Ajker Patrika

কেন লাইভের মধ্যেই প্রাণ হারাচ্ছেন মেক্সিকোর ইনফ্লুয়েন্সাররা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
কেন লাইভের মধ্যেই প্রাণ হারাচ্ছেন মেক্সিকোর ইনফ্লুয়েন্সাররা
ছবি: দ্য টেলিগ্রাফ

মেক্সিকোয় মাদক কার্টেলগুলোর সহিংসতার নতুন শিকার হচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সাররা। অনুসারী ও জনপ্রিয়তার কারণে একদিকে যেমন এসব ইনফ্লুয়েন্সার অপরাধী চক্রগুলোর প্রচার ও প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হয়ে উঠছেন, অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী কার্টেল কিংবা নিজ গোষ্ঠীর বিরোধের জেরেই তাঁরা হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ভয় দেখানো ও বার্তা দেওয়ার অস্ত্র হিসেবেও হত্যার দৃশ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

গত ৪ আগস্ট ২৪ বছর বয়সী সিজার গাস্তেলুমকে হত্যার ঘটনা বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে। ৫ লাখের বেশি অনুসারী থাকা এই স্ট্রিমার দুই বন্ধুর সঙ্গে লাইভে কথা বলছিলেন। কমলা রঙের পোশাক ও পিঠে ডেলিভারি ব্যাগ ছিল তাঁর। হঠাৎ মোটরসাইকেলে থাকা দুই মুখোশধারী ব্যক্তি পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গুলি চালায়। মাথায় গুলি লাগার পর ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন গাস্তেলুম।

লাইভ করা অবস্থায় হঠাৎ করেই দুই মোটরসাইকেল আরোহী এসে সিজার গাস্তেলুমের (সর্ব ডানে) মাথায় গুলি করে চলে যায়। ছবি: সংগৃহীত
লাইভ করা অবস্থায় হঠাৎ করেই দুই মোটরসাইকেল আরোহী এসে সিজার গাস্তেলুমের (সর্ব ডানে) মাথায় গুলি করে চলে যায়। ছবি: সংগৃহীত

এটি মেক্সিকোয় ইনফ্লুয়েন্সার হত্যার বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে ২৩ বছর বয়সী সৌন্দর্যবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা ভ্যালেরিয়া মার্কেজও লাইভ সম্প্রচারের সময় তাঁর বিউটি সেলুনে গুলিতে নিহত হন। মৃত্যুর কয়েক মুহূর্ত আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, কেউ তাঁকে হত্যা করতে চায়। পরে ক্যামেরা চলতে থাকা অবস্থাতেই তাঁর শরীর থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়।

আরেকটি ঘটনায় হোটেলে ভিডিও ধারণের সময় কেভিন কালেট্রিকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া বাজারে লাইভ সম্প্রচারের সময় নিহত হন হোসে কার্লোস গনসালেস হেরেরা। ২০২৪ সাল থেকে শুধু মাদক কার্টেলের শক্ত ঘাঁটি সিনালোয়াতেই অন্তত ৯ জন ইনফ্লুয়েন্সার নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মেক্সিকোয় ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্রমশ ‘কার্টেলাইজেশন’ ঘটছে। কার্টেলগুলো জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতাদের ব্যবহার করছে নিজেদের জীবনযাপন, ক্ষমতা ও অর্থবিত্তের প্রচার এবং নতুন সদস্য আকৃষ্ট করার জন্য। বিনিময়ে ইনফ্লুয়েন্সাররা পাচ্ছেন অর্থ, বিলাসবহুল গাড়ি, পার্টি ও অভিজাত জীবনযাপনের সুযোগ।

তবে কার্টেলের সঙ্গে সম্পর্ক বিপজ্জনকও হয়ে উঠছে। কারও পোস্টে নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ পেলেই অন্য পক্ষের চোখে তিনি শত্রুতে পরিণত হতে পারেন। গাস্তেলুমের কিছু ভিডিওতে ‘এল মায়ো’ নামে পরিচিত মাদকসম্রাট ইসমায়েল ‘এল মায়ো’ সাম্বাদার প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত ছিল। তাঁর হত্যার সঙ্গে এসব পোস্টের যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনাও সামনে এসেছে।

টিকটকে লাইভ করা অবস্থায় গুলিতে নিহত হন ২৩ বছর বয়সী ভ্যালেরিয়া মার্কেজ। ছবি: সংগৃহীত
টিকটকে লাইভ করা অবস্থায় গুলিতে নিহত হন ২৩ বছর বয়সী ভ্যালেরিয়া মার্কেজ। ছবি: সংগৃহীত

ইনফ্লুয়েন্সারদের বিরুদ্ধে কার্টেলের অর্থ পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। সৌন্দর্যসেবা, পোশাকের ব্র্যান্ড, রেস্তোরাঁ, সংগীত প্রতিষ্ঠান বা ইভেন্ট ব্যবসাকে সামনে রেখে অবৈধ অর্থ বৈধ আয়ের মতো দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। ইউটিউব বিজ্ঞাপন, সংগীতের রয়্যালটি, স্পনসরশিপ কিংবা প্রচারণার আয়ও কখনো অবৈধ অর্থ আড়ালের মাধ্যম হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সিনালোয়ায় ‘এল মায়ো’ সাম্বাদার গ্রেপ্তার ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের পর কার্টেল সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। তাঁর অনুসারী ‘মায়িজা’ ও ‘চাপিতোস’ গোষ্ঠীর সংঘর্ষে পুরো অঞ্চলজুড়ে সহিংসতা বেড়েছে। ফলে কার সঙ্গে কার সম্পর্ক—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এমন একটি পোস্টও কখনো হয়ে উঠছে জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন।

মেক্সিকোর নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ গাস্তেলুম হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু দেশটিতে হত্যাকাণ্ডের তুলনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার অত্যন্ত কম। ফলে জনপ্রিয়তা, কার্টেল-সংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঝুঁকিপূর্ণ মিশ্রণ মেক্সিকোর ইনফ্লুয়েন্সারদের জন্য ক্রমেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত