৩)
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করালে যাঁরা সবর অবলম্বন করেন, তাঁদের জন্য রয়েছে জান্নাতের অনন্য সুসংবাদ। সাহাবি হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘যখন আমি আমার বান্দাকে তার প্রিয়তম দুটি জিনিস (চোখ) দ্বারা পরীক্ষা করি এবং সে সবর করে, আমি তাকে এ দুটির বিনিময়ে জান্নাত প্রদান করব।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩২৯)
মুমিনের জীবনে প্রকৃতপক্ষে হারানোর কিছু নেই। সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যের মুহূর্তে শুকরিয়া আদায় এবং দুঃখ-কষ্টের মুহূর্তে সবর করার মাধ্যমে সে সর্বাবস্থায় লাভবান হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মুমিনের অবস্থা বড়ই আশ্চর্যজনক! তার সব কাজই তার জন্য কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া অন্য কারও জন্য এ ব্যবস্থা নেই। সে আনন্দের দেখা পেলে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে, যা তার জন্য কল্যাণকর। আর দুঃখ-কষ্টে আক্রান্ত হলে ধৈর্য ধারণ করে, তাও তার জন্য কল্যাণকর হয়।’ (সহিহ মুসলিম: ২৯৯৯)
ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধৈর্যের অনুশীলন আমাদের সাফল্যমণ্ডিত করতে পারে। হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণের চেষ্টা করবে, আল্লাহ তাকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা প্রদান করবেন।’ (মুসনাদে আহমাদ: ১১০৯১)। তাই যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখে কোরআন-সুন্নাহর আলোয় সবরের চর্চা করাই প্রতিটি মুসলিমের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

দৈনন্দিন জীবনের নানা ব্যস্ততা, হতাশা ও মানসিক চাপে অশান্তি আসা স্বাভাবিক। মন অস্থির থাকলে কোনো কাজেই মন বসে না, সবকিছুই যেন বিষাদময় মনে হয়। এমন মুহূর্তে হৃদয়ে প্রশান্তি ফিরিয়ে আনতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশিত সুন্নাহসম্মত জিকির ও দোয়ার চেয়ে উত্তম আর কিছু হতে পারে না।
২ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১১ ঘণ্টা আগে
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা, অলসতা কিংবা ঘুমের ভুলের কারণে প্রায়শই একটি প্রশ্ন জেগে ওঠে—‘ফজরের নামাজের শেষ সময় মূলত কখন?’ কিংবা ‘সূর্যোদয়ের ঠিক কতক্ষণ পর কাজা নামাজ আদায় করা যায়?’ ফজরের নামাজের ওয়াক্ত, শেষ সময় এবং কাজা-সংক্রান্ত বিধান নিয়ে সঠিক তথ্য নিচে আলোচনা করা হলো:
১৬ ঘণ্টা আগে
ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তি ও পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো নামাজ। কালিমার মাধ্যমে ইমান আনয়নের পর একজন মুসলমানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। সঠিক নিয়ম মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর আবশ্যক বা ফরজ।
২১ ঘণ্টা আগে